আসুন একটি গল্প শুনি। তবে, গল্পটি সবার জন্য না। গল্পটি একটু বড়দের জন্য। আরো পরিষ্কার করে বললে, বাবা-মা হয়েছেন বা হবেন এমন মানুষদের জন্য। গল্পটি একটি প্যারেন্টিং  ক্লাবের। যেখানে সচেতন বাবা-মায়েরা সন্তান লালন পালনে নিজেদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা নিয়ে গল্প করেন। গল্প করতে করতে পেয়ে যান সমাধানও।

কী কী গল্প হয় অন্যরকম প্যারেন্টিং ক্লাবে?

টিনেজ বাচ্চাদের মানসিক অস্থিরতা নিয়ে লিখেছেন লুলু আম্মানসুরা। জানিয়েছেন শুধু পড়ালেখার জন্য চাপ না, টিনেজ বয়সী বাচ্চাদের সাথে পড়ালেখার বাইরে গিয়ে আড্ডা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা ও ইতিবাচক দিকের কথা। সন্তানকে প্রহার করা ঠিক কি না? জানতে চাইলেন হাসান মাহবুব। সেখানে চটপট বেশ কিছু তথ্যমূলক উত্তরও পেয়ে গেলেন তিনি। বেবি পাউডার ক্ষতিকর কি না? জানতে চাইলেন একজন। সেখানে রেফারেন্সসহ বেবি পাউডারের ক্ষতিকর দিক ও কীভাবে, কতটুকু ব্যবহারে ক্ষতি হবে না তাও জানালেন কয়েকজন। বাচ্চাদের বাজে কার্টুন থেকে দূরে রাখতে নীলা খাদিজা দারুণ কিছু শিক্ষণীয় অ্যানিমেটেড মুভির লিস্ট নিয়ে হাজির হলেন।

এভাবেই এখানে প্রতিদিন অভিজ্ঞ ও নতুন বাবা-মায়েরা যুক্ত হচ্ছেন। আলোচনা করছেন। একই সাথে সন্তান লালন পালনকে করে তুলছেন আরো উপভোগ্যও।

আসুন এবার একটু প্যারেন্টিং বিষয়টির সাথে পরিচিত হই।

“আপনি হাতে ধরে আপনার সন্তানের ভবিষ্যত গড়ে দিতে পারবেন না, কিন্তু আপনি তাকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে পারবেন” কথাটি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। প্যারেন্টিং-এর ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে গেলে মূলত মূলভাবটি এমনই দাঁড়ায়। প্যারেন্টিং-এর উদ্দেশ্যই মূলত সন্তানকে মানসিক, শারীরিক, নৈতিক ও সৃজনশীল ভাবে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা। এই কাজটি কতটা কঠিন বা সহজ? কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে আপনি চাইলে এই কাজটিকে উপভোগ্যও করে তুলতে পারেন।

সন্তানের অস্তিত্ব টের পাওয়ার পর থেকেই মূলত আপনার প্যারেন্ট সত্বার বিকাশ শুরু হয়। মায়ের স্বাস্থ্যের সঠিক খেয়াল রাখা, নিরাপদে শিশুর জন্ম, সন্তানের ঘুম, খাবার, স্বাস্থ্য, পড়ালেখা, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলাসহ সবকিছুই এর অংশ। প্যারেন্টিং এর বিস্তৃতি বিশাল। একদম সহজ করে বললে, আপনার সন্তান কতটা নৈতিক, সৃজনশীল আর সফল হয়ে গড়ে উঠবে তার পুরোটাই নির্ভর করে প্যারেন্টিং-এর উপর।

বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশেই প্যারেন্টিং-কে অনেক গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। অন্যান্য প্রায় সব দেশেই সঠিকভাবে সন্তান লালন পালনের জন্য রয়েছে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও। আর পৃথিবীর সব দেশেই প্যারেন্টিং নিয়ে অনেক বইও আছে। আমাদের দেশে আমরা প্যারেন্টিং নিয়ে খুব একটা গুরুত্বের সাথে না ভাবলে বাবা-মা হিসেবে সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ নিয়ে আমরা ভাবি। কাজ করি। কিন্তু একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে, আমাদের এই ভাবনাটা বা প্যারেন্টিং মূলত শাসন নির্ভর প্যারেন্টিং। সন্তানকে সঠিক ভাবে বড় করার ক্ষেত্রে আমরা শাসনকেই একমাত্র পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছি। সন্তানকে শাসন করা যে খারাপ তা কিন্তু না। তবে লালন পালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শাসন নির্ভর হয়ে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো কিছু বয়ে আনে না।

তবে আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশেও স্মার্ট প্যারেন্টিং নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সন্তানকে দারুণ একটি শৈশব উপহার দিয়ে তাকে একই সাথে সফল ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনেক বাবা-মায়েরাই নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। কাজ করছেন, নিজেরা নতুন নতুন তথ্য জানছেন, অন্যান্য পরিচিত বাবা-মায়েদেরও তা জানাচ্ছেন। সন্তান লালন পালনের অনুভূতি, সন্তান লালন পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে নিজেদের মাঝে আলোচনা করছেন ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেও যাচ্ছেন। একজনের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যজন পেয়ে যাচ্ছেন সমস্যার দারুণ কোন সমাধান। আর এত সব আড্ডা আর আলোচনা হচ্ছে ফেসবুকের “অন্যরকম প্যারেন্টিং ক্লাব” গ্রুপে।

শুধু কি বাবা-মায়েরাই এই গ্রুপে অ্যাড হতে পারবে?

বাবা-মা প্যারেন্টিং-এর বিশেষ দায়িত্বে থাকে। তবে শিশুর চারপাশ জুড়ে যেহেতু ভাই-বোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি সহ আরো অনেকে থাকে সেক্ষেত্রে একজন শিশুর সঠিক বেড়ে উঠায় সবারই কিছু না কিছু দায়িত্ব থাকেই। আপনি যদি আপনার আশেপাশের বেড়ে উঠা শিশুদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান, জানতে চান শিশু লালন পালনের টুকিটাকি সব তবে এই গ্রুপটি আপনার জন্যও।

গ্রুপে কীভাবে অ্যাড হবেন?

ফেসবুক একাউন্ট তো আছেই আপনার! তাহলে এই লিঙ্কে গিয়ে পাঠাতে পারেন জয়েন রিকোয়েস্ট। আর অল্প দু-একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনিও যুক্ত হতে পারবেন স্মার্ট বাবা-মায়েদের দলে।

1,190 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment