Show Categories

শিশুর গ্যাসের সমস্যা? জেনে নিন ৮ টি সহজ সমাধান

শিশুর গ্যাসের সমস্যা- Bigganbaksho

শিশুর গ্যাসের সমস্যা’র কারণে তাদের প্রচুর ভুগতে হতে পারে! এটা শুনে হয়তো আপনি অবাক হতে পারেন। কিন্তু সত্যিটা হলো এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বিভিন্ন কারণে প্রায় সব শিশুর গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু নবজাতকের মুখে অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকে না বলে আমরা অনেকেই তা বুঝি না। আজকে আমরা জেনে নিবো শিশুর গ্যাসের সমস্যা কেনো হয়? শিশু গ্যাসের সমস্যায় ভুগছে কি না? কীভাবে বুঝবেন ও কিছু ঘরোয়া সমাধান।

নবজাতকের কেন গ্যাস হয়?
পেটে গ্যাস হওয়া হজম প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক যুক্ত। তাই বিভিন্ন কারণে শিশুর গ্যাস হতে পারে। চলুন কারণগুলো জেনে নেয়া যাক।
• বোতলের দুধের মুখে ফেনা জমে থাকলে সেই ফেনার মাধ্যমে শিশুর পেটে বাতাস গিয়ে গ্যাস হতে পারে।
• শিশু অতি দ্রুত দুধ খাওয়ার ফলে শিশুর পেটে বাতাস ঢুকার সম্ভাবনা থাকে, ফলে গ্যাস হয়।
• অতিরিক্ত কাঁদার ফলেও পেটে বাতাস যাওয়ার মাধ্যমে শিশুর গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।
• জন্মের পর শিশুর পরিপাকতন্ত্র গঠণ প্রক্রিয়াগত অবস্থায় থাকে। ফলে মায়ের দুধের প্রোটিন ও চর্বি হজমেও কারো কারো গ্যাস হতে পারে।
• শিশুকে অতিরিক্ত খাওয়ানোর ফলেও শিশুর গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
• ফর্মুলা দুধে মিষ্টি বেশি থাকলেও শিশুর গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
• অনেকে অল্প বয়সি বাচ্চাদেরকে জুস খাওয়ায়, ১ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের জুস খাওয়ানোর ফলে গ্যাস হতে পারে।
• বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের ডায়েটে কিছু খাবারের কারণেও শিশুর পেটে গ্যাস হতে পারে। যেমন, কফি, বাদাম, মটরশুটি, পনির, ঘি ও অতিরিক্ত ঝাল।

আরো পড়ূন-জাংকফুডকে না বলুন

শিশু গ্যাসের সমস্যা ভুগছে কি না সেটা বোঝার লক্ষণ
শিশুরা মুখে কোন অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। সেজন্য তাদের শরীরী ভাষা দেখেই বুঝে নিতে হবে সে কোন ধরণের গ্যাসের সমস্যায় ভুগছ কি না!
• চেহারা লালচে হয়ে যাওয়া।
• হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা।
• পা ভাজ করে পেটের কাছে নিয়ে আসা।
• অতিরিক্ত কান্না।
• খাবার গ্রহণের পর শরীর মোচড়ানো
• ঢেঁকুর তোলার সাথে সাথে যদি বায়ু ত্যাগ করে তাহলে বুঝতে হবে শিশুর গ্যাসের সমস্যা।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

গ্যাসের সমস্যা দূরীকরণে সহজ সমাধান
নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা সমাধানে ঘরেই কিছু সহজ প্রাথমিক চিকিৎসা করা যেতে পারে। আসুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

দুধ খাওয়ানোর সময় সঠিক পজিশন মেনে চলতে হবে
দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে এমন ভাবে ধরুন, যেন বাচ্চার মুখ উপরিভাগে ও পেট মুখের চেয়ে নিচের দিকে থাকে। তাহলে দুধ সহজে বাচ্চার পেটে প্রবেশ করবে ও বাতাস বের হয়ে আসবে। বোতলের দুধ খাওয়ানোর সময়ও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

খাওয়ানোর সাথে সাথে ঢেঁকুর তুলতে হবে
শিশুকে টানা অনেকক্ষণ দুধ খাওয়ানো যাবে না। প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর বিরতি দিয়ে বাচ্চার ঢেঁকুর তোলার চেষ্টা করুন। এতে পেটের ভেতরের গ্যাস বের হয়ে যাবে। ঢেঁকুর তোলার জন্য বাচ্চাকে এমনভাবে কাঁধে নিন, যেন তার পেট আপনার কাঁধে থাকে এবং হালকা পিঠ মেসেজ করে দিতে পারেন।

ক্ষুধা লাগলে সাথে সাথে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে
শিশুর ক্ষুধা লাগলে সাথে সাথে খাওয়াতে হবে। সাধারণত ক্ষুধা লাগলে শিশু কান্নার মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। কিন্তু সাথে সাথে যদি তাকে না খাওয়ানো হয় তাহলে সে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদে যেতে পারে। ফলে কান্নার মাধ্যমে পেটে বাতাস ঢোকার ফলে গ্যাস হতে পারে।

গ্যাসের সমস্যা হলে শিশুর পেট মালিশ করে দিতে হবে
শিশুর গ্যাসের সমস্যা দূরীকরণে পেট মালিশ দারুন উপকারী। পেট উপরের দিকে রেখে শিশুকে শুইয়ে দিন এরপর শিশুর পেটে হাত দিয়ে আলতো করে চেপে ঘড়ির কাটার দিকের নিয়ম অনুসারে চক্রাকারে ঘুরাতে হবে। এতে শিশুর গ্যাসের সমস্যা দূর হবে।

বোতলের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু নিয়ম মানতে হবে
অনেকেই শিশুকে বোতলের দুধ খাওয়ান। বোতলের দুধ খাওয়ানোর সময় বোতল ওপুড় করে ধরতে হবে, যেন বোতলের নিপল পুরোপুরি পূর্ণ হয়। নিপল পুরোপুরি পূর্ণ না থাকলে শিশুর পেটে বাতাস যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফর্মুলা দুধ প্রস্তুত করার জন্য ঝাঁকালে বোতলে ফেনা তৈরি হয়। সেজন্য ঝাঁকানোর পর কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে যেন ফেনা চলে যায়।

সরিষার তেল মেসেজ ও কুসুম গরম পানি থেরাপি
শিশুকে হালকা গরম সরিষার তেল লাগিয়ে শরীর মালিশ করে দিলে শিশুর গ্যাস সমস্যা দূর হয়। তাছাড়া হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করালেও গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।

বেবি বাইসাইকেল থেরাপি দিতে পারেন
বেবি বাইসাইকেল থেরাপি দেয়ার জন্য শিশুকে চিৎ করে শোয়াতে হবে এরপর শিশুর পা দুটো উচিয়ে ধরে সাইকেল চালানোর মতো নাড়াতে হবে। এতে শিশুর পেট থেকে গ্যাস বেরিয়ে যাবে।

নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা যদি অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাহলে অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরো পড়তে পারেন-শীতকালে শিশুকে রোগ মুক্ত রাখতে ৮ টি পরামর্শ।

বাচ্চাদের জন্যে সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ উপহার বিজ্ঞানবাক্স

968 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment