শিশুদের জন্য সরাসরি চিনি ক্ষতিকর! কিন্তু চিনির বিকল্প কী?

চিনির বিকল্প কী

শিশুর খাবার আর চিনি বা মিষ্টি; এগুলোকে আপনি সমার্থক শব্দও ধরতে পারেন। মিষ্টি পছন্দের প্রশ্নে শিশুরা আপোসহীন সবসময়। তাছাড়া শিশুদের বেশিরভাগ খাবারেই চিনির আধিক্য বেশি। চকলেট, জুস, কেক, বিস্কিট শিশুদের পছন্দের এমন বেশিরভাগ খাবারেই চিনির আধিক্য থাকে অনেক। আর অনেকে তো চামুচে করে আস্ত চিনি খেতেও পছন্দ করে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার চিনির পুষ্টিগুণও দরকার আছে। তাহলে কী করা যায়? চিনির বিকল্প কি কিছু আছে? চলুন আজকে চিনির বিকল্প খুঁজি!

অতিরিক্ত চিনির ক্ষতিকর প্রভাব কী কী?

চিনির ক্ষতিকর দিক হিসেবে আমরা হয়তো দাঁতে পোকা হওয়া, স্থূলতা ইত্যাদি সম্পর্কে জানি। কিন্তু গবেষণা বলছে অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেক শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, স্মৃতিশক্তি কমে যায়, এলার্জি জনিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং অনেকক্ষেত্রে আচার আচরণেও পরিবর্তন আসে।

শিশুর কতটুকু পরিমাণ চিনি দরকার?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অণুযায়ী আমাদের সারাদিনের শক্তির ১০ শতাংশ আসে চিনি থেকে। তাই বলে চিনির অতিরিক্ত ব্যবহার করা যাবে না। এতে ক্ষতির প্রভাবটাই বেশি। সাধারণত ৫-৭ বছর বয়সি কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে ৬-১০ চামুচ ও ছেলেদের ক্ষেত্রে ৮-১২ চামুচ পরিমাণ চিনিই যথেষ্ট। এরচেয়ে বেশি গ্রহণ করা ক্ষতিকর।

চিনির বিকল্প কী কিংবা চিনির পরিমাণ কমানোর উপায় কী?

সরাসরি বা প্রক্রিয়াজাত চিনি ব্যাবহার না করে প্রাকৃতিক চিনি ব্যবহার করেও কিন্তু সন্তানের শরীরের চাহিদা মেটানো যায়। সেক্ষেত্রে সহজেই চিনির খারাপ প্রভাব থেকে আপনি আপনার সন্তানকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

চকলেট, পেস্ট্রির পরিবর্তে সতেজ ফল

ফল প্রাকৃতিক চিনির উৎস। বিশেষ করে আপেল, কলা আর আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি আছে। চকলেট, পেস্ট্রি, আইসক্রিম ইত্যাদি প্রক্রিয়াজাত চিনির খাদ্য থেকে শিশুকে কিছুটা দূরে রাখুন। দরকার হলে ফল দিয়েও মজার মজার চকলেট, পেস্ট্রি কিংবা আইসক্রিম বানিয়ে খাওয়াতে পারেন।

বেবারেজ আইটেম বাদ দিন

বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ জুস, কোমল পানীয় ও যেকোন ধরণের বেবারেজ পানীয়তে প্রায় ৯০ শতাংশই চিনি থাকে। তাছাড়া এইগুলো জাংকফুডও। যত বেশি সম্ভব যে কোন ধরণের প্রক্রিয়াজাত জুস ও বেবারেজ পণ্য কম খেতে দিন। বিকল্প হিসেবে সন্তানকে বাসায় ফলের জুসে অভ্যস্ত করান।

মধু

প্রাকৃতিক চিনির সবচেয়ে বড় উৎস মধু। তবে মধু কেনার ক্ষেত্রে তা খাঁটি মধু কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিন। মধুকে সকালের নাস্তায় পাউরুটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন। ব্যাবহার করতে পারেন শরবতেও। টুকটাক কাঁশি, অ্যাজমা, বাতজ্বর, গলাব্যাথা হলেও কিন্তু মধু খাওয়াতে পারেন। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি মধু এইসব রোগের উপশম হিসেবেও কাজ করে।

প্লেইন দই

দই স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী একটি খাবার। আপনি আপনার সন্তানের খাবারের তালিকায় দই রাখতে পারেন। তবে দই কেনার সময় খেয়াল রাখুন সেটা প্লেইন দই কি না। প্লেইন দইয়ে প্রক্রিয়াজাত চিনি ব্যবহার করা হয় না, যার ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যে প্লেইন দইয়ের চিনি তেমন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। দই কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল করুন সেখানে চিনি আছে কি না ও কোন আর্টিফিশিয়াল ফ্লেবার ব্যবহার হয়েছে কি না।

আপনার সন্তানকে সচেতন করুন

চিনি বা মিষ্টি শিশুদের অনেক পছন্দের খাবার। আপনি হয়তো চিনির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানেন। কিন্তু শিশুরা তা জানে না। তাদের কাছে যা খেতে মজা লাগে তারা তা খেতে চায়। সেক্ষেত্রে চিনির ক্ষতিকর প্রভাব আপনার সন্তানকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন। চিনি তার স্বাস্থ্যের কী কী ক্ষতি করতে পারে তা তাকে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিন। সে নিজে সচেতন হয়ে চিনি এড়িয়ে চলতে পারলে আপনার কষ্টটাও কিছু কমবে।

নিয়মিত এমন কন্টেন্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

* indicates required




বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

178 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment