শিশুর মানবিক বিকাশ; দয়াশীলতা গড়ে তোলার ৫টি প্যারেন্টিং টিপস

শিশুর মানবিক বিকাশ

এই পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার… আপনার সন্তানের জন্য আপনি একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী চান, সেই পৃথিবী বিনির্মানে আপনি কাজও করছেন। কিন্তু আজকে যার জন্য আপনি সুন্দর পৃথিবী গড়ছেন, একদিন তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও সুন্দর পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব তার কাঁধেই পড়বে। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি আপনার সন্তানকে প্রস্তুত করছেন তো তার দায়িত্ব পালন করার জন্য? একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য দায়িত্ব পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, মহানুভবতা, দয়াশীলতার মতো মানবিক ও মানসিক বিকাশ আপনার সন্তানের মাঝে গড়ে তুলছেন তো? একটা সুন্দর পৃথিবীর জন্য পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে দুর্দান্ত মেধার পাশাপাশি এইসব গুণাবলি থাকাও অত্যান্ত জরুরি। মেধা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ই পারে পরিবর্তনের ঝান্ডাধারীদের গড়ে তুলতে। বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের মেধা বিকাশের পাশাপাশি শিশুর মানবিক বিকাশ নিয়েও ভাবতে চায়। দিতে চায় পরামর্শ। শিশুর মানবিক বিকাশ গড়ে তোলার জন্য আজকের পর্বে জানুন শিশুর মাঝে দয়াশীলতা কীভাবে গড়ে তুলবেন।

শিশুর মানবিক বিকাশ; দয়াশীলতা

একটা শিশুর বিকাশ গড়ে ওঠে আপনি তাকে কেমন করে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন তার উপর। সন্তানের মাঝে দয়াশীলতা গড়ে তোলার জন্য তার সাথে আপনার আচরণ ও প্রাত্যহিক রুটিনে ছোট ছোট কিছু মেসেজের যোগানই তার ভেতরে গড়ে তুলবে কিছু অসাধারণ গুণ।

উদাহরণ তৈরি করুন

আপনার আচরণ আপনার সন্তানের কাছে আয়নার মতো, মূলত ছোট থেকে শিশুদের মাঝে আপনার ও তার চারপাশের আচরণেরই প্রতিফলন ঘটে। সেটাই সে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে ধারণ করে। আপনি যদি আপনার সন্তানের মাঝে দয়াশীলতা গড়ে তুলতে চান তাহলে নিজের আচরণে তার প্রতিফলন ঘটান।  বাসার কাজের সহকারী, দারোয়ান এমন মানুষগুলোর সাথে আপনার সুন্দর আচরণই আপনার সন্তানের সুন্দর শিক্ষা হয়ে যাবে। বিপরীতে কোন উদ্ধত ভাব থাকলে সেটাই আপনার সন্তান শিখবে। এমনকি আপনার প্রতিটা শব্দও সে নিজের মাঝে নেয়ার চেষ্টা করবে। সুতরাং একটু খেয়াল রাখুন, আপনি তার সামনে কেমন আচরণ করছেন? কোন ধরণের শব্দ ব্যবহার করছেন? আপনি তার সামনে যত বেশি ইতিবাচক আচরণ করবেন তার আচরণে ইতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা তত বেশি বেড়ে যাবে।

নিজের ভুল বোঝা ও দুঃখ প্রকাশের অভ্যাস

প্রতিদিনই আমাদের দ্বারা ছোট খাটো কিছু ভুল হয়ে যায় না চাইলেও। এই ভুলটি ধরতে পারা ও তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা অসাধারণ গুণ হতে পারে। বাসার কাজের সহকারী ঘর মুছে যাওয়ার পরই আপনি অজান্তেই মোছা জায়গা দিয়ে হেঁটে গেলেন, জায়গাটি আবার একটু ময়লা হলো। আপনি হয়তো এই ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এড়িয়ে না গিয়ে যদি আপনি গৃহ পরিচারিকার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন সেটাই কিন্তু আপনার সন্তান শিখবে। আপনার সন্তানের দ্বারা কোন ভুল হলে তাকেও দুঃখ প্রকাশ করতে বলুন।

তার আচরণের প্রশংসা করুন

আপনার কাছ থেকে আপনার সন্তান প্রতিনিয়ত শিখছে। সেই শেখার প্রতিফলন যদি তার আচরণে লক্ষ্য করেন তাহলে তাকে অনুপ্রাণিত করুন, তার ওই আচরণের প্রশংসা করুন। ধরুন, তার কোন ভুলের জন্য সে কারো কাছে ক্ষমা চাইলো, দারোয়ান চাচার অসুস্থতার জন্য তার ভেতরে একটু খারাপ লাগা কাজ করলো, গৃহ পরিচারিকার একটু কষ্ট কমানোর জন্য তাকে কাজে অল্প সাহায্য করলো; তার এমন সব আচরণের বিপরীতে আপনার ভালো লাগাটা তার সাথে শেয়ার করুন। তার ইতিবাচক আচরণের প্রভাব ও তার মাঝে জন্ম নেয়া দায়িত্ববোধ, সাহায্য করা ও অন্যের কষ্ট বুঝতে পারার বোধের প্রশংসা করলে সে এই ধরণের কাজ করার জন্য নিজের ভেতর থেকে এক ধরণের সাড়া পাবে।

সুপারহিরোদের গল্প করুন

সুপারহিরো সম্পর্কিত সিনেমা বা গল্পে সুপারহিরোরা সবসময় মানুষের উপকার করে। আর প্রতিটা শিশুর মাঝেই একজন সুপারহিরো বসবাস করে। তার সাথে সুপারহিরোদের সিনেমা দেখতে পারেন, মানুষের দুঃখ কষ্ট বুঝতে পারা আমাদের দেশীয় সুপারদের হিরো (যেমন-হাজি মোহাম্মদ মহসিন, হাতেম তাই) গল্প করতে পারেন। দায়িত্ববোধ, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মহানুভবতা একজন মানুষকে কতটা মহান করে তুলতে পারে তা সম্পর্কে আপনার সন্তানের সাথে আলোচনা করতে পারেন। এতে তার ভেতরের সুপারহিরোরা ধীরে ধীরে আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে।

স্বেচ্ছা সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করুন

আমাদের দেশে প্রচুর স্বেচ্ছা সেবামূলক সংগঠন আছে। সন্তান একটু বড় হলে তাকে এইসব সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারেন। সংগঠন ছাড়াও সে নিজ দায়িত্বে সেবামূলক কাজ করতে পারে। যেমন, একসাথে তাদের ক্লাসরুম পরিষ্কার করা, স্কুলের মাঠটি সব বন্ধুরা মিলে পরিচ্ছন্ন করে দেয়া, তার জমানো টাকা দিয়ে প্রতিবেশি সুবিধা বঞ্চিত কারোর জন্য ভালো কিছু করতে চাওয়া ইত্যাদি কাজগুলো তার ভেতরে ধীরে ধীরে ধারণ করানোর চেষ্টা করুন। ঈদে ওর জন্য জামা কেনার পাশাপাশি গৃহ পরিচারিকা, দারোয়ান কিংবা বাসার পাশেই একজন গরীব মানুষের জন্য একটি জামা কিনতে পারেন, অন্যের জন্য কেনা উপহারটি তাকে দিয়েই পাঠান না। কিংবা তাকে বলুন না, তার একটি পুরোনো খেলনা বা জামা অন্য কারোর সাথে শেয়ার করতে তার আনন্দটা কতগুণ বেড়ে যাবে!

আরো পড়ুন-শিশুর মানবিক বিকাশ; দায়িত্বশীলতা

আপনার সন্তানের মেধা বিকাশের জন্য তাকে বিজ্ঞানবাক্স দিন।

 

নিয়মিত এমন কন্টেন্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

* indicates required




395 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment