Show Categories

মৌমাছি  না থাকলে পৃথিবীতে, মানবজাতি কতদিন টিকবে?

মৌমাছি

ছোট্ট একটা পতঙ্গ মৌমাছি । কিন্তু মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে এই ছোট্ট পতঙ্গটির রয়েছে অনেক বিশাল অবদান। চলো জানি, আমাদের টিকে থাকায় মৌমাছির অবদান কতটুকু!

একটা পৃথিবীর কথা কল্পনা করো তো! যেখানে কোন ফলমূল নেই, কোন ফুল নেই, নেই কোন শাক-সবজি! এই পৃথিবীটা কিসের মত হবে? সেই পৃথিবীতে কি আমরা টিকে থাকতে পারবো?

মৌমাছি যদি না থাকে তাহলে পৃথিবীর ৭০ শতাংশ প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজি আর নতুন করে জন্ম নিবে না! নতুন করে জন্ম না নিলে একটা সময় পর আমরা নতুন কোন বীজ পাবো না। আর বীজ না পেলে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে অনেক প্রজাতির গাছ বিলিন হয়ে যাবে! দেখা দিবে অক্সিজেন সংকট। পুরা ফুড চেইনের বিশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডল।

আমাদের পৃথিবীর একতৃতীয়াংশ খাবারের যোগানে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রয়েছে মৌমাছির। গবেষণা বলছে, পৃথিবীর সর্বশেষ মৌমাছিটি মারা যাওয়ার ঠিক তিন মাসের মধ্যে সারাবিশ্বের ফুড চেইন পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে পড়বে, বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে। আমরা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ খাবারই হাতের নাগালে পাবো না। বলা হচ্ছে, তখন অনেক দামি হিরা, জহরতের চেয়ে খাবারের দাম বেশি থাকবে। আর, একসময় আমাদের সংরক্ষণ করা খাবারও শেষ হবে! শুধুই কী খাবার? মৌমাছি না থাকলে আমরা কোন ধরণে কটন সমৃদ্ধ জামা-কাপড়ও তৈরি করতে পারবো না। কারণ মৌমাছি না থাকলে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম কাঁচামাল তুলা কখনো উৎপন্ন হবে না। ফলে আমাদেরকে আবার আগের যুগের মানুষের মত গাছের ছাল-বাকলকেই জামা কাপড় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, খাবারের সংকট দেখা দিবে। একসময় হয়তো আমাদের পৃথিবী আর বসবাস উপযোগী থাকবে না। মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহের মতো মানুষ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

পৃথিবীতে মৌমাছির এত অবদান? কীভাবে? চলো জানি।

পরাগায়ন সম্পর্কেতো তোমরা জানো? তাও শুনো-অনেক ধরণের ফুল বা ফল হওয়ার জন্য বা ফুল থেকে ফলে পরিণত হওয়ার জন্য ফুলের পরাগরেণুকে (প্রজননের উপাদান) ফুলের গর্ভমুন্ডে এসে পড়তে হয়। পরাগরেণু গর্ভমুন্ডে আসলেই ফল, ফুল ইত্যাদি পরিপূর্ণ হয়ে গড়ে উঠে। এই প্রক্রিয়াকেই মূলত পরাগায়ন বলে।

পরাগায়ন দু-ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো স্ব-পরাগায়ন ও আরেকটি হলো পর-পরাগায়ন। দুটো নাম-দেখেই কিন্তু অনুমান করা যায় প্রক্রিয়াগুলো কেন আলাদা বা প্রক্রিয়াগুলোর কাজ কেমন।

স্ব মানে নিজ। তাহলে স্ব-পরাগায়ন মানে যে নিজে নিজে পরাগায়ন সম্পন্ন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত থাকে পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড একই ফুলের বা একই গাছের হতে হবে। তাহলে তারা নিজেরা নিজেদের পরাগায়ন করতে পারবে। কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হবে না।

আর পর-পরাগায়ন মানে হলো যেখানে পরাগায়ন সম্পন্ন হতে অন্যের সাহায্য লাগে। যেমন মৌমাছি, বাতাস বা অন্যান্য পোকামাকড়। এই প্রক্রিয়াতেই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। বাতাসের মাধ্যমে পরাগরেণু উড়ে গিয়ে অন্য কোন ফুলের গর্ভমুন্ডে পড়লে সেখানে নতুন ফল বা ফুল উৎপন্ন হয়। কিংবা পোকামাকড় একটা ফুলের উপর বসলে ফুল থেকে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে বা মুখে পরাগরেণু লেগে যায়, পরে আবার উড়ে উড়ে অন্যকোন ফুলের উপর বসলে পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুন্ডে পড়ে। পড়লে সেখানে ফল বা ফুল উৎপন্ন হয়।

কিন্তু পর-পরাগায়নেতো শুধু মৌমাছির অবদান নাই, অবদান আছে বাতাস ও অন্যান্য পোকামাকড়েরও। মৌমাছির কথা কেন এত বেশি বলছি।

কারণ বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়নের জন্য পরাগরেণুকে উড়ে গিয়ে গর্ভমুন্ডে পড়তে হয়। এবার ভাবোতো, বাতাসের মাধ্যমে কয়টা পরাগরেণু গর্ভমুন্ড খুঁজে পাবে?

এবার আসো অন্যান্য পোকামাকড়। তারা সরাসরি ফুলের উপর গিয়ে বসে না। তারা লতাপাতা, ডালপালা ইত্যাদির উপরে গিয়ে বসে, ফলে তাদের দ্বারা পরাগায়ন হওয়ার পরিমাণও অনেক অনেক কম।

কিন্তু মৌমাছি কী করে বলোতো?

হ্যাঁ, মৌমাছির কাজই হচ্ছে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানো। কারণ তারা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সবসময়। ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি ফুলে ফুলে ঘোরে। তারা ফুলে ফুলে ঘুরলেই আমাদের জন্য খাবার তৈরি হয়। ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায় পৃথিবী।

পৃথিবী গোল নাকি সমতল? জানতে চাও?

620 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment