Show Categories

শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব ও বাবা-মার করণীয় (১ম পর্ব)

শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব-Bigganbaksho

“বাচ্চাকে টেলিভিশনের সামনে থেকে সরানো যাচ্ছে না” সন্তানকে নিয়ে এখনকার দিনে অধিকাংশ বাবা-মায়ের নিয়মিত অভিযোগ। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে টেলিভিশন একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে। কেউ বলছে টেলিভিশন শিশুদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে আবার কেউ বলছে টেলিভিশন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু টেলিভিশনের নেতিবাচক ও ইতিবাচক দু-ধরণের প্রভাবই রয়েছে। বিজ্ঞানবাক্স ব্লগের দুই পর্বের ধারাবাহিক সিরিজে আমরা শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব ও বাবা-মার করণীয় সম্পর্কে জানবো। প্রথম পর্বে জেনে নিন, শিশুদের উপর টেলিভিশনের ইতিবাচক প্রভাব।

টেলিভিশনের ইতিবাচক প্রভাব
টেলিভিশনে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে অনেক। শিশুর জন্য যদি সঠিক টিভি প্রোগ্রাম নির্বাচন করা যায় তাহলে শিশু অনেক ভালো কিছু শিখতে পারবে। তার জানার পরিসর, ভাবনা ও সৃজনশীলতা বাড়াবে। চলুন টেলিভিশনের তেমনই কিছু ইতিবাচক প্রভাব জেনে নিই।

শিক্ষণীয় অনুষ্ঠান
মীনা কার্টুনের কথা আমাদের অনেকেরই মনে থাকার কথা। স্বাস্থ্যবিধি জানা থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়ের ব্যবধান দূরীকরণ ও সামাজিক অনেক অসঙ্গতি দূরীকরণে অনেক প্রভাব রেখেছে মীনা কার্টুন। ছোটবেলায় আমাদের মনোজগৎ সমৃদ্ধ করা ও মানবিক চিন্তার গুণাবলি অনেক কিছুতে মীনা কার্টুনের প্রভাব রয়েছে। এরপর আছে “সিসিমপুর”। শিকু, ইকরি, হালুম আর টুকটুকি মজায় মজায় শেখায় অনেক কিছু। এখন ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে জনসচেতনতামূলক নাটক স্বপ্নডানা প্রচারিত হয় বিটিভি ও দুরন্ত টিভিতে। এরপর রয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক নানা চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, হিস্ট্রোরি, ডিসকভারী। এমন অনেক শিক্ষণীয় চ্যানেল ও অনুষ্ঠান আছে যা শিশুদেরকে অনেক কিছু শেখায় ও তাদের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

খেলাধুলা
শিশুদেরকে খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী করে তোলার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে টেলিভিশন। ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ইত্যাদি বিভিন্ন খেলা দেখার ফলে শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এর ফলে বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করার মাধ্যমে তার শারীরিক ব্যায়াম, সামাজিকতা ও সৃজনশীলতা বাড়ে। তাছাড়া যেসব ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকে তারা অনেক তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে থাকে।

বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্ক জানে
ড্রয়িং রুমে বসেই টেলিভিশনের কল্যানে অন্য দেশের অনেক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায় অনেক সহজেই। এর মাধ্যমে শিশুরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও তাদের শিক্ষার কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে। শুধুমাত্র শিশুদের জন্য সঠিক অনুষ্ঠান বাছাই করার মাধ্যমেই আমরা শিশুদের জানার পরিসর বাড়িয়ে দিতে পারি। তাদের ভেতর আরো বেশি বেশি জানার আগ্রহ তৈরি করতে পারি।

অনুপ্রেরণা যোগায়
এখন অনেক শিশুই আছে যারা বড় হয়ে সাকিব আল হাসান হতে চায়। ইলন মাস্কের কথা জেনে অনেকে হতে চায় ইলন মাস্কের মতো স্বপ্নবাজ। কিংবা টিভিতে বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখে অনেকে হতে চায় দেশ সেরা বিতার্কিক। কোন বিজ্ঞানীর জীবনী নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখে কেউ কেউ তেমন বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন লালন করে। এভাবেই টেলিভিশন বিভিন্নভাবে শিশুদের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগায়। কিন্তু সেজন্য শিশুদের জন্য পছন্দের অনুষ্ঠানটি পছন্দ করতে হবে।

নতুন তথ্য সম্পর্কে জানে
পৃথিবীর কোন প্রান্তে নতুন কোন আবিষ্কার হয়েছে তা টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারা যায়। সুদূর ফ্রান্স থেকে মহাকাশে গিয়েছে আমাদের একমাত্র স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। টেলিভিশনের মাধ্যমে শিশুরা এই তথ্য সম্পর্কে জেনেছে। আরো আগ্রহী হয়ে জেনে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু-১ এর টুকিটাকি সম্পর্কে। আরেকটু কৌতুহলী কেউ জেনে নিচ্ছে ইলন মাস্ক ও তার জ্বালানী বিহীন গাড়ির কম্পানি টেসলা সম্পর্কে। এভাবে সন্তানেরা তথ্য সমৃদ্ধ থাকে ও পৃথিবীর নতুন নতুন অনেক কিছু সম্পর্কে জানে।

শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব দুই ভাবে পড়ে। ইতিবাচক প্রভাব ও নেতিবাচক প্রভাব। সেজন্য নেতিবাচকভাবে পড়া শিশুদের উপর টেলিভিশনের প্রভাব ও বাবা-মার করণীয় সম্পর্কে জানবো আগামী পর্বে

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

534 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment