আপনার সন্তান অটিজমে আক্রান্ত নয়তো? লক্ষণগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখুন

অটিজমে

আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তানেরা বেড়ে উঠুক দুধেভাতে, কোন সমস্যা ছাড়াই। কিন্তু কখনো কখনো কিছু সমস্যার কারণে সন্তানের বেড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়। জন্ম থেকেই কিছু শিশু বহন করে কিছু অসুখ। যেখানে আমাদের কোন হাত নেই। কিন্তু মেনে নিতে হয় সেই বাস্তবতা। অটিজমও এমনই একটা রোগ। অটিজম একটি নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়বিক সমস্যা, যার ফলে শিশুর মস্তিষ্ক সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৬-১৭ হাজারেরও বেশি অটিজমে আক্রান্ত শিশু রয়েছে এবং এই সংখ্যাটা দিন দিন বেড়ে চলছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা দেখতে সাধারণ শিশুদের মতো হলেও তিন বছরের মধ্যে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে তার সমস্যা ধরা পড়ে। যত দ্রুত এই লক্ষণগুলো সনাক্ত করে শিশুকে চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে তত দ্রুতই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণার মাধ্যমে কিছু সুক্ষ্ম লক্ষণ সনাক্ত করেছেন যা খেয়াল করলে বোঝা যাবে আপনার সন্তান অটিজমে আক্রান্ত কি না। সেই সব লক্ষণ নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের বিজ্ঞানবাক্স ব্লগ।

হাত মুষ্টিবদ্ধ করা ও ছেড়ে দেয়া
সারাধরণ নবজাতক শিশু হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখে। এটা নিয়ে বেশ চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই। কিন্তু শিশুর বয়স ২৪ মাসের বেশি হলে সে যদি প্রায় প্রতিদিনই ঘন ঘন হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ও সাথে সাথে ছেড়ে দেয় তাহলে বুঝতে হবে শিশু অটিজমে আক্রান্ত।

পায়ের নখের উপর দিয়ে করে হাঁটা
সাধারণত শিশু ১২ মাস বা তার একটু বেশি বয়সে হাঁটতে শুরু করে। তখন হাঁটা একটু নড়বড়ে থাকে। ধীরে ধীরে শিশুর হাঁটা স্বাভাবিক হয় এবং সে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণভাবে হাঁটা শেখে । কিন্তু ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে শিশু যদি সবসময় দুই পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে হাঁটে তবে বুঝতে হবে এটা অটিজমের লক্ষণ।

ঘন ঘন মাথা ঝাঁকানো ও আঘাত করা
ঘন ঘন মাথা ঝাঁকানো ও মাথা দিয়ে কোথাও আঘাত করা অটিজমের অন্যতম লক্ষণ। শিশুকে বেবি চেয়ারে বসালে ধারাবাহিকভাবে জোরে জোরে চেয়ারের পেছনের অংশের সাথে মাথাকে আঘাত করা। বাসার দেয়াল, দরজা ও বিভিন্ন বস্তুর সাথে মাথাকে আঘাত করা; ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে বুঝে নিতে হবে শিশু অটিজমে আক্রান্ত।

অতিরিক্ত রেগে যাওয়া ও কাউকে আঘাত করা
তার সম বয়সীদের সাথে খেলার সময় খুবই ছোট কোন বিষয়ে রেগে যাওয়া ও কাউকে জোরালো ভাবে আঘাত করাও অটিজমের অন্যতম লক্ষণ। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদেরকে অতিরিক্ত রেগে গিয়ে কাউকে কামড়ে দিতেও দেখা যায়।

ডাকে সাড়া না দেয়া
অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাকে সাড়া দেয় না। এমন কী তার নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। যত বারই তাকে ডাকা হয়, সে ততবারই সাড়া না দিয়ে একমনে অন্য কাজ করতে থাকে। কখনো কখনো ডাকার অনেকক্ষণ পরে সাড়া দিতে দেখা যায়।

পুনরাবৃত্তি করার অতিরিক্ত প্রবণতা
অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা একই কাজ বার বার করতে ও একই শব্দ বারবার বলতে থাকে। তাকে কোন একটা কাজ করতে দিলে কিংবা তার ভালো লাগার কোন কাজ সে বারবার করবে। সেটা মাথা ঝাঁকানো হতে পারে, হাত পা ছোড়া হতে পারে। আবার কোন একটা কথাও বার বার বলার একটা প্রবণতা তার মাঝে দেখা যায়। যেমন- বাবা কে ডাকলে সে একই সাথে অনেকবার ঘন ঘন বাবা বাবা করতে থাকে।

সন্তানের মাঝে তিন বছরের আগে এমন কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, অটিজমে আক্রান্ত শিশু মানে বোকা বা অমেধাবী নয়। বরং একটা নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি থাকে। অটিজমে আক্রান্ত অনেক মানুষ দিব্যি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও আছেন যাঁরা অটিজমে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত সংগীত শিল্পী লেডি হাক ও ডারেন হান্না, কার্টুন ছবির আবিষ্কারক সাতসি তাহেরি। সুতরাং শিশুর অটিজমে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে তার সঠিক যত্ন নিন।

শিশুকে সময় দিন। তার জন্য পড়ালেখাকে বাস্তবসম্মত করে তুলুন। সেজন্য তাকে বিজ্ঞানবাক্স কিনে দিন।

তথ্যসূত্র-Pimplepoppinglovers

89 total views, 3 views today

What People Are Saying

Facebook Comment