Show Categories

আপনার সন্তান নিদ্রাহীনতা’য় ভুগছে? জেনে নিন নিদ্রাহীনতার কারণ ও প্রতিকার। (শেষ পর্ব)

নিদ্রাহীনতা- Bigganbaksho

গতপর্বে আমরা জেনেছিলাম, শিশুর নিদ্রাহীনতা কেন হয়? শিশুর নিদ্রাহীনতার ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে! আজকে আমরা শিশুর নিদ্রাহীনতা দূর করার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিবো।

নিদ্রাহীনতা প্রতিকারের কিছু উপায়
প্রাপ্ত বয়স্কদের নিদ্রাহীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিদ্রাহীনতার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগের ধরণ ও রোগীর ধরণ পর্যালোচনা করে থেরাপি দিয়ে থাকেন। কিন্তু শিশু-কিশোরদের নিদ্রাহীনতা মারাত্মক আকার ধারণ না করলে জীবন ধারণে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই নিদ্রাহীনতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে হবে
রাতে ঘুমানোর সময়ের ঠিক দু-ঘন্টা আগে থেকে সকল ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যেমন, কম্পিউটার, টিভি, মোবাইল ইত্যাদি দেখা বন্ধ করে দিন। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে চোখে কিছু ভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যা মানুষের ঘুমে সমস্যা করে। খেয়াল করলেই দেখবেন, মোবাইল দেখতে দেখতে শুয়ে পড়লে ঘুম আসতে একটু দেরি হয়। এবং কিছুক্ষণ পর ভেঙ্গে যায়।

ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে
ঠিকঠাক ঘুমের জন্য ক্যাফেইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ যেকোন ডাক্তার দিবেনই। চা ও কফির মতো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার বাদ দিয়ে দিতে হবে। কিছু চকলেটে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়, শিশু নিদ্রাহীনতায় ভুগলে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ চকলেট খাওয়াও বন্ধ করে দিতে হবে। চা বা কফি বাদ দিতে যদি বেশি কষ্ট হয় তাহলে ঘুমানোর অন্তত ৫ ঘন্টা আগে খেয়ে নেয়া উচিত।

ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিতে হবে
‘মানুষ অভ্যাসের দাস’ কথাটা নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন! সন্তানকে ঘুমানোর একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। যত কাজই থাকুক সে যেনো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যায়। ছুটির দিন কিংবা কোথাও বেড়াতে গেলেও ঘুমের ক্ষেত্রে ওই একই সময়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। খুব কাজ থাকলে বড়জোর ১৫-২০ মিনিট এদিক সেদিক করা যেতে পারে। এর ফলে সে বিছানার কাছে যাওয়া লাগবে না, বরং বিছানাই তাকে টেনে নিয়ে যাবে।

সন্তানের উপর চাপ কমিয়ে দেয়া উচিত
সব মানুষেরই অনিদ্রার একটা প্রধান কারণ স্ট্রেস বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ। সন্তানের অনিদ্রার সমস্যা থাকলে খেয়াল করুনতো তার উপর বেশি চাপ পড়ে যাচ্ছে কিনা! স্কুলের পড়ার চাপ, হাউজ টিউটরের পড়া্র চাপ, স্কুলের বন্ধুদের সাথে সমস্যা; এমন কোন কিছু আপনার চোখে পড়ে কী না? পড়লে সন্তানের উপর চাপ কমিয়ে দিতে হবে। তার যেটা করতে ভালো লাগে সেটা করতে দেয়া উচিত। দেখবেন অনিদ্রা কাটিয়ে আপনার সন্তান বাকি সব ঠিক করে নেবে।

ঘুমানোর অভ্যাসে পরিবর্তন আনা দরকার
গবেষণা বলছে যারা ডান কাত হয়ে ঘুমায় তারা তুলনামূলক কম দুঃস্বপ্ন দেখে, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসও বাধাগ্রস্থ হয় না। সন্তানকে ডান কাত হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে বলুন। অন্যভাবে ঘুমালেও ঘুমানোর সময় শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ না রেখে হাত-পা সম্পূর্নভাবে ছেড়ে দিতে বলুন। এতে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয় ও সহজে ঘুম চলে আসে।

রুমে আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে
বলা হয়ে থাকে, সতেজ আলো বাতাস মানুষের মন ও শরীর দুটোকেই শান্ত রাখে। রুমে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখলে রুমটা প্রাকৃতিকভাবেই সতেজ থাকবে। আর সতেজ পরিবেশ পেলে কার না একটু ঘুমিয়ে নিতে ইচ্ছে করে? সেজন্য রুমে ভ্যান্টিলেশন ও জানালার ব্যবস্থা রাখা উচিত, যেনো রুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস চলাচল করতে পারে।

ঘুমানোর আগে গোসল করানো যেতে পারে
সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদের পর একটা গোসল দিলেই আপনার সব ক্লান্তি, অবসাদ দূর হয়ে যায়, এরপর ইচ্ছে করে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দিতে। শিশুর ঘুম না আসলে এই তরল অস্ত্রটা কাজে লাগাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে একটা গোসল দিতে বলুন। দেখবেন রাজ্যের ঘুম লাইন ধরে বাসায় এসে ভিড় বাধিয়ে দিবে।

বিকেলের ঘুমটা বাদ দিয়ে দিতে পারেন
সন্তানের রাতে ঘুম না আসলে বিকেলের ঘুমটা বাদ দিয়ে দিতে পারেন। এতে ঘুমের চাহিদা তৈরী হবে, সে চাহিদাটা রাতে দরকার পড়বে। বিকেলে ঘুমের সময়টায় কাজ না থাকলে যে কাজ গুলো ঘুমের আগে করতে নিষেধ করা হয়েছে সেগুলো করে নিক। টিভি দেখুক, কম্পিউটার ব্যবহার করুক। বিকেলের ঘুমটা বাদ দিলে এই ঘুমটা রাতে এসে বিছানায় গড়াগড়ি খাবে।

চলুন জেনে নিই কিছু খাবারের তালিকা যা মানুষকে ঘুমাতে সাহায্য করে
অনেক কিছুই তো খেতে নিষেধ করা হলো, চলুন এবার জেনে নিই এমন কিছু খাবারের তালিকা যা সন্তানের নিদ্রাহীনতা দূর করতে খাওয়ানো যেতে পারে-
• ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খেলে নিদ্রাহীনতা দূর হয়। যেমন, জাম, কলা, আপেল, পালং শাক, লেটুস পাতা, কাজু বাদাম, শালগম, বরবটি ইত্যাদি।
• ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ ঘুমের জন্য উপকারী।
• ভিটামিন বি জাতীয় খাবার যেমন, মাছ, পেঁপে, সবুজ শাক সবজি, দুগ্ধজাতীয় খাবার।
• যেকোন প্রকারের তাজা ফল
• দিনে অন্তত ৭-৮ লিটার পানি।

নিদ্রাহীনতা একজন মানুষকে কতটা হতাশ করে দেয় সেটা বোঝার জন্য গবেষকরা কিছু নিদ্রাহীনতা রোগীর সাক্ষাৎকার নেন। তাদের মধ্যে একজন জারা হোম বলেন “যেকোন কিছু আমি গিলে ফেলবো যদি সেটা আমাকে রাতের ঘুম এনে দেয়। আমি মাঝে মাঝে গুগলে খুঁজি, কোথায় ক্লোরোফর্ম পাওয়া যায়”। নিদ্রাহীনতার মতো রোগ থেকে আমাদের সন্তানেরা মুক্ত থাকুক।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 713 total views,  1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment