শিশুর খাবার; শিশুকে সবজি খাওয়ান ৬ টি সহজ পদ্ধতিতে

শিশুর খাবার

বাচ্চারা এমনিতে খেতে চায় না! তার উপর যদি সবজি খেতে দেয়া হয় তাহলেতো তারা তাকাতেই চায় না। কিন্তু সব বাবা-মা’ই চান তাদের সন্তান সুস্থ ও সবল থাকুক। শিশুর সুস্থ থাকার জন্য শিশুর খাবার স্বাস্থ্যকর হওয়া প্রয়োজন। আচ্ছা ১০ জন মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সুস্থ থাকার জন্য শিশুর খাবার কী কী হওয়া উচিত? বলুন তো, তারা সবচেয়ে বেশি কোন কোন জিনিসের কথা বলবে? ঠিকই ধরেছেন, তারা সবাই একবাক্যে সবুজ শাকসবজির কথাই বলবে। তাতো বুঝলেন! কিন্তু সমস্যাটা বাঁধে সন্তানকে সবজি খাওয়াতে গেলেই। সবজি খাওয়ার বিষয়ে তার যত অনীহা। এই চিন্তা আপনার ঘুম হারাম করে দিচ্ছেতো? তাহলে চলুন সন্তান সবজি খেতে চায় না এই চিন্তা একপাশে রেখে শিশুর জন্য আঁটি আঁটি শাক-সবজি ও ফলমূল কিনুন আর খাওয়ানোর বুদ্ধি আঁটুন বিজ্ঞানবাক্স ব্লগের সাথে।

সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া কেন জরুরী?
বাজারে শিশুদের জন্য প্রক্রিয়াজাত যে সব খাবার পাওয়া যায় সেখান থেকে যদি জাংক ফুড ছাড়া দু-একটা খাবারের নাম বলতে বলা হয়! পারবেন? আমিও পারবো না। কিন্তু বাধ্য হয়ে এইসব আমাদের খেতে হয়, খাওয়াতে হয়। সত্য কথা বলতে শাকসবজির কোন বিকল্প নাই। আর শাকসবজির পুষ্টি উপাদানের কথা না বললেও চলবে। এইটা আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি। শাকসবজি এক হাতে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে অন্য হাতে রোগ প্রতিরোধ করে। একই সাথে দুটো কাজ, কে করে দেয় আমাদের?1

শিশুকে আঁটি আঁটি শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ানোর অব্যর্থ উপায়
শিশু খেতে চায় না, সে চিন্তায় নিজের খাওয়া বন্ধ করার দরকার নাই। এক কাপ রঙ চা নিয়ে আয়েশ করে বসুন আর জেনে নিন শিশুকে খাওয়ানোর ফন্দি! (ট্রিকস ফলো করে খাওয়াতে হলে তাকে তো আমরা ফন্দিই বলি না কি?)

সন্তানকে সাথে করেই শাকসবজি ও ফলমূল কিনুন
বাজারে অথবা সুপার মার্কেটে শাকসবজি ও ফলমূল কেনার সময় সন্তানকে সাথে করে নিয়ে যান। তাকেই পছন্দ করতে বলুন সবজি ও ফলমূল, যেগুলো সে খেতে চায়। সে নিজের পছন্দ মতো শাকসবজি ও ফলমূল নিলে সেগুলোর প্রতি তার একটা আগ্রহ থাকবে। আর ওইসব রান্না করলে নিজের পছন্দকে ভালো প্রমাণ করতে ইয়াম্মি ভাব নিয়ে পটাপট খেয়ে নিবে। আর মাঝে মাঝে আপনিও সবজি খাওয়ার সময় তার পছন্দের প্রশংসা করতে পারেন।

শিশুর খাবার
শিশুর পছন্দ মত শাকসবজি ও ফল কিনুন
Image-flickr

শিশুর পছন্দের কোন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ান
সন্তান কী খেতে পছন্দ করে? এই প্রশ্নের জবাবে অবধারিতভাবে নুডুলস অনেক উপরের দিকে থাকবে, এখন অনেকেও পাস্তাও খায়। নুডুলস ও পাস্তার রেসিপিতে সবজিও রাখুন। নুডুলস আর পাস্তার মধ্যে অনায়সে গাঁজর, শসা, ফুলবাঁধাকপি ইত্যাদি মিশিয়ে দিতে পারেন। আর সবজির কম্বো করে পরটা দিয়ে রোল বানিয়ে দিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে সন্তান সবজির বাজারে টান লাগিয়ে দিলে আমরা দায়ী থাকবো না।

বেশি বেশি সবজি খান, চিন্তার চাপ কমান
আপনি কিছু করছেন, সন্তান এসে বায়না ধরছে সে ও করবে! এমনতো হয় মাঝে মাঝে? এইটাকে কাজে লাগান। সন্তানের সামনে নিজে ইয়াম্মি ভাব নিয়ে বেশি বেশি সবজি খান। দেখবেন তাকে খাওয়ার জন্য বলা লাগবে না, নিজেই পটাপট খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। আপনার নিজেরও সবজি খাওয়া হলো সাথে সন্তানেরও। ভুলেও জোর করতে যাবেন না! ইতিহাস সাক্ষী আছে, কোন মহাপুরুষও শিশুদেরকে দিয়ে জোর করে কোন কাজ করাতে পারেনি।

সবজি ও ফলের শরবত খাওয়ান, শিশুর শক্তি বাড়ান
শিশু এমনিতে অনেক কিছু খেতে না চাইলেও জুস বা শরবত পেলে ঢকঢক করে গিলে ফেলে। বুদ্ধি করে সবজি ও ফল ব্লেন্ড করে শরবত বানাতে পারেন। শরবত বা জুস বানানোর ক্ষেত্রে সবজি বেশি না দিয়ে ফল বেশি দিন। কিংবা শুধু ঘরে বানানো ফলের জুসও দিতে পারেন। এমনি খেতে না চাইলে জুসের বোতলে ভরেও খাওয়াতে পারেন। এই পদ্ধতিতে খাওয়ানো সহজ অনেকটাই। আর সন্তান খেতে না চাইলে আপনিও খেয়ে ফেলতে পারেন। বাইরের জুসের চেয়ে ঘরের জুস আপনার জন্যও ভালো হবে।

মাঝে মাঝে বৈচিত্র নিয়ে আসুন
মাঝে মাঝে একই রকম একই খাবার খেতে আপনার ভালো লাগে? শিশুদেরও লাগে না। বৈচিত্র আনুন! ভাবছেন, সবজি তো সবজিই! বৈচিত্র আনবো কীভাবে! সবজি আর ফল দিয়েই তাদের বৈচিত্র আনুন। বিভিন্ন নকশা করে সবজি ও ফল কাটুন। নকশি পিঠার মতো করে। কখনো কখনো নতুন নতুন নাম দিন খাবারের। যেমন আপেল আর গাঁজর কেটে নাম দিন আলেপজার অথবা ক্যারটস অ্যাপল কম্বো উইথ টমেটো সস। বিশ্বাস করুন, নাম দেখেই সন্তানের খেতে ইচ্ছে করবে। এভাবে খাবার রেডি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। সন্তানের ক্ষিধা লাগলে তাকে খেতে দিন।

বাড়িতে অথবা ছাদে বাগান করতে পারেন
বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা বাসার ছাদে বাগান করতে পারেন। বাগানের সাথে সন্তানকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। টুকটাক সবজি গাছ, শাক ইত্যাদি লাগালেন। সন্তান নিজে বাগানের যত্ন নিতে নিতে নিজের বাগানের সবজি খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবে। আর ছাদে বাগান করলে, শাইখ সিরাজের ছাদকৃষি অনুষ্ঠানে আপনার বাড়ির ছাদকৃষি দেখাতেও পারে। ছাদ সবুজ থাকলে বসে চা খেতে প্রাকৃতিক একটা আবহ পাবেন। মাঝে মাঝে ছবি তুলে ফেসবুকেও দেয়া যাবে।

সবই তো বুঝলেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন নিশ্চয়ই জাগছে মনে ফরমালিন নিয়ে! শিশুর খাবার ফরমালিন যুক্ত হলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। আপনার এই মুশকিল আসান করার জন্য ফরমালিনমুক্ত ফল খাওয়ার আইডিয়া নিয়ে একটা দূর্দান্ত ব্লগ আমরা আগেই বিজ্ঞানবাক্স ব্লগে দিয়ে রেখেছি। পড়ুন ও শিশুর খাবার আরো স্বাস্থ্যকর করে তুলুন।

শিশুর খাবার
সন্তানের বুদ্ধিতে শান দিতে তাকে বিজ্ঞানবাক্স দিন। বিজ্ঞানবাক্সের সাথে শিক্ষামূলক বইতো থাকছেই।

বাংলাদেশের একমাত্র ও প্রথম সায়েন্স কিট “অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স” কিনতে এখানে ক্লিক করুন।

What People Are Saying

Facebook Comment