শিশুকে কখন থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দিতে হবে? বাড়তি খাবার হিসেবে কোন কোন খাবারগুলো শিশুর জন্য উপকারী? বাড়তি খাবার দিলে কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা আছে কী না? অনেক বাবা-মার মনেই এইসব প্রশ্ন থাকে। গতপর্বে আমরা শিশুকে কখন বাড়তি খাবার দিতে হবে ও বাড়তি খাবার হিসেবে কী কী দেয়া যাবে সেসব সম্পর্কে জেনেছি। আজকে জানবো শিশুকে কী কী খাওয়ানো যাবে না ও কিছু সতর্কতা।

বাড়তি খাবার হিসেবে শিশুকে যে সব খাবার দেয়া যাবে না

মধু
মধু প্রাকৃতিক চিনির উৎস হলেও মধুতে কিছু ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু থাকে। বড় বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এইসব ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিহত করতে পারলেও ১ বছরের কম বয়সি শিশুরা তা পারে না। এইসব ব্যাকটেরিয়া শিশুদের পেটে গেলে পাকস্থলীর সংক্রমণ হতে পারে। তাই ১ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধু না খাওয়ানোই উত্তম।

গরুর দুধ
১ বছরের কম বয়সি বাচ্চাকে বাড়তি খাবার হিসেবে গরুর দুধ না খাওয়ানোই উত্তম। গরুর দুধে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকে, যা ১ বছরের কম বয়সি শিশুর পক্ষে হজম করা কষ্টকর হয়ে যায়। কখনো কখনো ডায়রিয়াও হতে পারে। গরুর দুধের কিছু মিনারেল ১ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের কিডনির জন্য ক্ষতিকর।

সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছে উচ্চ মাত্রায় মার্কারি (পারদ) থাকে, যা ১ বছরের কম বয়সি বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির রেকর্ড থাকলে শিশুকে সামুদ্রিক মাছ না খাওয়ানোই উত্তম। তবে বাচ্চার বয়স ৩ বছর হলে খাওয়ানো যেতে পারে।

বেরি ও রস জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, কালোজাম, কমলালেবু, মালটা, জাম্বুরা ইত্যাদি ফলে প্রচুর ‘ভিটামিন ই’ ও ‘ভিটামিন সি’ থাকলেও ১ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য এইসব ফল ক্ষতিকর হতে পারে। স্ট্রবেরি ও কালোজামে প্রোটিন বেশি থাকায় শিশুর হজম করতে সমস্যা হয়। আঙ্গুর ও কিসমিসও শিশুকে খেতে দেয়া যাবে না। কমলালেবু ও জাম্বুরাতে প্রাকৃতিক এসিড থাকে যার প্রভাবে শিশুর পেট খারাপ হতে পারে। তবে এইসব ফল অল্প পরিমাণে পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

লবণ ও চিনি
শিশুরা খেতে না চাইলে অনেকে খাবারের মধ্যে চিনি অথবা লবন মেশান। এটা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। লবন শিশুর কিডনিতে সমস্যার জন্য দায়ী। আর চিনি শিশুর শরীরের স্থুলতা বাড়িয়ে দেয়। শিশুর জন্য যে পরিমাণ আয়োডিন দরকার তা অন্য সব খাবার থেকেই শিশু পেয়ে থাকে।

চকলেট
অনেকে শিশুকে চকলেট খাওয়ান। কিন্তু ১ বছরের কম বয়সি শিশুদেরকে চকলেট খাওয়ানো যাবে না। চকলেটে ক্যাফেইন থাকে, যা শিশুর অ্যালার্জির জন্য দায়ী। তাছাড়া ক্যাফেইনের কারণে শিশুর ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

আরো পড়ুন-সন্তানকে কিভাবে ফরমালিন মুক্ত ফল খাওয়াবেন।

শিশুকে বাড়তি খাবার খাওয়ানোর সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
• শিশু খেতে না চাইলে জোর করে খাওয়ানো যাবে না। শিশু নিজে থেকে যতটুকু খাবে ততটুকুই যথেষ্ট। জোর করে খাওয়ালে শিশুর ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই বেশি।
• শিশুকে দুধ ও ফর্মুলা দুধ চা-চামচে করে খাওয়ানো যেতে পারে। তাহলে চা-চামচে করে খাওয়ার একটা অভ্যাস গড়ে উঠবে, ফলে চা-চামচে করে যখন বাড়তি খাবার দিবেন সেটা শিশু সহজে গ্রহণ করবে।
• কোন ভাবেই শিশুর কোন খাবারে চিনি অথবা লবণ মেশানো যাবে না। চিনি আর লবণের ক্ষতিকর দিক ইতোমধ্যে আমরা জেনে গেছি।
• অতিরিক্ত গরম অথবা অতিরিক্ত ঠান্ডা কোন খাবার দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে নিজে খেয়ে নিশ্চিত হতে হবে খাবারটা শিশুর খাওয়ার উপযোগী কী না।
• শিশু অসুস্থ হয়ে গেলে বাড়তি খাবার বন্ধ রাখতে হবে। বাড়তি খাবার দেয়ার ফলে যদি অ্যালার্জি অথবা পাকস্থলীর সংক্রমণ দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরো পড়ুন-নবজাতকের বিকাশের ক্রমধারা।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

তথ্যসূত্র-parentingfirstcry

599 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment