পৃথিবীর সব মা-বাবাই চান তার সন্তান ভাল গুণের অধিকারী হয়ে গড়ে উঠুক। সে আদর্শ গুণবান মানুষ হয়ে আলোকিত করুক ধরণী! সেক্ষেত্রে সঠিক গুণাবলী বিকাশের শুরুটা হোক শৈশব থেকেই। শৈশবে শিশুর মন কাদামাটির মতো থাকে, তখন থেকেই তাকে যেভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়, সে সেভাবেই বেড়ে উঠে। আর এক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আপনি সন্তানের মধ্যে বিভিন্ন গুণাবলী বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাকে সঠিক আচরণ শেখাতে এবং সঠিক পথে চলতে দিক নির্দেশনা দিতে পারেন।

 আদর্শ অভিভাবক হওয়ার দশটি গুণাবলী  

শিশুর মধ্যে মানবীয় গুণাবলীর বিকাশে তাকে ছোটবেলা থেকেই যে সব বিষয় শেখাতে পারেন, দেখে নিনঃ   `
১। সুন্দর ব্যবহার করা

সুন্দর ব্যবহার করা অনেক বড় গুণ।  সুন্দর আচরণ দিয়ে পৃথিবী জয় করা যায়। আর তাইতো বাচ্চাকে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর ব্যবহার করা শেখাতে হবে। সে যেন ছোটবড় সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে সে খেয়াল রাখতে হবে।

২। বড়দের শ্রদ্ধা করা   

শিশুর মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে। সে যেন বড়দের শ্রদ্ধা করে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও সব ধর্মের, সব বর্ণের, সর্বোপরি সর্বস্তরের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হতে হবে। অন্যকে সম্মান করতে শিখলে সে নিজেও সম্মানিত হবে।

৩। সত্যবাদী হওয়া

সদা সত্য কথা বলতে হবে, কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে না ইত্যাদি বিষয় বাচ্চাকে শেখান। অরাজকতার যুগেও আমাদের প্রিয় “মহানবী (সঃ)”-তাঁর সত্যবাদীতার জন্য ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সত্যবাদীতার গুরুত্ব বোঝাতে আপনার সন্তানকে সে কাহিনীও শোনাতে পারেন।

৪। দায়িত্বশীল হওয়া  

শিশুকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে শেখান। সে যেন অনুধাবন করতে পারে যে, কোন কাজই ছোট নয়। তাকে তার নিজের কাজ নিজে করতে দিন। এমনকি তার ছোট ভাইবোনদেরকেও খেয়াল রাখতে বলুন। একটি শিশুকে যখন তার ছোট ভাইবোনের কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হবে। দেখবেন সে তখন তা মন দিয়েই করতে চেষ্টা করবে। আর দরকার হলে তাকে সাহায্য করুন এবং এক্ষেত্রে বকা বা জোর করে কোন কাজ করাতে যাবেন না।

  ভালখারাপের পার্থক্য বুঝতে পারা   

বাচ্চাকে ভাল-খারাপের পার্থক্য বোঝাতে হবে। সব কিছুরই ভাল ও মন্দ দুটি দিকই আছে। সেক্ষেত্রে ভাল দিকগুলো গ্রহন আর মন্দ দিকগুলো বর্জন করতে হবে। এবং বাচ্চা যেন তা অনুধাবন করতে পারে, সেই চেষ্টা করতে হবে।

কিভাবে বাচ্চার সহিংস আচরণ সংশোধন করবেন? জেনে নিন ৭ টি উপায়

  কারো মনে কষ্ট না দেয়া

শিশুকে মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে তাকে বোঝাতে হবে যে, জীবন আয়নার মতোই, তুমি যা করবে তাই প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসবে। সুতরাং কারো মনে কষ্ট দেয়া যাবে না। আর অসহায় মানুষের কষ্ট বুঝে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আপনার সন্তান যাতে সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠে সেই চেষ্টা করুন।

Bullying বা হয়রানি আপনার শিশুর কতটা ক্ষতি করছে? জেনে নিন এবং সতর্ক হোন (পর্ব-১)

নিয়মিত প্রার্থনা করা

সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে একগ্রতা, ধৈর্য বাড়ে, মনে প্রশান্তি আসে। আর নিজ নিজ ধর্ম পালনের সাথে সাথে এটাও শিখতে হবে যে, অন্য কারো ধর্মকে হেয় বা কটূক্তি করা যাবে না।

 সময়ের মূল্য বুঝতে পারা 

একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, “সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।” সময়ের মূল্য বুঝে চলাটা রপ্ত করতে হবে। সময়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই শেষ করা উচিত। আর তাইতো বাচ্চাকে সময়ের মূল্য বুঝে চলতে শেখান।

ধৈর্যশীল হওয়া   

জীবন পুষ্পশয্যা নয়, এখানে কাঁটার আঘাত সয়ে শক্ত হয়ে পথ চলতে হয়। আপনার সন্তানকে বোঝান, কোন কাজে ব্যর্থ হলে হতাশায় ডুবে না থেকে সামনের পথ পাড়ি দিতে হবে। বিফল মনোরথে বসে না থেকে বরং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর ধৈর্যশীল মানুষরা এক সময় না একসময় ঠিকই সফল হয়।

১০ পরিশ্রমী হওয়া

বিজ্ঞানী ‘এডিসন’ বলেছেন, “প্রতিভা এক ভাগ প্রেরণা আর নিরানব্বই ভাগ কঠিন পরিশ্রম ও সাধনা।” বাচ্চাকে পড়াশোনায় ভাল করতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। এছাড়াও একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে (ছবি আঁকা, গান শেখা, ক্যারাতে প্রশিক্ষণ, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি) বাচ্চাকে দক্ষ করে তুলুন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বিষয়ে বাচ্চা আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং তার শেখার আগ্রহ আছে। আর যেসব বিষয়ে বাচ্চা আগ্রহী নয়, সেক্ষেত্রে  তাকে জোর-জবরদস্তি করে অলরাউন্ডার বানানোর বৃথা চেষ্টা না করাই বরং ভাল।

 আপনার সন্তান পড়া মনে রাখতে পারছে না? একটু খেয়াল করুন!

১১ আত্মবিশ্বাসী হওয়া  

শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করুন। আত্মবিশ্বাসের জোরে সব অসাধ্য সাধন করা যায়। সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর প্রথম ধাপ হল আত্মবিশ্বাসী হওয়া। ব্যর্থতা মানেই থেমে যাওয়া নয়। জীবনে হাজারো সমস্যা থাকবে, ব্যর্থতার কষ্ট থাকবে। তারপরও শক্ত হয়ে আত্মবিশ্বাসের জোরে সফল জীবনের পানে পথ হাঁটতে হবে।

শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

আপনার সন্তান সাবলীলভাবে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠুক। সে হয়ে উঠুক পরিপূর্ণ মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ মানুষ।

139 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment