Show Categories

কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানও যৌন নিপীড়ন-এর শিকার কি না?

যৌন নিপীড়ন

যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে তো আমরা ইতোমধ্যে অনেক কিছুই জেনেছি। কীভাবে সাবধান করতে হবে? কীভাবে সচেতন করতে হবে? কীভাবে সন্তানকে এই অপচ্ছায়া থেকে রক্ষা করতে হবে? কিন্তু আমরা কীভাবে বুঝবো আমাদের সন্তান যৌন নিপীড়নের মতো কোন বিকৃত আচরণের শিকার হয়েছে কি না? আপনার যে ছোট্ট সন্তানটি আধো আধো বুলিতে কথা বলতে শিখেছে কেবল, সেতো আর যৌন নির্যাতনের সাথে পরিচিত না। তার সাথে এমন কিছু ঘটলে সে তা হয়তো বুঝতেও পারবে না। আপনাকে বলতেও পারবে না। কিন্তু কষ্টদায়ক কথা হলো, এমন ঘটনা আপনার কিংবা আমার নিষ্পাপ সন্তানের সাথে ঘটা অস্বাভাবিক কিছু না।

আরো পড়ুন-যৌন নির্যাতন সম্পর্কে ৭ টি প্রচলিত মিথ।

শিশু যৌন নিপীড়ন-এর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সচরাচর ঘটে। নিপীড়ক শিশুদের ভয় দেখায়। ভয়টা দু-ধরণের হয়ে থাকে। নিপীড়ক তার বিকৃত কার্যসিদ্ধির পরে “কাউকে বললে মেরে ফেলবে” বলে শিশুকে হুমকি ও ভয় দেখায়। শিশু মনে এই ভয়টা খুব দ্রুতই জেঁকে বসে। পরিবারের প্রতি শিশুর মনে ওভাবে ভরসা তৈরি না হলে শিশুটি আর এই ঘটনার কথা কাউকে বলে না। নিপীড়ক শিশুকে আরেকটা ভয় দেখায়। তা হলো বাবা-মার ভয়! হ্যাঁ, আপনার ভয়। “এই ঘটনার কথা যদি তুমি বাবা-মাকে বা অন্য কাউকে বলো তাহলে বাবা/মা তোমাকে অনেক মারবে” এভাবেই ভয়টি শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেয় নিপীড়ক। আর আপনার সন্তান যদি কড়া শাসনের মধ্যে বড় হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভয়টাও শিশুর মনে জেঁকে বসে। ফলে আপনার সন্তানের সাথে এমন কিছু ঘটলে সেটা জানার উপায় আর আপনার হাতে থাকে না।

তবে শিশু যৌন নিপীড়ন-এর শিকার হওয়ার পর তার মাঝে আচরণগত, শারীরিক ও আবেগজনিত কিছু পরিবর্তন আসে। যেগুলো একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সন্তানের সাথে খারাপ কিছু ঘটেছে কি না। সেসব পরিবর্তন বা লক্ষণ নিয়েই আমাদের আজকে ব্লগ।

আচরণগত পরিবর্তন

যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর শিশুর আচরণে চোখে পড়ার মতো বেশ কিছু পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়।

  • আচরণ খুব দ্রুত ও হুটহাট পরিবর্তন হবে। হাসিখুশি থেকে হুট করেই চুপচাপ হয়ে যাবে। আতঙ্কিত হয়ে যাবে।
  • একা থাকতে ভয় পাবে। সাধারণত কিছু শিশু এমনিতেই একা থাকতে ভয় পায়। কিন্তু যারা সাধারণত একা থাকতে ভয় পায় না তাদের সাথে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটার পর থেকে একা থাকার ভয়টা কাজ করতে শুরু করে।
  • নির্দিষ্ট স্থান ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভয় পাবে। সেই স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করবে। ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেখলে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যাবে, পালিয়ে যেতে চাইবে, সামনে আসতে চাইবে না। অনেকক্ষেত্রে এমন হয়, আগে যে ব্যক্তিকে খুব পছন্দ করতো, হুট করে তার প্রতিও ভয় কাজ করতে শুরু করবে।
  • স্পর্শ ভয় পেতে শুরু করবে। এমনকি বাবা-মার স্পর্শও ভয় পাবে।
  • স্কুলের ফলাফলের উপরও একটা প্রভাব পড়বে। রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করবে।
  • শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলোকে নিয়ে নিজে নিজে অতিরিক্ত খেলবে। বেশি বেশি স্পর্শ করবে। সমবয়সী কেউ থাকলে তারটা স্পর্শ করতে চাইবে। শরীরের ব্যক্তিগত অংশগুলোর প্রতি কৌতূহল বাড়বে। এমনি ব্যক্তিগত অংশগুলো নিয়ে বাবা-মাকে প্রশ্নও করে ফেলতে পারে। অনেক বাচ্চা সাধারণতভাবেই শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গ নিয়ে খেলা করে থাকে। তবে আপনি যদি আপনার সন্তানের স্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাহলে পরিবর্তনটা আপনার চোখে ধরা পড়বে।

শারীরিক পরিবর্তন

যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের মাঝে কিছু শারীরিক পরিবর্তনও দেখা যাবে। একটু লক্ষ্য করলেই তা আপনি ধরতে পারবেন। সাধারণত খুব বাজেভাবে নিপীড়নের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তনগুলো আপনার চোখে পড়বে। মলেস্টেশনের ক্ষেত্রে সরাসরি কোন শারীরিক পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু আচরণগত পরিবর্তন ও আবেগজনিত পরিবর্তনগুলো চোখে পড়বে।

  • ঘুমানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিবে। অনিয়মিত হয়ে পড়বে। নিদ্রাহীনতায়ও ভোগে অনেকেই। ঘুমের মধ্যে মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে জেগে উঠবে।
  • হাঁটতে, বসতে সমস্যা হবে। কিছুটা অস্বাভাবিকতা চলে আসবে। শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা আলাদা হবে।
  • শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গগুলোতে ব্যথা অনুভব করবে।
  • স্বাভাবিক শরীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ব্যঘাত ঘটবে। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা নষ্ট করবে মাঝে মাঝে।
  • কারো কারো ভয়ে ও আতঙ্কে পেট ব্যাথা অনুভব হবে।
  • পায়খানা, প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অনুভব করবে।
  • শুরুর দিকে জামা কাপড়ে রক্ত দেখা যাবে।

আবেগজনিত পরিবর্তন

শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হলে শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু আবেগজনিত সমস্যায়ও পড়বে। এই লক্ষণগুলো বোঝার জন্য আপনাকে একটু ভালোভাবে শিশুর আবেগের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে হবে।

  • পারিবারিক আড্ডা থেকে হুট করেই নিজেকে সরিয়ে নিবে।
  • পরিবারের মানুষজনদের সামনে ভয় ও লজ্জা পেতে শুরু করবে। যেখানে আগে সে অনেক বেশি আমুদে ছিলো, যে মানুষের সাথে অনেক মিশুক ছিলো তাদের কাছ থেকেও হুটহাট কোন কারণ ছাড়াই দূরে সরে যাবে।
  • কেউ কেউ খুবই ধ্বংসাত্মক আচরণ করবে। নিজেকে শারীরিক আঘাত করবে ও কেউ কেউ আত্মহত্যার চিন্তাও করবে।
  • যে শিশু আগে অনেক হাসিখুশি ছিলো সে চুপ হয়ে যাবে। কোন কারণ ছাড়াই টানা কান্নাকাটি করবে।
  • খুব সামান্য কোন বিষয়ে অনেক বেশি বিরক্তি দেখাবে।
  • মাঝে মাঝে অকারণে রেগে যাবে।

আপনার সন্তানের মাঝে উপরের পরিবর্তনগুলো প্রকাশ পেলে তার সাথে কথা বলুন। তার ভয় ও পরিবর্তনের কারণ জানতে চান। সন্তান আপনার উপর ভরসা করতে পারলে অবশ্যই যৌন নিপীড়ন-এর বিষয়ে আপনাকে সবকিছু খুলে বলবে।

বিজ্ঞানবাক্স হতে পারে আপনার সন্তানের মিনি সায়েন্স ল্যাব। অনলাইনে বিজ্ঞানবাক্স অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন।

225 total views, 6 views today

What People Are Saying

Facebook Comment