বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহারকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গল্প

User- Bigganbaksho

প্রতিদিনই বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ বিজ্ঞানী। আজ বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহারকারী এমন দু’জন ক্ষুদে বিজ্ঞানী’র গল্প আমরা জানব।

গবেষক ফাতিকা
ফাতিকা বিনতে সাফির চৌধুরী। একরত্তি মেয়ের এত বড় নাম! নামের ভার বহন করতে ও কিন্তু তৈরি! ও একটু অন্যরকম। অবসর সময়ে ওর কি করতে ভালো লাগে, জানো? সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করতে! আর বড় হয়ে ও হতে চায় গবেষক! মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ে, অথচ কত বড় বড় চিন্তা করে, দেখেছো!

সায়েন্স নিয়ে আর আগ্রহ দেখে ওর মা ওকে কিনে দিলেন আলোর ঝলক বিজ্ঞানবাক্সটি। ফাতিকা তো খুবই খুশি এই মজার উপহার পেয়ে! নানারকম মজার জিনিস বানানো যাবে, আবার সায়েন্স শেখাও যাবে। দারুণ না!
একে একে ২৫টি এক্সপেরিমেন্টের সবগুলিই ও করে ফেললো। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগলো ক্যালাইডোস্কোপ দিয়ে নকশার পৃথিবীতে চলে যাওয়া, পিনহোল ক্যামেরা তৈরি, অদৃশ্য কয়েন আবিষ্কার, এবং আয়না দিয়ে রঙধনু তৈরি।
ওর মাও খুব খুশি ওর আনন্দ দেখে, ওকে নতুন কিছু শিখতে দেখে।

এসো আমরা সবাই ফাতিকার জন্যে শুভকামনা জানাই, যেন ও আরো নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারে, আর বড় হয়ে গবেষণা করে নতুন কিছু আবিষ্কার করে পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।

আর পড়তে  পারেন – আপনার সন্তান পড়া মনে রাখতে পারছে না? 

BigganBaksho AD

বিজ্ঞানী অনিরুদ্ধ

ঘড়ির কাটা তখন সন্ধ্য ৬:৩০ পার হয়ে গেছে, অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স অফিসের সবাই তখন ফিরতি গাড়িতে বাড়ির পথে। হাতে কিছু কাজ থাকায় অফিসে তখনও রানা ও হাসান নিজ কাজ শেষে বের হওয়ার জন্য ডেস্ক গোছাচ্ছে। এমন সময় এলো অনিরুদ্ধ এবং তার বাবা। অনিরুদ্ধ এসে বললো, সে একটি বিজ্ঞানবাক্স নিতে চায়। কথা শুনে হাসান বসতে বলে, কোন বিজ্ঞানবাক্স নিতে চাই জানতে চাইল। এবার ছেলে উত্তর দিল তার চুম্বকের চমক বিজ্ঞানবাক্স চাই। একেতো অফিস আওয়ার শেষ তার ওপর অফিসের স্টকের চুম্বকের চমক শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞানবাক্স তার লাগবেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাসান একটা চুম্বকের চমক বিজ্ঞানবাক্স নিয়ে এল। ব্যাগে দিতে দিতে হাসান জানতে চাইল তারা বিজ্ঞানবাক্স সম্পর্কে কোথা থেকে জেনেছে?

তখন বাবা বললেন, সে লিফলেটের মাধ্যমে জেনেছে। তার ছেলে বাসার খেলনা গাড়ি ভেঙে তা নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করে, মোটর, ব্যাটারি এসব নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। ছেলের এমন কাজ দেখে, চোখের পলকে বাবা ফিরে পান তার শৈশব। অনেক দিন থেকে বাবা চাচ্ছিলেন তার ছেলের জন্য এমন কিছু যেখানে অনেক গোছানো উপকরণ দেওয়া আছে, যা দিয়ে সে করতে পারবে বিজ্ঞানের অনেক মজার ও শিক্ষণীয় এক্সপেরিমেন্ট। কষ্ট করে তাকে আর গাড়ি ভেঙে উপকরণ বের করতে হবে না। সেই হিসাবে বাবার মনে হয়েছে অন্যরকম #বিজ্ঞানবাক্স হতে পারে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য উপযুক্ত ভাণ্ডার। ছেলের পরীক্ষা শেষ, এমন কিছু দিয়ে শুরু করার জন্য এটাই মোক্ষম সময়। চুম্বকের চমক দিয়ে শুরু হল অনিরুদ্ধর বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট যাত্রা। শুধু চুম্বকের চমক বিজ্ঞানবাক্স নিয়ে ক্ষান্ত হতে চান না অনিরুদ্ধ ও তার বাবা। তারা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৬টি বিজ্ঞানবাক্সই ব্যবহার করতে চায়।

অনিরুদ্ধ ঢাকা অ্যাডভ্যেনটিস্ট প্রি সেমিনারি অ্যান্ড স্কুলে (DAPS) ৩য় শ্রেণীতে পড়ছে। এরই মধ্যে সে বিজ্ঞানী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে। শুভ কামনা রইল অনিরুদ্ধর জন্য।

কথা বলে লাইট জ্বালানো, ফু না দিয়ে বেলুন ফোলানো, সাদা আলোতে সাত রং দেখা, চুম্বক দিয়ে লাইট জ্বালানো, লেজারের আলো দিয়ে শব্দ প্রেরণ এমন সব মজার মজার বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করতে হলে দেরি না করে এখনই হাতে নাও বিজ্ঞানবাক্স।
 

78 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment