Show Categories

হাড্ডি আপনার মাংস আমার-সেই দিন কি আর এখন আছে?

শাস্তি

বিভিন্ন সময়ে ছোট খাটো ভুল বা অপরাধের জন্য বাবা-মা বা শিক্ষকরা শিশুদেরকে অনেক ধরণের শাস্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই শাস্তির উদ্দেশ্য আসলে কী থাকে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুই থাকে না। বেশিরভাগ মানুষই ভুল করার জন্য শাস্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু সন্তান শাস্তি থেকে কিছু শিখলো কী না? শাস্তি পাওয়ার পরও একই ভুল বারবার করছে কি না? এই বিষয়গুলো ভেবে দেখা হয় না। আজকে আমরা ভেবে দেখবো সেসব। সন্তানকে শাস্তি দেয়ার আগে শাস্তি ফলপ্রসূ হচ্ছে কি না তা ভাবার জন্য নিজেরাই নিজেদের কিছু প্রশ্ন করবো!

তবে তার আগে আরো দুটো কথা বলি। সন্তানকে শাসন করার ক্ষেত্রে মারধোর করা বা গায়ে হাত দেয়া একদমই ঠিক নয়। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই সম্পর্কিত ব্লগটি পড়ে নিন এখান থেকে

শাস্তি বিষয়টিকে চাইলেই অনেক শিক্ষণীয় করা যায়। মানে, সন্তান শাস্তি ঠিকই পাবে তবে তা হবে দারুণ কোন এক শিক্ষা। এমন বেশ কিছু সৃজনশীল শাস্তি সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

এবার আসি, সন্তানকে শাস্তি দেয়ার আগে আপনি নিজেকে কী প্রশ্ন করবেন তা নিয়ে।

এই শাস্তিটি আপনার সন্তানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে?

আপনি সন্তানকে যে শাস্তিটি দিচ্ছেন সেই শাস্তির ফলে সে সামনের সময়গুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কি না; তা ভেবে দেখা জরুরী। শাস্তিটি দেয়ার কারণ তাকে বোঝাতে পেরেছেন কি না? তাও ভেবে দেখতে হবে।

যে আচরণের জন্য শাস্তি দিচ্ছেন সেটা ঠিক হয়ে যাবে তো?

শাস্তিটা আসলে তার কোন নির্দিষ্ট আচরণের জন্য দিচ্ছেন সেটা তাকে বুঝিয়ে বলাও জরুরী। এতে সে তার আচরণটি নির্দিষ্ট করতে পারবে ও ভবিষ্যতে ওই আচরণ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারবে।

শাস্তি দেয়ার সময় অতিরিক্ত রেগে যাচ্ছেন না তো?

এই কথা সত্য যে, রাগের বহিঃপ্রকাশই মূলত শাস্তি। এক্ষেত্রে একটা বিষয় খেয়াল রাখা উচিত, নিজের রাগ প্রশমিত করার জন্য শাস্তি না দিয়ে সন্তানের শেখানোর জন্য শাস্তি দিতে হবে। শিশুরাতো ভুল করবেই! শাস্তিটি হোক ভুল শুধরে দেয়ার জন্য!

শাস্তি দিতে গিয়ে সন্তানকে অপমান-অপদস্ত করছেন না তো?

ছোট হলেও মান-অপমান বোধ সবারই কিছুটা থাকে। খেয়াল রাখবেন শাস্তি দিয়ে গিয়ে যেন সন্তানকে অপমানিত না করেন। বিশেষ করে সন্তানকে হেয় করে কথা বলা, পরিচিত কিংবা অপরিচিত কিংবা পরিবারের বাইরের কারোর সামনে সন্তানকে শাস্তি দেয়াটা ঠিক নয়!

শাস্তির পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা কমছে কি না?

সন্তানের একটি অগ্রহণযোগ্য আচরণের জন্য যদি সন্তানকে শাস্তি দেন তাহলে পরে সে আর একই আচরণ না করারই কথা! তাহলে তো দিনদিন শাস্তির পরিমাণে কমে যাওয়ারও কথা! আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে কি? যদি না হয় তাহলে ভেবে দেখুন, কেন শাস্তিটি ফলপ্রসূ হচ্ছে না!

শাস্তি কি সাথে সাথে দিয়ে দিচ্ছেন?

সাধারণত সন্তান কোন একটি ভুল করলেই আমরা সাথে সাথে তাকে ধমক দেই কিংবা কখনো কখনো গায়ে হাত তুলি। এতে সত্যিকার অর্থে সন্তানকে আপনি সঠিক বার্তাটি দিতে পারবেন না। হয়তো সে বুঝবেই না, শাস্তিটি তাকে কেন দেয়া হলো! সেক্ষেত্রে একটু সময় নিয়ে সন্তানের ভুলটিকে নির্দিষ্ট করে তাকে ভুলটি ধরিয়ে দিন। এবং নিজেকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

শাস্তিটি নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে না তো?

“স্যার, মাংস আপনার হাড্ডি আমার” খুবই পরিচিত একটি বাক্য না? এই বাক্যটিকে আপনার কাছে নিষ্ঠুরতা মনে হচ্ছে না? হ্যাঁ, এটা নিষ্ঠুরতাই, একই সাথে অমানবিকও। সন্তানের শিক্ষক হোক কিংবা আপনি হোন না কেন, শাস্তিকে কোন ভাবে নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নেয়া যাবে না। এমনকি শিশুদের শারীরিক আঘাত করা কোনভাবেই যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ হয় না! এ বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখুন।

সন্তানকে যৌক্তিক কারণে শাস্তি দিচ্ছেন তো?

অনেক সময় হয় না, কোন কারণে মেজাজ খারাপ। এমন সময়ে সন্তান খুবই নিরীহ একটা ভুল করে বসছে। আর ওমনি সন্তানকে দিয়ে দিলেন বড় কোন শাস্তি! সন্তানের সাথে এমন আচরণ কোনভাবেই করা যাবে না। শাস্তির সঠিক কারণ ও সঠিক মাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা করুন।

কেমন হয়, যদি আপনার সন্তানের একটি ল্যাবরেটরি থাকে? যদি সে নিজেই বানাতে পারে সায়েন্স প্রজেক্ট? শিশুদের জন্য এমন সব দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে বিজ্ঞানবাক্স।  বাংলাদেশের একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

74 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment