কাজের প্রয়োজনে আপনি প্রায়ই সন্তানদের থেকে দূরে থাকেন? আপনি কী মনে করেন সেজন্য  আপনার আদর, যত্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ঠিকভাবে সন্তানকে সময় দিতে পারছেন না? তাহলে জোসেফের গল্পটা আপনার জন্যই! জোসেফ একজন ব্যবসায়ী। থাকেন নিউইয়র্কে, তার বউ এবং দুই সন্তান সোফি ও হান্নার সাথে। ব্যবসায়ীক কাজে জোসেফকে বছরের একটা বড় সময় থাকতে হয় স্ত্রী সন্তান থেকে দূরে। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও জোসেফ তার সন্তানদের প্রতি তার দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করছেন। এবং জোসেফ তার অভিজ্ঞতাগুলো সবার সাথে শেয়ার করতে পছন্দ করেন। যারা কাজের প্রয়োজনে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকেন তারা কীভাবে সন্তানের সাথে সবসময় কানেক্টেড থাকবেন তা নিয়ে কিছু টিপস দিয়েছেন জোসেফ। আমরা তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি বিজ্ঞানবাক্স ইউজারদের জন্য।

প্রতিদিন একই সময়ে সন্তানের সাথে ভিডিও কলে কথা বলুন
প্রযুক্তির এই যুগে এই কাজটা হয়তো খুব কঠিন কিছু না। কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে গুরুত্ব না দেন তাহলে কাজটা কিছুটা কঠিন। এমন হয় অনেক সময়, কাজ শেষে ক্লান্তি নিয়ে বাসায় আসলেন কিন্তু সন্তানকে ভিডিও কল দিতে মনে নাই। কিংবা আজ নয় কাল করবেন বলে আর করেননি। কিন্তু সন্তানকে সময় দেয়ার জন্য এই কাজটা আপনাকে মনে করে করতে হবে। জোসেফ বলেন, প্রতিদিন একই সময়ে সন্তানের সাথে কথা বলার জন্য ফোন করলে সন্তানের মাঝে আপনার জন্য একটা আগ্রহ তৈরি হয়, যা পারিবারিক বন্ধকে দৃঢ় করে। সন্তান বুঝতেই পারে না আপনি তার থেকে অনেক দূরে থাকছেন।

প্রতিদিন সকালে ফোন করতে পারেন
আপনার অনেক বেশি ব্যস্ততার কারণে যদি প্রতিদিন নিয়ম করে ভিডিও কল করতে একদমই অপারগ হন তাহলে অন্তত প্রতিদিন সকালে সন্তানকে ফোন করুন। চেষ্টা করুন সন্তান ঘুম থেকে উঠার সময়ে কথা বলতে। ২-৩ মিনিট খরচ করে তার দিনের পরিকল্পনা জানতে চান, স্কুলেরও একটু খোঁজ খবর নিন। সন্তান আপনার সাথে কথা বলে যদি সুন্দর একটা সকাল শুরু করে তাহলে তা তার সারাদিনে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর এই কাজটি প্রতিদিন করতে পারলে আপনার কাছে না থাকার অভাবটা সন্তানের বিকাশে তেমন প্রভাব ফেলবে না।

আপনার ভ্রমণের ব্যাগ গোছাতে সন্তানের সাহায্য নিন
অনেকেই অনেক সময় সন্তান কষ্ট পাবে বলে কিংবা কাঁদবে বলে কোথাও যাওয়ার সময় সন্তানের কাছ থেকে লুকিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই কাজটা করা যাবে না! আপনি কাজের জন্যই যাচ্ছেন এবং আবার ফিরে আসবেন, এই বিষয়টা সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন। এতে সন্তানের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং আপনার ভ্রমণের জিনিস পত্র গোছানোয় সন্তানের সাহায্য নিন। আপনার কিছু কাপড় তাকে পছন্দ করে দিতে বলুন, লুকিয়ে আপনার জন্য কোন স্পেশাল গিফট দিতে বলুন। আপনি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় যখন ব্যাগ খুলে সন্তানের পছন্দ করা কাপড় দেখবেন আপনারও মনটা ভালো হয়ে যাবে। আর তার পছন্দ করা কাপড় পরে ছবি তুলে তাকে পাঠাতে পারেন।

সন্তানকে উপহার দিন
বাইরে থেকে আসার সময় সন্তানের পছন্দের উপহার ও খেলনাতো আনবেনই। জোসেফ খেলনা ও উপহারের জন্য একটা দারুন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিজনেস ট্রিপ বা কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার আগে কিছু গিফট কিনে রেখে যান সন্তানের জন্য। জোসেফের সহধর্মিনি উপহার গুলো সন্তানকে একসাথে না দিয়ে বিরতি রেখে রেখে দেন। যেমন-প্রথমে একটা উপহার দিয়ে কিছুদিন পর আরেকটা উপহার দিতেন। একটা লম্বা ট্রিপের জন্য বাইরে গেলে হয়তো এতগুলো উপহার কিনে রাখা সম্ভব হতো না। সেক্ষেত্রে জোসেফের সহধর্মিনি এক মাস অথবা দু-মাস পর পর উপহার কিনে সন্তানকে দিয়ে বলতেন এটা তার বাবা তার জন্য পাঠিয়েছে।

জীবনের প্রয়োজনে সন্তানের থেকে দূরে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু তার প্রভাব যেন সন্তানের বিকাশে না পড়ে সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানকে সময় দিতে হবে শত ব্যস্ততার মাঝেও।

আপনার সন্তানের জন্য দারুণ উপহার হতে পারে বিজ্ঞানবাক্স। এটি আপনার সন্তানকে আনন্দিত করার পাশাপাশি সৃজনশীলও করে করে তুলবে। সন্তান খেলতে খেলতে শিখবে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানবাক্স কিনতে এখানে ক্লিক করুন।

38 total views, 2 views today

What People Are Saying

Facebook Comment