আপনি কি আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি প্রোফাইল জানেন?

পার্সোনালিটি প্রোফাইল

আনিস সাহেবের দুই সন্তান। মৃদুলা এবং সান্তনু। মৃদুলা একটু ছটফটে, বন্ধুদের সাথে হৈ হুল্লোড় করতে পছন্দ করে, যে কারো সাথে সহজেই বন্ধুত্ব করতে পারে। এদিকে সান্তনু শান্তশিষ্ট এবং মনোযোগী। সবার সাথে বন্ধুত্ব করতে পছন্দ করে না, ওর একজন বা দুজন প্রিয় বন্ধু আছে, তাদের সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটায়। দুই জনের এই আলাদা ধরণটাই তাদের পার্সোনালিটি প্রোফাইল ।

মৃদুলা কোন জিনিস তেমন খুঁটিয়ে দেখতে পছন্দ করে না, ও অনুমানকেই প্রাধান্য দেয়। আবার সান্তনুর চোখে খুঁটিনাটি সব কিছুই ধরা পড়ে। মৃদুলা ওর বন্ধুর সাথে ঝগড়া করলে খুব মন খারাপ করে, কাঁদে। আর সান্তনু ভাবে, কেন এমন হলো, এর সমাধানে কী করা যেতে পারে।

এক কথায় বলতে গেলে, ওদের ব্যক্তিত্বের ধরণ, বা পার্সোনালিটি প্রোফাইল ভিন্ন। সাদাচোখে আমরা সবাই এই পার্থক্যগুলি ধরতে পারি। তবে দুজন আমেরিকান শিক্ষাবিদ এই ব্যাপারটি নিয়ে আরেকটু গভীরে ভাবলেন। তারা হলেন- ক্যাথেরিন কুকস ব্রিগস, এবং তার কন্যা ইসাবেলা ব্রিগস মায়ারস। তারা গবেষণা করে যেতে লাগলেন মানুষের আচরণ, তাদের মানসিক শক্তির উৎস, পর্যবেক্ষণ, চিন্তা এবং আবেগের ধরণ ইত্যাদি নিয়ে। আমেরিকান মনোস্তত্ববিদ কার্ল জাং এর তত্ব অনুসারেই তারা মূলত কাজ করতে থাকেন। কার্ল জাং বলেছিলেন, মানুষ মূলত চারটি অনুভূতি দ্বারা তাড়িত হয়। এগুলি হলো- অনুভূতি, চিন্তা, অনুভব, এবং পর্যবেক্ষণ। একদিন ক্যাথেরিন কুকস ব্রিগস তার কন্যার হবু স্বামীর ব্যক্তিত্বের ধরণের সাথে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিত্বের ধরণের ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করে ব্যক্তিত্ব অনুসারে মানুষকে ভাগ করার জন্যে একটি প্রশ্নমালা তৈরি করার কাজ শুরু করেন তার কন্যার সাথে। যেটি পরবর্তীতে ব্রিগস-মায়ার পার্সোনালিটি টেস্ট হিসেবে পরিচিত হয়।

তাদের প্রশ্নগুলির উত্তরের ভিত্তিতে মোট ১৬টি পার্সোনালিটি প্রোফাইল পাওয়া যায়। এগুলি হলো-
ESFP, ISFP, ESTP, ISTP, ESFJ, ISFJ, ESFP, ISFP, ENTP, INTP, ENFJ, INFJ, ENFP, INFP, ESTJ এবং ISTJ

এই অক্ষরগুলি দেখলে খুব দুর্বোধ্য মনে হতে পারে, তবে একটু ব্যাখ্যা করলেই বেশ সহজ মনে হবে।
এখানে মানুষের ব্যক্তিত্বের ধরণ নিরুপণ করতে মোট চারটি বৈশিষ্ট্যের প্রতি নজর দেয়া হয়েছে।
সে কি অন্তর্মূখী (I) নাকি বহির্মুখী (E) ?
সে পর্যবেক্ষণ (S) না অনুমান (N) গুরুত্ব দেয়?
সে কি চিন্তা (T), নাকি অনুভূতি (F) দ্বারা বেশি তাড়িত?
সে কি উপলদ্ধ্বি (P) নাকি সিদ্ধান্ত (J) এর মাধ্যমে কাজ করে?

মৃদুলা এবং সান্তনুর উদাহরণে ফিরে যাওয়া যাক!

মৃদুলা স্পষ্টতই বহির্মূখী (E) আর সান্তনু অন্তর্মূখী (I)
সান্তনু পর্যবেক্ষণ (S) আর মৃদুলা অনুমান (P) কে গুরুত্ব দেয়।
সান্তনু চিন্তা (T) দ্বারা সিদ্ধান্তে আসে, আর মৃদুলা (F) অনুভূতি দ্বারা পরিচালিত।
সান্তনু তার কাজকর্মে খুব নিয়মতান্ত্রিক, এবং সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে (J), আর মৃদুলা অনেক বিকল্প রেখে দেয় (P)
সুতরাং মৃদুলার পার্সোনালিটি প্রোফাইল হলো ENFP আর সান্তনুর ISTJ.

কেন আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি প্রোফাইল জানা জরুরী
একেকটি বাচ্চার বেড়ে ওঠার ধরণ, এবং শক্তি সঞ্চয়ের উৎস আলাদা। সে জন্মগতভাবে যেমন থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তাকে সেভাবে গড়ে তুললেই তার প্রতিভা সঠিকভাবে বিকশিত হয়। যেমন ধরুন, মৃদুলা মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করে। তাকে বসে বসে ছবি আঁকা প্র্যাকটিস করতে বলাটা যথার্থ হবে না। এদিকে সান্তনু একা থাকতে এবং চিন্তা করতে পছন্দ করে। তাকে বরং পাজল গেম দিয়ে বসিয়ে দিলে হয়তো তার বেশি ভালো লাগবে।

প্রতিটি পার্সোনালিটি টাইপের বাচ্চার জন্যে আলাদা আলাদা নিয়ম করলে তারা সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে।
আমরা চাই, আপনি আপনার সন্তানের শক্তিমত্তা এবং দুর্বলতা সম্পর্কে জানুন, এবং তাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলুন।

ব্রিগস মায়ার পার্সোনালিটি প্রোফাইল টেস্ট

ব্রিগস মায়ারের পার্সোনালিটি টেস্ট করার জন্য নিচের চারটা আলাদা তালিকা আছে। প্রতিটা তালিকার দুইটা অপশনের জন্য সন্তানের আচরণ কেমন হবে তা আলাদা করে দেয়া আছে। সেখান থেকে সন্তানের আচরণের সাথে মেলালে আপনি মোট চারটা অপশন পাবেন। চারটা অপশনকে একসাথ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি টাইপ। যেমন-ESTJ, ISFJ। তাহলে চলুন, পার্সোনালিটি টেস্ট হয়ে যাক!

Gain Energy (I/E) বা শক্তি সঞ্চয়

পৃথিবীতে সবাই একই ভাবে শক্তি সঞ্চয় করা বা উদ্যম পায় না। কারো কারো উদ্যম নিজের ভেতর থেকেই আসে। একা একা ভেবে কাজ করতে পারে। আর কেউ কেউ তার চারপাশ থেকে উদ্যম নেয়। বন্ধুদের সাথে ও চারপাশের পরিবেশের সাথে মেশার মাধ্যমে এরা উদ্যম পায়। সেজন্যই শক্তি সঞ্চয় বা উদ্যম পাওয়ার ধরণের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে সব মানুষকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। ১। Extrovert (E) ও ২। Introvert (I)। নিচের তালিকা থেকে আপনার সন্তানের শক্তি সঞ্চয়ের পার্সোনালিটি টেস্ট করে নিন।

Extrovert (E)Introvert (I)
প্রচুর কথা বলে। কোন বিষয়ে কথা হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না তার কাছে। সে তার কথাটা জানাতে চায়। এমনকী বড়দের আলোচনার মাঝেও কথা বলে।কিছুটা চুপচাপ। কোন কিছু বলার আগে ভেবে কথা বলে। তার পছন্দের বিষয় ছাড়া অন্যকোন বিষয়ে কথা বলতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।
নতুন কোন পরিবেশে ও নতুন কোন মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারে। বাসায় সম্পূর্ণ নতুন কোন গেস্ট আসলেও সে তার সাথে কথা বলবে, মজা করবে। অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির। নতুন কোন জায়গায় গেলেও খুব দ্রুত সে বন্ধু জুটিয়ে ফেলতে পারবে।কোথাও ইনবলভ হওয়ার আগে ভাবে। বাসায় নতুন কোন গেস্ট আসলে সে এক্সট্রোভার্টের মতো এত বেশি মিশবে না। সাধারণ আলাপের পর দেখা যাবে তার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছে। নতুন কোন জায়গায় গেলে বন্ধু পাতাবে একটু সময় নিয়ে এবং সংখ্যাটাও হবে সীমিত।
নিয়মের মধ্যে থাকতে খুব একটা পছন্দ করে না। বৈচিত্র্য পছন্দ করে। দেখা যাবে, স্কুল থেকে আসার পরে ব্যাগ রেখেই অন্যকিছু করার জন্য অস্থির হয়ে আছে। তাড়াহুড়ো থাকবে। কিংবা খাওয়ার মাঝে অন্যকিছু করতে দেখা যাবে। টিভি দেখলে বসলে একটু দ্রুত চ্যানেল চেঞ্জ করতে দেখা যাবে।মনোযোগ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় থাকবে। যে কাজ করবে মনোযোগকে সেই কাজে আটকিয়ে রাখবে। খাওয়ার সময় মনোযোগের সাথে খাবে। বিশেষ করে টিভি দেখার সময় খেয়াল করলে দেখা যাবে সে একই চ্যানেল বা অনুষ্ঠান অনেকক্ষণ ধরে দেখছে।
যে কোন কিছুর ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ থাকে। এবং সেখানে নিজের অবস্থান জানান দিতে চায়। কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই টাইপ বাচ্চাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অনেক বেশি এনগেইজড দেখা যাবে।কেবল নিজের পছন্দের কোন কিছুর প্রতি উৎসাহ বেশি থাকে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে থাকলেও নিজের মাঝে থাকবে। খুব একটা হইহুল্লোড় বা এনগেইজড থাকবে না।
কোন কাজ করার এনার্জি পাবে বাইরে থেকে। আরো সহজ করে বললে দলগত কাজ করতে পছন্দ করবে। কোন কাজ দিলে সে অন্যদের সাথে আলোচনা করবে ও এই কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে চাইবে।এনার্জিটা নিজের ভেতর থেকে পায়। দলগত কাজ যে করে না ঠিক তা না, তবে আগে নিজে থেকে ভাবার চেষ্টা করে। কোন কাজে নিজের ভাবনাকে বেশি প্রাধান্য দিবে।

পেয়ে গেলেন আপনার সন্তানের Gain Energy টাইপ। আপনার সন্তানের Gain Energy টাইপ I নাকি E তা লিখে রাখুন কোথাও।

Gather Information (N/S) বা চারপাশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা

আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য তথ্য উপাত্তের দরকার পড়ে। কিন্তু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের ধরণ সবার এক না। একজন একেক রকমভাবে তথ্য সংগ্রহ করে। তথ্য সংগ্রহের ধরণের উপর নির্ভর করেও মানুষকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। ১। Intuitive (N) ও ২। Sensing (S).

Sensors (S)Intuitive (N)
এরা বাস্তববাদী ও প্রাক্টিক্যাল হয়।এরা কল্পনাপ্রবণ ও ক্রিয়েটিভ হয়।
কোন কিছু যখন বলে বিস্তারিত ভাবে বলে। কোন তথ্য যখন এরা দিবে সেখানে ছোট খাটো সব কিছুই থাকবে। যেমন-এদেরকে কোন গল্প পড়ে বলতে বললে প্রায় অনেকটা পড়াটার মতো করে বিস্তারিত বলবে।এরা নিজের মতো করে বলতে পছন্দ করে। কোন তথ্য নিয়ে সেটাকে নিজের মতো সাজিয়ে নিয়ে তারপর বলবে। গল্প বলতে বললে এরা গল্পটাকে নিজের মতো করে বলবে। অনেকক্ষেত্রে গল্পটাকে সামারাইজড করে বলতে দেখা যাবে। কখনো কখনো গল্পটাকে এমনভাবে বলবে যা নতুন একটা গল্প বলে মনে হবে।
সেন্সর অরিয়েন্টেডরা সাধারণত প্রচলিত খেলনা দিয়ে খেলতে পছন্দ করে। বাজারে যে সব খেলনা পাওয়া যায় সেগুলোর প্রতিই এদের আগ্রহ থাকে। কিংবা তার বন্ধুর কোন খেলনা তার পছন্দ হলে তা নিতে চাইবে। একই খেলনা দিয়ে একই ধরণের খেলা অনেক বার খেললেও ওরা বিরক্ত হবে না। একই কার্টুন বারবার দেখা, একই সিনেমা কয়েকবার দেখা, একই গল্প কয়েকবার করা। এমন অনেক বৈশিষ্ট্য ওদের মাঝে দেখা যায়।এই ধরণের বাচ্চারা প্রচলিত খেলনা নিয়ে খুব একটা খেলবে না। নিজের মতো করে নতুন খেলনা বানাবে। যে কোন কিছুকে ওরা খেলনার উপকরণ বানিয়ে ফেলতে পারবে। অনেক শিশুকে দেখা যায় কোন খেলনা এনে দিলে কয়েকদিন পর তা খুলে ফেলে নতুন কিছু বানায়। কালি শেষ হয়ে যাওয়া কলম দিয়েও খেলনা বানিয়ে ফেলে অনেকে। এ ধরণের শিশুরাই মূলত N টাইপ। এরা সাধারণত সবসময় নতুন কিছুর প্রতি আকৃষ্ট থাকে।
কোন কিছু বিস্তারিত শুনবে চাইবে। যেমন এদেরকে যদি বলেন রুম থেকে কোন বস্তু নিয়ে আসো। এরা জানতে চাইবে, সেটা রুমে কোথায় আছে? কত নাম্বার ড্রয়ারে আছে? এমন বিস্তারিত জানতে চাইবে।এই টাইপ বাচ্চারা নিজের অনুমানের উপর নির্ভর করে। এদেরকে যদি রুম থেকে কোন বস্তু নিয়ে আসতে বলা হয়, তারা রুমের কোথায় বস্তুটি আছে তা জানতে চাইবে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। কোথায় থাকতে পারে অনুমান করে নিয়ে আসবে কিংবা রুমে গিয়ে খুঁজে নিয়ে আসবে।
এই টাইপ বাচ্চারা সাধারণত প্রচলিত নিয়মে কোন সমস্যার সমাধান করতে পছন্দ করে। কোন কাজের ক্ষেত্রে উদাহরণ দিতে ও উদাহরণ পেতে চাইবে। প্রচলিত কোন মডেল অনুযায়ী কাজ করবে। নিজের বা নিজের কাছের কারো অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে। কোন ম্যাথ সমাধান করতে দিলে এরা আগে আগের উদাহরণ বা কিছু নিয়ম দেখে নিবে। এরপর একই উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করবে।এ ধরণের বাচ্চারা নতুন কোন পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। নিজের অনুমান থেকে সমাধান খুঁজে বের করে। কোন ম্যাথ সমাধান করতে দিলে ওরা প্রথমে করে ফেলার চেষ্টা করবে। এরপর উদাহরণ দেখবে।

আপনার সন্তানের Gather Information টাইপও পেয়ে গেলেন। সেটা N নাকি S তা লিখে রাখুন।

Make Decisions(T/F) বা সিদ্ধান্ত নেয়ার ধরণ

তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার পর আসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও দুই ধরণের মানুষ আছে। কেউ চিন্তাকে কে প্রাধান্য দেয় আবার কেউ  অনুভূতিকে। এই ভাগে সবাইকেই দু-ভাগে ভাগ করা যায়-১। Thinking (T) ও ২। Feeling (F).

Thinking (T)Feeling (F)
এই ধরণের বাচ্চার কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তি, নিরপেক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।এই টাইপ বাচ্চারা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তি ও নিরপেক্ষতাকে তেমন প্রাধান্য দেয় না। নিজের অনুভূতিকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
এই ধরণের বাচ্চারা বিশ্লেষণধর্মী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তার পাওয়া তথ্য, উপাত্তকে যথাযত বিশ্লেষণ করে একটা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের দিকে যায়। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত তার বিপরীতে গেলেও সে অনড় থাকে।এই টাইপেরা সাধারণত তেমন বিশ্লেষণধর্মী হয় না। বিশ্লেষণেরর চেয়ে নিজের আবেগ ও অনুভুতিকে প্রাধান্য দেয় বেশি। চেষ্টা করে সিদ্ধান্ত নিজের পক্ষে আনার জন্য।
কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে যদি কেউ কষ্ট পায়, কিংবা নিজে কষ্ট পায় তবুও ওরা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তটাই নেয়ার পক্ষে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করে। ওদেরকে কিছুটা নিষ্ঠুর মনে হতে পারে। মনে হতে পারে এরা কাউকে গুরুত্ব দেয় না।সিদ্ধান্তকে কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট মনে হতে পারে। কোন সিদ্ধান্ত নেয়া বা দেয়ার ক্ষেত্রে নিজেকেসহ সবাইকে সন্তুষ্ট করতে চাইবে। কিছুটা আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ওরা সম্পর্ক দ্বারাও সুক্ষ্ণভাবে কিছুটা তাড়িত হয়। আরো ক্লিয়ার করে বললে সুক্ষ্ণ একটা স্বজনপ্রীতি ও আত্মপ্রীতি থাকে এদের মাঝে।
নিজেকে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করে। স্পষ্টভাবে নিজের মতামত জানায়। একই সাথে অন্যদের মতামতকেও গ্রহণ করে। তার নিজের মতামতের চেয়ে অন্যের মতামত যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত হলে তা মেনে নেয় নির্দ্বিধায়।নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী হয়। পরিস্থিতি বুঝে প্রকাশ করে। নিজের সিদ্ধান্তকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
দুই জন বাচ্চা ঝগড়া বা মারামারি সংক্রান্ত কোন কিছুর ব্যাপারে এদের জিজ্ঞেস করা হলে এরা নিরপেক্ষ মন্তব্য দিবে। এবং সেটা যদি তার কাছে কারোর বিপক্ষেও যায় তবুও সে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তটাই জানাবে।একই ঘটনা এদের সাথে ঘটলে এদেরকে কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট মনে হবে। এদের দেয়া সিদ্ধান্তকে নিরপেক্ষ মনে হবে না। অনেকক্ষেত্রে সুক্ষ্ণভাবে কাছের জনের পক্ষ নিবে। কিংবা কাছের জনকে সঠিক প্রমাণিত করার জন্য সুক্ষ্ণ যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করবে।
এই টাইপ শিশুরা সাধারণত কোন দলগত কাজে সামগ্রিক সাফল্যের কথা বলে। সামগ্রিক সাফল্যকে উদযাপন করে। নিজের দায়িত্বটাকে সামগ্রিকের অংশেই ফেলে।দলগত কাজের প্রশংসায় এরা নিজের কথা আলাদাভাবে বলে। নিজের কন্ট্রিবিউশনের কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

Make Decisions টাইপ T নাকি F  তা পেয়ে গেলেও লিখে রাখুন।

Live your Life (J/P) বা জীবনযাপন করার ধরণ

আমাদের জীবনযাপন বা জীবনবোধেরও সবার আলাদা আলাদা প্রাকৃতিক বা নিজস্ব ধরণ আছে। যা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। জীবনযাপন বা বোধের দিক থেকেও সবাইকে দুভাগে ভাগ করা যায়-১। Judging (J)  ও ২। Perceiving (P)

Judging (J)Perceiving (P)
একটু তাড়াতাড়ি ও সহজে একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়, একই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে। একই কাজের অন্যান্য সম্ভাব্যতার কথা ভাবে না তেমন।একই সাথে অনেকগুলো সম্ভাব্য অপশন খোলা রাখে। যাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প অপশন খুঁজে পাওয়া যায়। নতুন তথ্য পেলে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।
এই টাইপ বাচ্চারা ডেডলাইনের মধ্যেই কাজ করে। কোন কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পূর্ণ মনোযোগের সাথে শেষ করার চেষ্টা করে।ডেডলাইন এদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে খুব একটা সিরিয়াস না। অনেকটা খামখেয়ালী মনে হতে পারে এদের।
এই ঘরানার বাচ্চারা কোন কাজ শুরু করার পরে শেষ করার দিকে বিশেষ মনোযোগী হবে। কোন কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দিবে না। বলা যায় এরা শেষ করার বিষয়ে ব্যাপক উদ্যমী হয়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই ধরণের শিশুরা হোমওয়ার্ক একবারেই শেষ করে ফেলবে। ফেলে রাখবে না।এই ঘরানার বাচ্চারা জাজারদের ঠিক উলটো। কোন কাজ বীরবিক্রমে শুরু করবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শেষ করার ব্যাপারে তেমন সিরিয়াস থাকবে না। অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রেখে দিবে। এদের হোমওয়ার্ক ফেলে রাখতে দেখা যায়। কিংবা সকালে একটু, বিকেলে একটু, পরের ক্লাসের হোম ওয়ার্ক আগের ক্লাসে করা এমন কিছু অভ্যাস এদের মাঝে দেখা যাবে।
কাজ করা বা হোমওয়ার্ক করার ক্ষেত্রে এই বাচ্চারা এতটাই মনোযোগী থাকে যে, দেখলে এদেরকে যান্ত্রিক মনে হতে পারে! আসলে তাদের কাছে আগে কাজ পরে খেলাধুলা।এই টাইপ বাচ্চারা ঠিক উলটো। এদের কাছে আগে খেলাধুলা বা দুষ্টামি পরে কাজ। কাজ বা হোমওয়ার্কে মনোযোগ থাকবে না। খামখেয়ালী মনে হবে।

J অথবা P থেকেও পেয়ে গেলেন আপনার সন্তানের টাইপটি। তাও লিখে রাখুন। সবগুলো একসাথে করলেই চার বর্ণের একটা টাইপ পেয়ে যাবেন, এটাই হলো আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি প্রোফাইল।

পেয়ে গেলেন তো আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি টাইপ! এবার আপনার সন্তানের নাম, বয়স, তার পার্সোনালিটি টাইপ, ফোন নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস দিয়ে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করলে, আমরা আপনার সন্তানের নির্দিষ্ট পার্সোনালিটি টাইপের জন্য তার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তার পড়ালেখার বা জানার নেচারাল এপ্রোচ কেমন হওয়া উচিত ইত্যাদি সহ এমন অনেক পরামর্শ দিবো।

290 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment