বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই বিজ্ঞানবাক্স

বিজ্ঞানবাক্সের এক্সপেরিমেন্ট

অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে এক জাদুর পরশপাথর! এটিতে রয়েছে এমন কিছু দারুণ যন্ত্রপাতি এবং ভিডিও টিউটোরিয়াল, যা ব্যবহার করে শিশুরা নিজেদেরকে ভাবতে পারবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী, অনুভব করতে পারবে বিজ্ঞানের সৌন্দর্য। বিজ্ঞানবাক্স নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য থাকছে ছবিসহ বর্ণনা করা ম্যানুয়াল বই। বিজ্ঞানবাক্স-এর বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট বিভিন্ন শ্রেণীর বিভিন্ন অধ্যায়ের সাথে মিল রয়েছে। বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করায় বাচ্চাদের বিজ্ঞানভীতি কেটে যায়। আজ আমরা জানাব বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহারকারী কিছু ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গল্প।

লাবিব
লাবিবের সাথে আমাদের পরিচয় ২০১৭ সালের বাণিজ্য মেলায়। তখন সে ক্লাস ওয়ানে পড়তো। লাবিব অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। ও একটু চুপচাপ, আত্মমগ্ন ধরণের। বাণিজ্য মেলায় সবাই ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছিলো, আনন্দ করছিলো, কিন্তু লাবিব আমাদের স্টল ছেড়ে কোথাও যাবে না! বিজ্ঞানবাক্সের সব সায়েন্স এক্সপেরিমেন্টের মধ্যেই ওর আনন্দ। ওর মা আর নানুর কাছে অনুমতি চাইলো আমাদের স্টলে থাকার। অনুমতি পেয়ে ওর খুশি দেখে কে! ও নিজেই স্টলে আসা ক্রেতাদের বিজ্ঞানবাক্সের এক্সপেরিমেন্ট দেখাতে শুরু করলো। ওর সাথে আমাদের খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেলো 🙂 এরপর ও বেশ কয়েকবার এসেছিলো মেলায় আমাদের স্টলে।
এই কদিন আগে লাবিবের স্কুল এ্যাকাডেমিয়াতে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির টিম গিয়েছিলো বিজ্ঞানবাক্সের এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে। ওদের সাথেও লাবিবের বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। এখন সে পড়ছে ক্লাস থ্রিতে। এরইমধ্যে ৬টি বিজ্ঞানবাক্সের সবগুলো বিজ্ঞানবাক্সই লাবিব ব্যবহার করেছে। পড়াশোনা আর সায়েন্স এক্সপেরিমেন্টের পাশাপাশি তায়কান্দো শিখছে, শক্তিশালী হচ্ছে। ওর ভালো লাগে সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরে বেড়াতে। বড় হয়ে ও নাসায় বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করতে চায়।

 ক্ষুদে বিজ্ঞানীর জন্য চাই  অন্যরকম গবেষণাগার 

সাবিত
দুই বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাবিত সবার ছোট। জন্মগতভাবে সহজ সরল স্বভাবের সাদিকের ডান হাতে ৪টি আঙ্গুল। সৃষ্টিকর্তা তাকে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল দেন নি। তাতে কী! ওর চেষ্টার কোন কমতি নেই। সামান্য শারীরিক প্রতিকুলতার কারণে সে পিছিয়ে থাকবে? তাই কী হয়!

সাবিতের বোন ওর খুব ভালো বন্ধু। সে তাকে সবসময় চেষ্টা করে হাসিখুশি রাখতে। বোনের কাছ থেকেই সে পেলো জীবনের সেরা উপহার, আলোর ঝলক বিজ্ঞানবাক্স! বিজ্ঞানবাক্স পেয়ে ওর সে কী খুশি! পড়ালেখার পাশাপাশি সাবিত শুরু করে বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট। মজার মজার এক্সপেরিমেন্টের ফলে বিজ্ঞানের প্রতি তার ভাললাগা বাড়তে থাকে। একে একে আলোর ঝলকের ২৫টি এক্সপেরিমেন্ট শেষ করে ফেলেছে সাবিত। আলোর ঝলকের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট তার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ের সাথে মিলে যাওযায় ঐসব টপিক পড়তে তার সহজ মনে হয়েছে। পেরিস্কোপ ও পিনহোল ক্যামেরার এক্সপেরিমেন্ট তার সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। এখন সে শব্দকল্প বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করছে। শব্দকল্পের এক্সপেরিমেন্টগুলি শেষ করে একে একে সবগুলি বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে চায়।

আধুনিকতার এই যুগেও অবসরে নীল আকাশে রঙিন ঘুড়ি উড়াতে পছন্দ করে সাবিত।

শেখ আব্দুর রহমান সাবিত তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। বড় হয়ে সে গায়ক হতে চাই।

মাহিন
মাহিন একজন নিখুঁত অলরাউন্ডার ।বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার না কিন্তু! নানা প্রতিভার অধিকারী অলরাউন্ডার মাহিনের কথা বলছি। মাহিন যেমন ভাল কবিতা আবৃত্তি করে তেমনই ওর ভাল লাগে রচনা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে। অবসরে পড়ে সায়েন্স ফিকশনের বই, ভাল লাগে বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করতে। ভাল লাগার খেলা ক্রিকেট না খেললে কি আর হয়। এই বয়সেই যে কারো সাথে খুবই সাবলীল কথা বলতে পারে সে। তোমরা বল এরপরও কি অলরাউন্ডার না বলে পারা যায়।

মাহিন মাত্র ৫ম শ্রেণীতে পড়ছে। এরই মধ্যে সে আলোর ঝলক বিজ্ঞানবাক্সের সবগুলি এক্সপেরিমেন্ট শেষ করে ফেলেছে। আলোর ঝলকের মজার চশমা, পেরিস্কোপ, বর্ণ চাকতি তার খুব ভাল লেগেছে। আরো ভাল লেগেছে বিজ্ঞানবাক্স ছাড়া রংধনু তৈরির প্রক্রিয়া। এখন সে নতুন বিজ্ঞানবাক্স হিসাবে তড়িৎ তাণ্ডব ব্যবহার করতে চায়। তৈরি করতে চায় নতুন কিছু।

মোঃ মারুফ হাসান মাহিন রংপুর সিটি কর্পোরেশন পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজের ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাহিন ছোট। বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, বাব শিক্ষক, মা একজন গৃহিণী। বিজ্ঞানী হয়ে বানাতে চায় পৃথিবী সেরা রোবট।
অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সের পক্ষ থেকে মাহিনের জন্য শুভ কামনা। তার তৈরি রোবট হোক পৃথিবী সেরা।
আমাদের দেশের হাজারো শিশুর মনে রয়েছে এমন হাজারো স্বপ্ন। স্বপ্নগুলো সব সত্য হোক এই প্রত্যাশায় সকল ক্ষুদে বিজ্ঞানীর জন্য বিজ্ঞানবাক্সের পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল।

আরও পড়তে  পারেন- শিশুর মানসিক সমস্যা ও সমাধানের উপায়

87 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment