বিজ্ঞানের অন্যরকম আবিষ্কার স্যাটেলাইট। কিন্তু আমরা কি জানি স্যাটেলাইট আমাদের কিভাবে কাজে আসে? এই যে আমরা ঘরে বসেই রিমোটের বোতাম চেপে বিভিন্ন দেশের টেলিভিশনের প্রোগ্রাম দেখতে পাই এবং দারুন কিছু শিখতে পারি সেটা এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই সম্ভব। আবার ইন্টারনেট ঘেঁটে মুহূর্তেই যেকোনো তথ্য পেয়ে যাই এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। এছাড়াও স্যাটেলাইট আমাদের প্রতিদিনের জীবন এতোই সহজ করে দিয়েছে যে আমরা ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারি পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে আধুনিক বিশ্বে স্যাটেলাইটের গুরুত্ব।

স্যাটেলাইট সম্পর্কে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন

পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত ৫৬ টি দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হচ্ছে বাংলাদেশ ৫৭ তম দেশ হিসেবে এখন নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক। “বঙ্গবন্ধু-১” নামে ২০১৮ সালের ১১মে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এই স্যাটেলাইট। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্থানীয় সময় ৪টা ১৫ মিনিটে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

bangobandhu-1

চলুন জেনে নেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থাকলে আমাদের কি কি লাভ হবে-

১। নিজস্ব স্যাটেলাইট মালিকানা

নিজস্ব স্যাটেলাইট মালিকানার গর্বের পাশাপাশি এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে মহাকাশ বিজ্ঞানের অসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কারণ, একটি দেশর যখন নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকে, তখন তাদের পক্ষে যেকোনো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

২।  তিনটি কাজে বঙ্গবন্ধু-১

তিনটি কাজে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার হবে। এগুলো হলো ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট।

৩। হ্যাকিং হুমকি হ্রাস

ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় হুমকি হ্যাকিং। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে হ্যাকিং অনেক কমিয়ে আনা যাবে।

৪। দেশের টাকা দেশেই থাকবে

এই স্যাটেলাইট দিয়ে টেলিভিশন সম্প্রচার করা যাবে। আমাদেরকে এখন অন্যদের কাছ থেকে স্যাটেলাইটের ভাড়া দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল চালাতে হচ্ছে। এর জন্য আমাদের বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে মাসে ৩০ হাজার ডলার খরচ করতে হয়। যখন আমরা নিজেদের টেলিভিশন চ্যানেল নিজেদের স্যাটেলাইট দিয়ে সম্প্রচার করব তখন আমাদের টাকা আমাদের কাছেই থেকে যাবে।

৫। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন

২০টি ট্রান্সপন্ডার নিজেদের জন্য রেখে অন্য ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশে বিক্রি করা হবে যার ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।

৬। আবহাওয়া, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং সহ আরও অনেক উন্নতি

এছাড়াও টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি  যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

 

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট তৈরির পিছনের কথা-

২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ-ব্যবস্থা, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনা সহায়তা ও ঋণের ব্যবস্থা করবে ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।  ফ্রান্সের থুলুজে স্যাটেলাইটটির মূল কাঠামো তৈরির কথা দেয় থ্যালেস।

অর্থায়ন-

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি।

কক্ষপথ-

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। মহাকাশে এই কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়।

 

আরো কিছু তথ্য-

‘বঙ্গবন্ধু -১’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূস্থির উপগ্রহ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ২৬ কু-ব্যান্ড এবং ১৪ সি-ব্যান্ড মিলিয়ে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া দেশের বাইরে সম্পন্ন হলেও গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট কোম্পানি-

মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যত্রমের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরী লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

975 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment