Show Categories

নোবেল পুরস্কার ২০১৮; পৃথিবী বদলে দেয়ার গল্প। (১ম পর্ব)

Bigganbaksho Nobel prize 2018

১৮৯৫ সালে সুইডিশ রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল তার একটা উইলে সারাবিশ্বে যথাক্রমে চিকিৎসাবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, সাহিত্য ও শান্তিতে অবদানের জন্য একটা পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়ে যান। এই পুরস্কারটি নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নোবেল ফাউন্ডেশনকে একটা বিরাট অংকের অর্থ অনুদান দেন নতুন একটা পুরস্কার প্রদানের জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় নোবেল কমিটি তার পরের বছর থেকে পূর্বের ৫ টি পুরস্কারের সাথে অর্থনীতিতে নোবেল দেয়ার মাধ্যমে মোট ৬ টি শাস্ত্রে নোবেল প্রদান করে যাচ্ছেন। ১৯০১ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই এইসব শাস্ত্রে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কার স্থগিত ছিলো। নোবেল পুরস্কারকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নোবেল পুরস্কার তাঁদেরকেই দেয়া হয় যাঁরা নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিতে সাহায্য করেন। সেজন্য যাঁরা নোবেল পুরস্কার পান তাদেরকে নোবেল লরিয়েট বলা হয়।  বাংলাদেশ থেকে ২০০৬ সালে গ্রামীন ব্যাংক ও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এই বছর নোবেল কমিটি সাহিত্যে পুরস্কার স্থগিত রেখে বাকি ৫ টি ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেছেন। আসুন জেনে নেই ২০১৮ সালে কোন কোন অবদানের জন্য কারা কারা পেলেন এই সম্মানজনক পুরস্কার।

চিকিৎসা শাস্ত্রে জেমস পি এলিসনতাসুকু হোনজো
এই বছর চিকিৎসা শাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পেলেন আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস পি এলিসন ও জাপানি বিজ্ঞানী তাসুকু হোনজো। ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তাঁরা এই পুরস্কার পান। প্রতি বছরই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালেই শুধু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ লাখ মানুষ মারা গেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই দুইজন বিজ্ঞানী ক্যান্সারের কোষগুলো থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মুক্ত করে আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই পুনরায় ক্যান্সারের কোষগুলোকে আক্রমণ করে ক্যান্সার প্রতিহত করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার অনেক কমাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পদার্থবিজ্ঞানে আর্থার আশকিন, জেরার মুরুডোনা স্ট্রিকল্যান্ড
লেজার গবেষণায় অবদানের জন্য যৌথভাবে তিন জনকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তারা হলেন আমেরিকান বিজ্ঞানী আর্থার আশকিন, ফরাসী বিজ্ঞানী জেরার মুরু ও কানাডিয় বিজ্ঞানী ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড। চোখের চিকিৎসায় ছোট ছোট কণা, ভাইরাস ও কোষগুলোকে জীবিত রেখেই ও কোন ধরনের ক্ষতি না করেই বিভিন্ন পজিশন থেকে পরীক্ষানিরিক্ষা করার জন্য অপটিক্যাল টুইজারস নামক পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য আর্থার আশকিন পুরস্কারের অর্ধেকটা পাবেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ও বিভিন্ন গবেষণায় অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নমুনা পর্যবেক্ষণ করতে হয়, কিন্তু নমুনাগুলোকে বিভিন্ন পজিশন থেকে দেখার জন্য নাড়াচাড়া করতে গেলে নমুনা নষ্ট হয়ে যেতো অথবা মারা যেতো। ফলে পর্যবেক্ষণে শতভাগ সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হতো না। আশকিনের এই আবিষ্কারের ফলে নমুনাগুলোর কোন ক্ষতি না করেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। অন্য দিকে লেজার রশ্মিকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রসারিত, বিবর্ধিত ও সংকুচিত করে লেজার রশ্মিকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ও অধিক শক্তিশালী করার গবেষণায় অবদানের জন্য পুরস্কারের বাকি অর্ধেক পাবেন জেরার মুরু ও ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড।

রসায়ন শাস্ত্রে ফ্রান্সেস আর্নল্ড, জর্জ স্মিথগ্রেগরি উইন্টার
সবুজ জ্বালানী আবিষ্কারের পন্থা ও ঔষধ তৈরির গবেষণায় অবদানের জন্য রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পেয়েছেন আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস আর্নল্ড, জর্জ স্মিথ ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী গ্রেগরি উইন্টার। জলবায়ু পরিবর্তন অনেক দিন ধরেই উদ্বেগের একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্নল্ড প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এনজাইম আবিষ্কার করেছেন, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানী ও পরিবেশ বান্ধব রাসায়নিক তৈরির পথ আরো সুগম করে দেবে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় কিছুটা হলেও রোধ করা যাবে। এজন্য পুরষ্কারের অর্ধেকটা পাবেন এই গুণী রসায়নবিদ। অপরদিকে স্মিথ ও উইন্টার নতুন একধরণের প্রোটিন আবিষ্কারের মাধ্যমে ঔষধ তৈরিতে অবদান রাখার জন্য বাকি অর্ধেক দুজনে ভাগাভাগি করে নিবেন। নোবেল কমিটি বলছে, এই গুণী বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের ফলে পৃথিবী পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলায় অনেক সুবিধা পাবে ও ঔষধ শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

আগামী পর্বে আমরা শান্তি ও  অর্থনীতিতে  পুরস্কার প্রাপ্তদের নিয়ে আলোচনা করবো।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

445 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment