Show Categories

গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন; আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে জানেন তো?

গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন

আপনার স্ত্রী যখন গর্ভবতী হন তখন কী কেবল তিনি একাই গর্ভবতী হন? না একই সাথে গর্ভবতী হোন আপনিও? হ্যাঁ আপনার স্ত্রী একা গর্ভবতী হন না বরং গর্ভবতী হন আপনারা। আপনার স্ত্রীর গর্ভে বেড়ে উঠা আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মকে, আপনাদেরকে রককে নিরাপদে পৃথিবীতে এনে তাকে অবাক করে দিতে ও আপনাদের অবাক হয়ে যেতে এবং একই সাথে আপনার স্ত্রীকে নিরাপদ রাখতে, তার ভরসার জায়গা হতে অনেক বেশি দায়িত্ব থাকে আপনার। আজকের ব্লগটা আপনার স্ত্রীর জন্য না, আপনার অনাগত সন্তানের জন্যও না, আজকের ব্লগটা আপনার জন্য। গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিয়ে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কেই আজকের ব্লগ। পড়ুন, জানুন ও গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিন।

নিজের জানার পরিসর বাড়ান
গর্ভধারণের এই সময়টাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে। এই সময়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে ও ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এই সময়ে গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন, তার খাদ্যাভাস, পোশাক পরিচ্ছদ, গর্ভধারণের সময়টার প্রতি ধাপে স্ত্রীর কেমন যত্ন দরকার এমন সব কিছু সম্পর্কে জানতে হবে। সেজন্য এই সম্পর্কিত বই সংগ্রহ করে জেনে নিন অথনা ইন্টারনেট থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে আপডেট রাখুন।

মর্নিং সিকনেসে স্ত্রীর পাশে থাকুন
গর্ভাবস্থায় প্রথম ৬-১৪ সপ্তাহ গর্ভবতী নারীর সকাল বেলায় বা কখনো কখনো অন্যান্য সময়ে যে বমি বমি ভাব হয় সেটাই মর্নিং সিকনেস। এই সময়ে স্ত্রীর খেয়াল রাখুন, তার পাশে থাকুন। এই বমি বমি ভাবটা সবারই হয়ে থাকে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে না রেখে তাকে কিছু খাওয়ান ও খাওয়ার পর তাকে সাথে করে একটু হাটাহাটি করুন। এতে বমি বমি ভাবটা কিছুটা হলেও কমবে। আপনি এই সময়টাতে স্ত্রীর পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখতে পারেন, মাথায় একটু পানি দিতে পারেন। এতে সে ভরসা পাবে ও মানসিকভাবে কিছুটা সাহস পাবে ও ফুরফুরে থাকবে।

তার অনুভূতি বুঝুন ও উৎসাহ দিন
গর্ভধারণের সময়টাতে স্ত্রী অনেক হ্যাপি ও এক্সাইটেড যেমন থাকে তেমনি ধীরে ধীরে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয়। ঘনঘন মুড চেঞ্জ হওয়া, ব্যথা, মানসিক অবসাদ, ভয়, চিন্তা, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এই অনুভূতিটা প্রাকৃতিক, এই অবস্থায় সবারই এমন হয়। এই সময়ে তার সবচেয়ে বেশী দরকার মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা। সেজন্য তাকে সমর্থন দিন ও তার অনুভূতিগুলো বুঝুন। এই সময়টাতে স্ত্রীকে প্রচুর সময় দিন। তার পাশে থেকে সাহস যোগান। তাকে এই সাহস দিন যে, এই জার্নিতে আপনারা সবাই তার পাশেই আছেন।

নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখুন
এই সময়টাতে আপনার স্ত্রী যেকোন সময় অসুস্থতাবোধ করতে পারে। ফলে আপনার প্ল্যান হুটহাট পরিবর্তন করতে হতে পারে। আর আপনি যদি ওয়ার্কিং হাজবেন্ড হন, তাহলে সেটা আপনার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু তারপরও এই সময়টাতে স্ত্রীকেই বেশীই গুরুত্ব দিতে হবে, কোনভাবেই তার প্রয়োজনীয়তা এড়া্নো যাবে না। প্রয়োজনে আগে থেকেই আপনার কর্মস্থলে এই সময়টার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন।

মাঝে মাঝে স্ত্রীর জন্য রান্না করুন
সবসময় স্ত্রীকে রান্নায়তো সাহায্য করবেনই আবার মাঝে মাঝে তাকে রান্না ঘর থেকে ছুটি দিয়ে আপনি তার জন্য স্পেশাল কিছু রান্না করুন অথবা তার পছন্দের কোন খাবার রান্না করে তাকে পরিবেশন করুন। এতে সে অনেক খুশী হবে ও তার মধ্যে বিশেষ একটা ভালো লাগা কাজ করবে। যা তাকে মানসিক ও শারীরিক দু-ভাবেই অনেক বেশী চাঙ্গা রাখবে। নিজে রান্না না পারলে তাকে রান্নায় সাহায্য করুন অথবা বাইরে থেকে তার জন্য স্বাস্থ্যকর ও তার প্রিয় কোন খাবার নিয়ে আসুন।

স্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তা্রের কাছে যান
এই সময়টাতে নিয়মিত ডাক্তারও ও চেকআপ তো করবেনই, সাথে চেষ্টা করবেন আপনি নিজে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। তার সাথে বসে ডাক্তারের সব কথা শুনবেন ও পরামর্শ শুনবেন। পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রীকে সাহায্য করবেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখুন। এতে আপনার স্ত্রী সাহস পাবে ও নিজেকে একা ভাববে না।

ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত থাকুন
সেই বিশেষ দিনটার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। সকল চিন্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সমস্যা আপনি মোকাবেলা করুন। তা যেন আপনার স্ত্রীর উপর কোন প্রভাব না ফেলে। আগে থেকে রক্তের জন্য পরিচিত ডোনার ঠিক করে রাখুন, আর্থিক ব্যাকআপ আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। কারণ ওই সময়টা বেশ দ্রুত যাবে, তখন সাথে সাথে এইসব প্রস্তুত করতে পারবেন না। সেজন্য ডেলিভারি ডেটের অন্তত একমাস আগে সব ধরণের প্রস্তুতি সেরে রাখুন।

তার সাথে পরিকল্পনা করুন
স্ত্রী গর্ভবতী এটা জানার পর থেকে নিজের ভেতর একটা বাবা স্বত্বা জন্ম নেয়। একই ভাবে আপনার স্ত্রীর মাঝেও জন্ম নেয় একটা মা স্বত্বা। এই সময়টাতে স্ত্রীকে মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখতে দুজনে মিলে কিছু প্ল্যান করুন। বাচ্চার নাম ঠিক করতে পারেন, জন্মের পর প্রথম জামার রঙ কি হবে তা নিয়ে খুনসুটি করতে পারেন। এমন ছোট ছোট পরিকল্পনা ও কিছু খুনসুটি আপনার স্ত্রীকে এই জটিল জার্নিটা সম্পন্ন করতে মানসিকভাবে সাহায্য করবে।

গর্ভধারণের ১০ মাস একজন নারীর জন্য খুবই নাজুক ও কঠিন একটা সময়। একজন স্বামী হিসেবে এই জার্নিটা আপনারও। এই সময়টার মানসিক জটিলতার কারণে অনেক সময় গর্ভধারিণী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এজন্য গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিতে হবে। এই জার্নিতে স্ত্রীর সহযাত্রী হতে হবে আপনাকেও।

আপনার সন্তানকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে তাকে বিজ্ঞানবাক্স দিন।

225 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment