Show Categories

শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন; আপনার সন্তানকে সচেতন করছেন তো?

শিশুদের যৌন নিপীড়ন

শিশুদের যৌন নিপীড়ন বা যৌন হয়রানি; শব্দগুলো কেমন যেন! শিশুর মতো নিষ্পাপ, পবিত্র আর অনিন্দ্য সুন্দর শব্দের সাথে নিপীড়ন শব্দটাই অনেক মন খারাপ করাও বেমানান, সেখানে শিশুদের সাথে এমন ঘটনা ঘটলে তা কতটা মন খারাপের, নিষ্ঠুর আর অমানবিক কাজ হতে পারে তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর এক জরিপে দেখা গেছে ২০১৮ সালে শিশু যৌন নির্যাতনের সংখ্যা ৭৭টি, শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ৩৪৫ টি, শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ৫৩টি। এগুলো কোনভাবে না কোনভাবে প্রকাশিত। কিন্তু বাস্তবে শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা আরো অনেক অনেক বেশি।

আপনার যে ছোট্ট সোনামণি আধো আধো বুলিতে কথা বলতে শিখেছে কেবল, সেতো আর যৌন নির্যাতনের সাথে পরিচিত না, তার সাথে এমন কিছু ঘটলে সে তা হয়তো বুঝতেও পারবে না। আপনাকে বলতেও পারবে না। কিন্তু কষ্টদায়ক কথা হলো, এমন ঘটনা আপনার কিংবা আমার নিষ্পাপ সোনামণির সাথে ঘটা অস্বাভাবিক কিছু না।

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ৪ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে ১ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৬ জনে ১ জন। চাইল্ড অ্যাডলসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রির সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদের এক গবেষণা বলছে আরো ভয়ংকর তথ্য। সেখানে দেখা গেছে প্রায় ৭৫ শতাংস শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয় পরিবারের ঘনিষ্ঠটজন ও আত্মীয় স্বজনের দ্বারা। হজম করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য, শিশুদের যৌন নিপীড়ন এর মতো কাজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাছের মানুষদের দ্বারাই হয়ে থাকে। এই নির্যাতনগুলো খুবই সূক্ষ্ম; শিশুকে আদর করার ছলে অনেকেই নিজেদের বিকৃত ইচ্ছা মিটিয়ে নেয়। যেটা হয়তো আমার কিংবা আপনার চোখে খুব একটা ধরা পড়ে না।

শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন এর প্রভাব 

শৈশবের সুন্দর সময়টাতে বিকৃত রুচির কারো দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া শিশুর মনোজগতে বিশাল ও কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। ভয় পাওয়া, অবসাদে ভোগা, ধীরে ধীরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়ে তারা। অনেক শিশু এমন ঘটনার প্রভাবে পরিণত বয়সে নিজেই একজন নিপীড়ক হয়ে উঠে। অনেকে ভয়াবহ মানসিক ট্রমায় ভোগে। এই ট্রমা থেকে বের হতে পারে না অনেকে, বয়ে বেড়ায় সারা জীবন।

যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষায় কীভাবে আপনার সন্তানকে সচেতন করবেন?

শিশুদের যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা করার জন্য আপনার সচেতনার পাশাপাশি সচেতন করতে হবে আপনার সন্তানকেও। শিশুরা কীভাবে যৌন নিপীড়ন চিহ্নিত করবে? নিপীড়নের শিকার হলে কী করবে? এমন স্পর্শকাতর বিষয় আপনি কীভাবে তাকে বোঝাবেন? চলুন জেনে নিই সেসব।

শরীরের স্পর্শকাতর অংশ সম্পর্কে তাকে ধারণা দিন

আমাদের শরীরের একান্ত ব্যক্তিগত অংশগুলো সম্পর্কে আপনার সন্তানকে ধারণা দিয়ে দিন। গোপনাঙ্গ ছাড়াও ঠোঁট, উরু, বুক ইত্যাদি অঙ্গগুলো তার ব্যক্তিগত। শরীরের এই সব ব্যক্তিগত অংশে সে নিজে ছাড়া অন্য কারো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ক্ষতিকারক এমন ধারণা তাকে আগে থেকেই দিয়ে রাখুন।

ব্যক্তিগত অঙ্গ কারা স্পর্শ করতে পারবে?

তাদের শরীরের এইসব অঙ্গ ব্যক্তিগত হলেও কেউ কেউ তাদের এই অঙ্গগুলো বিশেষ সময়ে স্পর্শ করতে পারবে। কে কে পারবে? কখন কখন পারবে? এই বিষয়গুলোও তাকে জানান। গোসল করানোর সময় বাবা বা মা তার এই অঙ্গগুলো স্পর্শ করতে পারবে। কোন ধরণের অসুস্থতার সময় স্পর্শ করতে পারবে। অসুস্থতার সময় ডাক্তারও তার এইসব অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে, কিন্তু তাও বাবা-মা বা কোন অভিভাবকের উপস্থিতিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন।

সন্তানের ভরসার জায়গা হোন

উপরের বিশেষ মানুষ ও বিশেষ সময় ছাড়া কেউ যদি তার এই অঙ্গগুলো বাজেভাবে স্পর্শ করে তাহলে সে তা আপনাকে জানাবে কি না; এই বিষয়টা আগে আপনি নিশ্চিত হোন। ছোট থেকে শিশুদের সাথে বিশ্বাসের বন্ধন গড়ে তুলুন, খোলামেলা আলোচনা করুন। তাদেরকে শেখান তারা যেন সবকিছুই আপনার সাথে শেয়ার করে, আপনি সবসময় তাদের জন্য বন্ধুর মত আছেন এই ভরসা তারা যেন করতে পারে। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে বা একাকী কোন সময় কেউ যদি বলে তার সাথে গেলে চিপস, চকলেট দিবে, এমন কোন লোভ দেখায় বা শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গে স্পর্শ করতে চায় তারা যেন বাসায় ফিরে সাথে সাথে তা আপনার সাথে শেয়ার করে।

এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সে কী করবে?

আপনি সন্তানের খেয়াল রাখেন সবসময়। কিন্তু একজন নিপীড়ক যখন আপনার সন্তানকে টার্গেট করবে সে কিন্তু আপনার সামনে নিপীড়ন করবে না। সে সুযোগ খুঁজবে। পারিবারিক ঘনিষ্ঠজন হলে, আত্মীয়স্বজন হলে হয়তো একজন নিপীড়ক সেই সুযোগটা পেয়েও যাবে। আপনার সন্তান এমন পরিস্থিতিতে পড়বে তার ঢাল হিসেবে ৪ টা অস্ত্রের কথা জানিয়ে রাখুন।

১। না বলা
২। চিৎকার করা
৩। দৌঁড়ে চলে আসা
৪। বাবা-মাকে জানানো

কেউ যদি তার ব্যক্তিগত অঙ্গ বাজেভাবে স্পর্শ করে কিংবা কারো আদর (চুমু দেয়া, জড়িয়ে ধরা, পিঠ চাপড়ানো ইত্যাদি) যদি তার কাছে অস্বস্তিকর লাগে তাহলে সে যেন সেখান থেকে দৌড়ে তার বিশ্বস্ত কারো কাছে চলে আসে। বাসায় হলে কার কাছে যাবে, স্কুলে হলে কার যাবে; এমন কিছু বিশ্বস্ত মানুষের ধারণা আপনি তাকে দিয়ে দিতে পারেন।

যদি সে দৌড়ে সেখান থেকে আসতে না পারে, তাহলে যেন সর্বশক্তি দিয়ে জোরে চিৎকার করে আশেপাশের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সন্তানের অদ্ভুত আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন 

কোন নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে দেখলে ভয় পাওয়া, আতঙ্কিত হওয়া, পালাতে চাওয়া, টিচারের কাছে পড়তে যেতে না চাওয়া; সন্তানের এমন অদ্ভূত আচরণ একটু মনোযোগের সাথে খেয়াল করুন। অবহেলা না করে, সে এমন আচরণ কেন করছে তা জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কেন ভয় পাচ্ছে? ওই ব্যক্তিটি তাকে কিছু করেছে কি না। তাকে ধমক না দিয়ে, ভয় না দেখিয়ে তার কথাগুলো শুনতে চান। মনে রাখবেন, শিশুদের যৌন নিপীড়ক আমাদের আশেপাশের মানুষেরাই।

এছাড়া আপনি এই সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়তে পারেন ও ভিডিও দেখাতে পারেন বাচ্চাদের। প্রতি ছয়মাস বা একবছর পরপর করতে পারেন বিশেষ ওয়ার্কশপ। বলিউড তারকা আমির খানের করা একটা দারুণ ওয়ার্কশপ আছে শিশুদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে। দেখে নিতে পারেন ভিডিওটি

আপনার সন্তানের শৈশব সুন্দর ও আনন্দময় হোক। সেখানে না থাকুক কোন কালো ছায়া।

আপনার সন্তানের বিজ্ঞান শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার জন্য তাকে বিজ্ঞানবাক্স দিন।

 

#mc_embed_signup{background:#fff; clear:left; font:14px Helvetica,Arial,sans-serif; }
/* Add your own Mailchimp form style overrides in your site stylesheet or in this style block.
We recommend moving this block and the preceding CSS link to the HEAD of your HTML file. */

নিয়মিত এমন কন্টেন্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

* indicates required
0-3
4-7
8-10
11-12
13-15
15+

(function($) {window.fnames = new Array(); window.ftypes = new Array();fnames[2]=’MMERGE2′;ftypes[2]=’dropdown’;fnames[1]=’FNAME’;ftypes[1]=’text’;fnames[0]=’EMAIL’;ftypes[0]=’email’;fnames[4]=’PHONE’;ftypes[4]=’phone’;fnames[5]=’MMERGE5′;ftypes[5]=’text’;}(jQuery));var $mcj = jQuery.noConflict(true);

256 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment