Show Categories

প্যারেন্টিং টিপস – মজার খেলা’য় হোক আপনার সন্তানের শিক্ষা(প্রথম পর্ব)

মজার খেলা

আপনার সন্তান কি পড়ালেখায় অমনযোগী? হোমওয়ার্ক না করে ফেলে রাখে? সন্তানকে শাস্তি দিচ্ছেন, বকাঝকা করছেন কাজ হচ্ছে না? এসব না করে সন্তানের সাথে খেলুন মজার খেলা! ভাবছেন অমনযোগী, হোমওয়ার্ক না করার সাথে মজার খেলা সমাধান হয় কীভাবে? আপনার এ প্রশ্নের উত্তর নিচের লেখাতেই খুঁজে পাবেন আশা করি। সন্তানের কাছে আসার সবথেকে সহজ উপায় হল তাকে সময় দেওয়া। আপনি এবং আপনার সন্তান যদি কোন কাজ একসাথে করতে চান তাহলে মজার কিছু (মজার খেলা) করুন, যা আপনার সন্তানকে দ্বিগুণ পরিমাণ শিখতে সাহায্য করবে। এই মজার খেলা’র মাধ্যমেই আপনার সন্তান শিখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, হতে পারে মনযোগী। চলুন শিখে নেই তার কয়েকটি।

ট্রি লেসন
এই প্রক্রিয়াটি আপনার ছোট্ট শিশুটিকে প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। সকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটার সময় আপনার সন্তানকে সাথে নিন। হাঁটার সময় তাকে আপনি আশেপাশের প্রকৃতি সম্পর্কে জা্নাতে পারেন। হাঁটার সময় বিভিন্ন ধরণের রং বেরঙের গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করুন, সংগ্রহের সময় গাছটি তাকে দেখিয়ে নিন। এবার বাসায় এসে ইন্টারনেট বা কোন বই থেকে পাতাগুলোর গাছের নাম (বাংলা নাম, স্থানীয় নাম, বৈজ্ঞানিক নাম) সংগ্রহ করতে দিন। এগুলো তাকে খাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখতে বলুন। এভাবে হাঁটাও হল শেখাও হল।

বাচ্চার হাতের খেলনা চুম্বক হতে পারে বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যম

লাভা ল্যাম্প
বাচ্চারা পানি, রং এগুলো নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। আপনিও তাকে এগুলি নিয়ে খেলতে দিন আর শিখিয়ে নিন মজার বিজ্ঞান। উপকরণ হিসাবে বাজার থেকে একটা ভিটামিন সি ট্যাবলেট (ক্যালবো সি) সংগ্রহ করতে হবে, বাকি উপকরণ কাঁচের  গ্লাস, পানি, সয়াবিন তেল, ফুড কালারতো রান্নাঘরেই আছে। প্রথমে একটি কাঁচের গ্লাস বা টেস্টটিউবে অল্প পরিমাণ পানি নিতে হবে, এবার পানির থেকে বেশি পরিমাণে তেল পাত্রের গা বেয়ে ঢালতে হবে। খেয়াল করে দেখুন পানির সাথে তেল না মিশে উপরে ভাসছে। এবার আপনার সন্তানকে কয়েক ফোঁটা ফুড কালার দ্রবণে মিশিয়ে দিতে বলুন। মজার ব্যাপার হল ফুড কালার তেলের সাথে না মিশলেও পানির সাথে খুব দ্রুত মিশে যাবে। সর্বশেষ ভিটামিন সি ট্যাবলেটটি দ্রবণে ছাড়তে হবে, তৈরি হয়ে গেল লাভা ল্যাম্প। অপেক্ষা করুন আর সন্তানের মজার বিজ্ঞান খেলা দেখুন। দেখবেন তেলের স্তর থেকে পানির স্তরে রঙিন বৃষ্টি ঝরছে। এখান থেকে বাচ্চারা বয়স অনুযায়ী পোলার, অপোলার যৌগ, ব্যাপন ইত্যাদি রসায়নের জটিল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে।

মজার খেলা

গোলক ধাঁধা (Maze)
এই মজার খেলাটি হতে পারে আপনার সন্তানের মেধা যাচাইয়ের অন্যতম সেরা মাধ্যম। এক্ষেত্রে বাড়ির উঠানে বা ঘরের মেঝেতে একটি গোলক ধাঁধা আঁকুন। এবার আপনার সন্তানকে একটি খেলনা গাড়ি দিয়ে কোন দাগ স্পর্শ না করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আসতে দিন। এই প্রক্রিয়ায় আপনি আপনার সন্তানের উপস্থিত বুদ্ধি ও মেধা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। সন্তানের চিন্তাশক্তি বাড়াতে তার বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের গোলক ধাঁধা দিয়ে তাকে উৎসাহিত করতে পারেন। উপস্থিতবুদ্ধি, অন্যদের থেকে আপনার সন্তানকে এগিয়ে রাখবে একধাপ।

পার্শ্ব পরিবর্তন
স্কুলের জন্য বাচ্চাকে প্রতিদিনই আপনি গুছিয়ে দেন নিশ্চয়। ছুটির দিনে বাচ্চাকে আয়নার সামনে বসিয়ে দিন তার নিজেকে সাজাতে। পরিপাটি হওয়ার একপর্যায়ে তাকে আয়নার সাথে কথা বলতে বলুন! জড় বস্তুর সাথে কথা বলতে বলায় বাচ্চা প্রথমে একটু অবাক হলেও সে যখন হাই (Hi) বলে আয়নার সামনে ডান হাত তুলছে, ঠিক তখনই আয়নার মধ্যে তার মতই একজন বাম হাত তুলে তার প্রতিউত্তর দিচ্ছে। সে যখন বুঝতে পারছে আয়নার মধ্যে প্রতিচ্ছবিতে আর কেউ নয় সে নিজেই, তাহলে কেন ডান হাত তুললে বাম হাত হয়ে যাচ্ছে তার মাথাতে এই প্রশ্নটা বারবার আসবে। এবার তাকে বুঝিয়ে বলুন পার্শ্ব পরিবর্তনের খেলাটা আলোর প্রতিফলনের কারণে হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন – শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব

ডিমের খোসার রসায়ন
ডিম ভাজি বা সেদ্ধ সে যাই হোক বাচ্চাদের পছন্দের খাবারের তালিকায় ডিম এক অনন্য স্থান দখল করে আছে নিঃসন্দেহে। মজার স্বাদে ডিম খেলেও ডিমের খোসা কিন্তু বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেই। তবে ডিমের খোসা দিয়ে যদি শেখা যায় জটিল বিজ্ঞান, দোষ কী? এজন্য উপকরণ হিসাবে আমাদের প্রয়োজন হবে টেস্টটিউব, ডিমের খোসা, লেবুর রস, বেলুন ইত্যাদি। প্রথমে ডিমের খোসা গুলোকে(২-৩টা) ভাল করে চূর্ণ করতে হবে। এবার ডিমের খোসা চূর্ণ টেস্টটিউবে নিয়ে ২-৩ চা চামচ লেবুর রস দিয়ে ছিপি আটকে দেই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। ভিতর বুদবুদ হতে শুরু করেলেই বুঝতে হবে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে। কি গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে এবার তা পরীক্ষা করার পালা। এজন্য একটা জ্বলন্ত কাঠি টেস্টটিউবের মুখে ধরে খেয়াল করলে দেখা যাবে কাঠিটি নিভে গেছে তার মানে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে। সন্তানের বয়স কম হলে এই পরীক্ষাটি আপনি নিজে করে সন্তানকে দেখাতে পারেন। আরও নিশ্চিত হতে টেস্টটিউবের মুখ চুনের পানির মধ্যে ধরলে দেখা যাবে চুনের পানি ঘোলা হয়ে গেছে। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাবে টেস্টটিউবে উৎপন্ন গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড। কেননা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিজে জ্বলে না এবং অন্যকেও জ্বলতে সাহায্য করে না, এছাড়া তা চুনের পানিকে ঘোলা করে।

আজ আমরা শিক্ষণীয় মজার খেলার কিছু বিষয় আলোচনা করলাম। পরবর্তীতে আরো কিছু বিষয় আলোচনা করব আমরা। আশা করি এই প্রক্রিয়াগুলো আপনার সন্তানকে শিখতে সাহায্য করবে। ছোট থেকেই আপনার সন্তানকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখান, বিশ্বাস করতে শেখান সেও পারে। তার যখন ভাল লাগবে না তখন তাকে সময় দিন, খেলতে দিন মজার খেলা। আত্মবিশ্বাস আর উপস্থিতবুদ্ধিতে আপনার সন্তান হয়ে উঠুক সবার সেরা।

তথ্যসূত্র
parenting.firstcry.com
অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স

226 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment