Show Categories

প্যারেন্টিং টিপস – শিশুর বেড়ে ওঠায় আমাদের ভূমিকা ।

বেড়ে ওঠায়

আমাদের সন্তানেরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদেরকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই। কিন্তু অনেকসময়ই দেখা যায় আমাদের বাচ্চারা আমাদের দেখানো পথের ঠিক উলটো দিকে চলতে শুরু করে। কেন এমনটা হয়? এই প্রশ্নের উত্তরটি জানতে চট করে চোখ বুলিয়ে নিন সেই বিষয়গুলোর উপর যা আমাদের বাচ্চাদের বেড়ে ওঠায় প্রভাবকের মতো কাজ করে।


পরিবেশ নির্মল রাখাঃ

এতে কোন সন্দেহ নেই যে একটি বাচ্চার আশেপাশের পরিবেশ তার বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে। আপনি আপনার বাচ্চাকে সততা, সহমর্মিতা, বন্ধুত্বসুলভ আচরণের দীক্ষা দিচ্ছেন ঠিকই; কিন্তু সে যদি তার আশেপাশে এগুলো দেখতে না পায়, সে কিন্তু তা কখনোই শিখবে না। আপনি বাচ্চাকে শেখাচ্ছেন সহনশীল হতে, কিন্তু সে দেখছে ঝগড়া, অশান্তি। তাহলে কিন্তু সে কখনোই সঠিক শিক্ষা পাবে না। একটি শিশু তার প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে তার পরিবেশ থেকে। তাই শিশু যে পরিবেশে বড় হবে সেটি হতে হবে আনন্দময় এবং শান্তিপূর্ণ। একটি সুন্দর পরিবেশ একটি বাচ্চাকে রুচিশীল হতে শেখায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে শেখায়। এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে।

শাসনের বেড়াজালঃ

বাচ্চাদের মনমানসিকতা অত্যন্ত কোমল। তাদের সাথে যেভাবে আচরণ করা হবে, তাই তাদের মনে দাগ কেটে বসে যাবে। বাচ্চাকে শাসন করতে গিয়ে, নিয়মানুবর্তিতা শেখাতে গিয়ে অনেকসময়ই বাবা মা কঠিন আচরণ করে থাকেন, এটি একদমই উচিত নয়। অতিরিক্ত শাসন, বকাঝকা আপনার বাচ্চাকে ভীতু করে তুলবে। শিশুরা যদি কোন ভুল করেও ফেলে, হাসিমুখে তাদের শুধরে দিতে হবে। আপনার কঠিন আচরণ তার ছোট্ট কোমল মনটাকে ভেঙে চুরে দেবে। মনে রাখবেন, আপনার সহনশীলতা বাচ্চাকে সহনশীল হতে শেখাবে।

প্রশংসা নিন্দাঃ

আমি মনে করি, বাচ্চাদের সামনে তাদের নিন্দা করা একেবারেই উচিত নয়। এতে বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাছাড়া, অনেক বাবামায়েরা প্রায়সময়ই একটি বিচ্ছিরি কাজ করে থাকেন, সেটি হচ্ছে অন্য বাচ্চাদের সাথে নিজের বাচ্চার তুলনা করা। অন্যের সন্তানের চাইতে নিজের সন্তানকে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন করে তোলার জন্য তারা তাদের সন্তানদের একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেন। এতে বাচ্চাদের জীবনটা দুর্বিসহ হয়ে পরে। তার ওপর বাচ্চাটি যদি নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, শাসন ও নিন্দা তো আছেই! একবার ভেবে দেখেছেন, একটি শিশুর জীবনকে বিষিয়ে তুলছেন আপনারা? বাচ্চাদের করা যে কোন ছোট বড় কাজকে সমাদর করতে হবে, হাসিমুখে তাদের সাফল্য ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে। তারা যেন হেরে যাও্য়া থেকে শিখতে পারে, সে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চাদের প্রশংসা করতে হবে। তবে তাদের সামনে খুব বেশি প্রশংসা করবেন না যেন, এতে তারা অহংকারী হয়ে উঠতে পারে। দুই দিক বিবেচনা করেই এগোতে হবে।

শিশুর সাথে বন্ধুত্বঃ

বাবা মা তখনই বাচ্চার মনের ভেতর প্রবেশ করতে পারবেন যখন তারা তাদের সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠবেন। বাচ্চাকে সময় দিন, তার সাথে খেলাধুলা করুন, নানান ব্যাপারে কথা বলে তার পছন্দ অপছন্দ জেনে নিন। যখন দেখবেন আপনার বাচ্চা নিজে থেকে এসে আপনাকে তার মনের কথা বলছে, তখনই বুঝে নেবেন যে আপনি ঠিক পথে যাচ্ছেন। আপনার সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্ব তাকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে, ভরসা দেবে যে সে একা নয়। সে ভালোবাসতে শিখবে, বন্ধুত্ব করতে শিখবে। দেখবেন, আপনার সন্তান আপনার বন্ধু হলে অনেক জটিলতাই সহজ হয়ে উঠবে।

কৌ্তুহলকে প্রশ্রয় দিনঃ

একটি শিশুর কৌ্তুহলী হওয়ার মানেই হচ্ছে যে তার জানার ইচ্ছা আছে, শেখার ইচ্ছা আছে। তাই বাচ্চার কৌ্তুহলকে প্রশ্রয় দিন, তাকে শিখতে সাহায্য করুন। সে যদি সারাদিন আপনাকে প্রশ্ন করে যায়, তার উত্তর দিন। উত্তর জানা না থাকলে খুঁজে বের করে তাকে জানান। এটাইতো শেখার সময়। তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে বকাঝকা করলে তাদের আগ্রহ কমে যাবে। কিছু জানার ইচ্ছেটাই থাকবে না। তাই তাদেরকে প্রশ্ন করতে দিন, জানতে দিন। কৌ্তুহলই উদ্ভাবনার জনক, ভুলে যাবেন না যেন!

সৃজনশীলতার বিকাশঃ

শিশুর সৃজনশীলতা যেন বিকশিত হতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। সৃজনশীলতা একটি মানুষকে মনখোলা হয়ে বড় হতে শেখায়। সে যদি আঁকতে ভালোবাসে, ছবি আঁকতে দিন, গান ভালোবাসলে মন খুলে গাইতে দিন। তাকে গল্পের বই পড়তে দিন, কবিতা পড়ে শোনান। দেখবেন, তার সামনে বিশাল এক পৃথিবীর দরজা খুলে গেছে। সৃজনশীলতা মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচতে শেখায়। সারাক্ষণ পড়ায় বইয়ে মুখ গুজে বসে থাকার নির্দেশ দেবেন না যেন। আপনার সন্তান যেন একটি আনন্দময় শৈশব পায়, সেদিকে নজর রাখুন।

খেলাধুলার পালাঃ

আজকাল বাচ্চারা খেলার সময় একেবারেই পায় না। মাঠে গিয়ে খেলার মতো মাঠই বা কোথায়! তবুও, আপনার বাচ্চাকে খেলার জন্য সময় দিন। বাচ্চারা খেলতে খেলতে শেখে। খেলতে গিয়ে ব্যথা পাবে, পরে যাবে কিন্তু আবার উঠে দাঁড়াবে। একসাথে অনেকগুলো বাচ্চা খেললে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরী হবে, তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করতে শিখবে। খেলাধুলা করলে তাদের মনও ভালো থাকবে। তাই তাদের বেশি বেশি খেলতে দিন। শৈশব কিন্তু বারবার ফিরে আসবে না। তাই প্রতিদিন তাদের খেলার জন্য একটি সময় বেধে দিন।

আজকের শিশুরা আমাদের আগামী এবং তাদের গড়ে ওঠার উপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যতের দিনগুলো। তাই তাদের গড়ে তুলতে হবে এমনভাবে, যেন তারা একটি আলোয় ঝলমল পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। তারা যেন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সেই দায়িত্ব আমাদের।

আরো পড়তে পারেন – ওভার প্যারেন্টিং দূর করবেন কীভাবে?

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

294 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment