পৃথিবীতে সাতশ কোটি মানুষ আছে। সব মানুষের কিন্তু রয়েছে আলাদা আলাদা ধরণ। জানার, শেখার, সিদ্ধান্ত নেয়ার, জীবনবোধের আলাদা আলাদা ধরণ ও শক্তির জায়গা আছে সবার। আছে আলাদা আলাদা পার্সোনালিটি টাইপ । কেউ সবসময় আড্ডা দিতে পছন্দ করে, কেউ নিজের মাঝে থাকতে। কেউ খেলতে পছন্দ করে তো কেউ বই পড়তে, কেউ বা পছন্দ করে লিখতে। কেউ হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় তো কেউ সিদ্ধান্ত নেয় ভেবে চিন্তে। এবং এই আলাদা ধরণটা তারা জন্মগতভাবে অনেকটা  প্রকৃতিগতভাবে পেয়ে থাকে। এই আলাদা আলাদা মানুষের আলাদা আলাদা শক্তির জায়গাকে কাজে লাগানোর জন্য আমেরিকান শিক্ষাবিদ ক্যাথেরিন কুকস ব্রিকস ও তার মেয়ে ইসাবেলা ব্রিকস মায়ার পৃথিবীর সব মানুষকে ১৬ টা আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ফেললেন একটা পরীক্ষার মাধ্যমে। আর ক্যাটাগরি অনুযায়ী ঠিক করলেন কোন ধরণের মানুষের ভেতর থেকে কীভাবে তার সেরাটা বের করে আনা যাবে! আর তারা দুজন একই কাজটা করলেন বাচ্চাদের জন্য। পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চাদের পার্সোনালিটি প্রোফাইল বের করে সে প্রোফাইল অনুযায়ী তারা দুজন মিলে বাচ্চাদের মাঝ থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্য অনেকগুলো পরামর্শ বা কৌশল বের করেছেন। বের করেছেন, কোন ধরণের বাচ্চার সাথে কীভাবে আচরণ করতে হবে তাও। এক কথায় বলতে গেলে, শেখার বা সফল করার একটা ন্যাচারাল উপায় তিনি বাতলে দিয়েছেন। লিখেছেন একটি বইও। এই মহান শিক্ষাবিদের সেই বই অবলম্বনে আমরা বিজ্ঞানবাক্স ব্লগের পাঠকদের জন্য একটা সিরিজ লেখা শুরু করেছি। আগের ব্লগের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের পার্সোনালিটি টাইপ বের করতে পারবেন। আর আমরা ধাপে ধাপে সব পার্সোনালিটির বাচ্চাদের জন্য আপনাকে পরামর্শ দিবো ও জানাবো আপনার বাচ্চার সেরাটা বের করে আনার জন্য আপনার ভূমিকা কেমন হতে হবে। আপনার বাচ্চার পার্সোনালিটি প্রোফাইল জানা না থাকলে জেনে নিন আমাদের এই টেবিলটা দেখে। আর আজকে জেনে নিন  ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চাদের জন্য পরামর্শ।

ENTJ প্রোফাইল

সদা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে কতজন? যে কতজনই থাকুক, আপনার ENTJ প্রোফাইলের সন্তানও তাদের মধ্যে একজন। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, চ্যালেঞ্জ নিতে পারার অদম্য মনোবল আর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ। একজন মানুষকে সফল হওয়ার জন্য আর কী কী যোগ্যতা অর্জন করা লাগে? আপনার সন্তান যদি ENTJ প্রোফাইল এর হয় তাহলে এইসব গুণ জন্ম থেকেই তার মাঝে আছে। আপনার কাজ শুধু তাকে সঠিক পরিচর্যা করা।

প্রি স্কুলার ENTJ প্রোফাইল (বয়স ০-৪ বছর)

ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চারা অনেক বেশি প্রফুল্ল, ফুরফুরে হয়। তারা সবসময় তার আশপাশ মাতিয়ে রাখে। তার উপস্থিতি জানান দেয়। নিজেকে, নিজের চারপাশের পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভালোবাসে সে। ছোটবেলা থেকে হইহুল্লোড়ে মধ্যে থাকতে ও মানুষের মাঝে থাকতে চায় সে। তবে সবসময় নতুনের প্রতি আকর্ষন অনুভব করে। একই পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকতে, একই খেলনা দিয়ে বেশি দিন খেলতে তার মাঝে বিরক্তিবোধ চলে আসে। নতুনের জন্য অপেক্ষা করে, নতুনের উন্মুখ হয়ে থাকে সে। ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চারা সাধারণ প্রচলিত বিষয়ের প্রতি আগ্রহী থাকে না। সে সবসময় স্বাভাবিকের বাইরে, এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করতে চাইবে। এজন্য ছোট থেকেই সে বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত খেলনা, প্রজেক্ট সম্পর্কিত বা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত খেলনা, যে ধরণের খেলনা থেকে কিছু উদ্ভাবন করা যায়, সে নতুন কিছু বানাতে পারে এমন খেলনার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী থাকে।

সে অনেক বাকপটু হয়। প্রি-স্কুলার সময়েও সে তাল মিলিয়ে বড়দের সাথে কথা বলে, তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। সে নিজের ভেতর সবসময় নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাড়না অনুভব করে। নিজের মতামতের পক্ষে যুক্তি দেয়। বাবা-মা বা বড়রা তার কথা মানতে না চাইলেও সে তার মতামতের পক্ষে নিজের যুক্তি দিয়ে বড়দেরকে নিজের পক্ষে আনতে চাইবে বা কনভিন্স করতে চাইবে। যুক্তি উপস্থাপনে বা নিজের মত প্রতিষ্ঠায় সে খুব একটা ক্লান্ত হবে না।

প্রি-স্কুলার ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চা বা একটু বড় ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চারা অনেক অ্যাডভেঞ্চারাস ও এনার্জেটিক হয়ে থাকে। সবসময় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। সে সবসময় দুষ্টামি করা, শারীরিক কসরত টাইপ খেলায় আগ্রহী হয়। সে পড়ালেখার ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। নতুন নতুন শব্দ শেখা, নতুন নতুন পড়া শেখা সবকিছুতেই সে চ্যালেঞ্জ নিতে চায়। সে ছোট থেকেই নিজের কাজ করার পক্ষপাতী । নিজের কাপড় নিজে ধোয়া, নিজের জামা নিজে পরাসহ ছোট-বড় অনেক কাজই সে নিজে নিজে করতে চাইবে। তার কঠিন হয়ে যাওয়া কাজের ক্ষেত্রে সে অন্তত নিজের চেষ্টাটা করে যাবে। আসলে সে ছোট হলেও ছোট থাকতে চায় না। নিজের দায়িত্ব নিয়ে বড় হতে চায়।

ENTJ রা যেকোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সে অনেক বেশি বন্ধুভাবাপন্ন ও মিশুক স্বভাবের হয়। বড়, ছোট, সমবয়সী বন্ধু সবার সাথে সে খুব দ্রুত মিশে যেতে পারে। এমনকি অপরিচিত কারো সাথে মিশতেও তার মাঝে দ্বিধা, জড়তা থাকে না। কোন গ্রুপের সাথে মিশতে বা কোন গ্যাদারিংয়ে মিশতে সে অল্প কিছু সময় নেয়। তবে সেটা জড়তার জন্য না। বরং সে পরিস্থিতি পড়তে চায়। পড়ে কীভাবে সেখানে সুন্দরভাবে যুক্ত হওয়া যায় সে উপায় বের করে। তবে তারা সাধারণত কারো বিরক্তির কারণ হয় না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মতো কোন কাজও তারা করবে না। আপনি আপনার ENTJ সন্তানকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন কারণ সে খুব দ্রুত শেখে ও প্রথম চেষ্টাতেই অনেক কিছু পরিপূর্ণ ও সুন্দর ভাবে করতে পারে।

প্রি-স্কুলার বা স্কুল গোয়িং ENTJ রা পড়ার প্রতি বেশ আগ্রহী হয়। অন্যান্য বাচ্চাদের মত তাদেরকে পড়ার জন্য চাপ দেয়া লাগে না। তারা নিজেরাই বোঝে কখন তাকে পড়তে হবে কখন দুষ্টামি করতে হবে। সে একই সাথে শারীরিক ভাবে চঞ্চল ও দুষ্ট হয় ও একই সাথে তার বুদ্ধিমত্তাও বেশ শানিত থাকে। তারা কোন বই পড়লে তার সারমর্ম, সারাংশ, গল্পের শিক্ষা সব দ্রুত নিজের ভেতরে নিয়ে নিতে পারে। তারা কল্পনাওশক্তির অধিকারী হয়। হাই অ্যাডাভেঞ্চারাস গল্পের বই, থ্রিলার বই, সুপার হিরো টাইপ বই পড়তে পছন্দ করে। সুপার পাওয়ার সমৃদ্ধ বা ম্যাজিকেল ক্ষমতা সমৃদ্ধ সুপার হিরোরা তার ফ্যান্টাসির জগত এক প্রকার দখল করে থাকে বলা যায়। তারা নিজের ভেতর একটা সুপার হিরোকে লালন করে, তার মত অনেক কিছু করে। সোজা কথা সুপার হিরো হতে চায় তারা! তারা গল্প বলতেও পারে সুন্দরভাবে। তারা গল্পের মাধ্যমে বড়দের আকর্ষণও তার দিকে ধরে রাখতে পারে। তারা ক্রিয়েটিভ হয়। নিজের বড় বড় আইডিয়া নিয়ে কাজ করে। তার আইডিয়াগুলো অর্থবহ হয়। সায়েন্স প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করা, আর্ট বা পেইন্টিং নিয়ে কাজ করতেও সে পছন্দ করে। তার মাঝে একটা উদ্ভাবনী শক্তি থাকে। নিজে নিজে বিভিন্ন খেলা বানায় বা খেলার নিয়ম বানায়। তবে সে তার সব কাজের প্রতি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকে।

তারা খুব দ্রুত অর্ডার, স্ট্রাকচার ও নিয়মের সাথে মানিয়ে যেতে পারে। একই সাথে নিয়ম মানার ব্যাপারে তার সমবয়সি অন্যদের উপরও প্রভাব রাখতে পারে। তারা সামনের সময়টা সম্পর্কে আগে থেকে জানতে চায়। পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকতে চায়। তার দিন শুরুর আগে সারা দিনের এজেন্ডা, পরিকল্পনা দেখে নিতে পছন্দ করে। কোন প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও তাই। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেকে খুব দ্রুত প্রস্তুত করে নেয়। অন্যের প্রস্তুতির ব্যাপারে তার মাঝে তেমন কোন চিন্তা বা ভাবনা থাকে না।

সে নিজেদের মতামত জানানোর ক্ষেত্রে কিছুটা রুঢ় হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তার মতামতে কেউ কোন আঘাত ফেলো কিনা, কেউ তার মতামতের জন্য তার প্রতি কোন নেতিবাচক ধারনা পোষন করলো কিনা এইসব নিয়ে খুব একটা ভাবে না। তার মতের বিরুদ্ধে অবস্থান করা কারো সামনে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করার সময় সে অন্যের অনুভুতিকে কেয়ার করে না। তাদের এই অভ্যাসটা দূর করার জন্য বাবা-মাকে কিছুটা কাজ করতে হবে। তবে অনেক ধীরে ধীরে। কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করা, যুক্তি উপস্থাপনে রুঢ় না হওয়া ইত্যাদি তাকে একটু সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে। একই সাথে তার ভেতরকার উদ্যম ও ইমাজিনেশন ক্ষমতা ও তার যুক্তি তর্কের ক্ষমতাকে উৎসাহ দিতে হবে। তার এই যুক্তি তর্কের ক্ষমতাই সবসময় তার ভেতরে জানার একটা আগ্রহ ধরে রাখবে। শুধু যুক্তি উপস্থাপনের সময় তার রুঢ় আচরনকে কিছুটা সংযত করার জন্য তাকে কিছু সাফোর্ট দিতে হবে, বুঝিয়ে বলতে হবে।

ENTJ রা সবসময় চারপাশে অনেক মানুষ নিয়ে থাকলেও, অনেক আড্ডা, হইহুল্লোড়ে থাকলেও তারা কারো স্পর্শ ভালোভাবে নেয় না। বড় কেউ তাকে স্পর্শ করলে, চুমু খেলে, আদর করলে সে খুবই বিরক্ত হয়। এবং কখনো কখনো তার এই বিরক্তির কথা, অপছন্দের কথা সরাসরি সবার সামনে বলে দেয়। স্বভাবতই আমরা ছোট বাচ্চাদের দেখলে একটু চুমু খেতে চাই, আদর করে দিতে চাই। সেজন্য ENTJ দের মুখের উপর এভাবে বিরক্তি প্রকাশ করাটা বাবা-মাকে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কিন্তু সেজন্য আপনি আপনার ENTJ সন্তানের অনুভূতিকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তার মতামত বা ইচ্ছাটিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। হ্যাঁ আপনি আপনার সন্তানকে তার এই বিরক্তির কথাটা জানানোর ক্ষেত্রে কিছুটা নরম হওয়ার বা একটু ইশারায় জানানোর ব্যাপারে বলতে পারেন। কিন্তু “তুমি এমন কেন, আন্টি আদর করলে কী হয়, বেয়াদব ছেলে/মেয়ে” এইসব বলে তাকে কোনভাবে ক্রিটিসাইস করতে পারবেন না। সোজা কথা তার এই অনুভূতির জন্য আপনি তাকে ব্লেইম দিতে পারবেন না। এটা একান্তই তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। তার অপছন্দের একটা কাজ তার সাথে না করাই উত্তম।

ENTJ বাচ্চাদের বাবা-মাকে সবসময় সন্তানের জন্য কিছুটা পরিশ্রম করতে হয়, জানার পরিসর বাড়াতে হয়। কারণ একজন ENTJ তার সকল ধরণের অ্যাডাভান্স কৌতূহল, মনের ভেতর ঘুরতে থাকা হাজার হাজার প্রশ্ন বাবা-মার কাছে জানতে চাইবে। এবং সে আশা করে তার কৌতূহল ও প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আপনি প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতি একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তার সকল প্রশ্ন ও কৌতূহলের সঠিক উত্তর বা সঠিক তথ্য তার সামনে তুলে ধরতে হবে। তার কৌতূহল বা প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া, ভুল উত্তর দেয়া, কোনভাবে বুঝিয়ে দেয়া ইত্যাদি করা যাবে না। এতে আপনার প্রতি তার বিশ্বাস, সম্মান কমে আসবে। তার কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে প্রয়োজনে সময় নিন, নিজে আগে ভালোভাবে জানুন এরপর তাকে জানান!

ন্যায়সম্মত থাকা, জাস্টিস, সমতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ENTJ রা অনেক বেশি স্পর্শকাতর থাকে। তারা এই বিষয়গুলো ঠিকঠাকভাবে চায়। নিজের প্রতি এইগুগুলোর ব্যত্যয় সে যেমন অপছন্দ করে একই সাথে অন্যের বেলায়ও সে এইগুলো অপছন্দ করে। সে নিজেকে যেমন নিয়মের মধ্যে রাখতে চায় তেমনি সে চায় অন্যরাও নিয়মের মধ্যে থাকুক। তারা ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে, জানতে পছন্দ করে। কোন কাজ করার আগে সময় নিয়ে সেই কাজের সম্ভাব্য ফলাফল ভাবার চেষ্টা করে। সেই হিসেবে পরিকল্পনা করে। সে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কিছুটা একঘেয়ে হয়। কোন কাজ কোন পরিকল্পনা অনুযায়ী একবার শুরু দিলে তাতেই বলবত থাকতে চায়। কোন কাজ শুরু করার পরে থেমে যাওয়া বা পেছনে তাকানো তার খুব একটা পছন্দের না। সে নিজের পরিকল্পনাও খুব একটা পরিবর্তন করতে চায় না।

স্কুল গোয়িং ENTJ প্রোফাইল (বয়স ৫-১০ বছর)

স্কুল গোয়িং ENTJ সবসময় কোন কিছুর সাথে সংযুক্ত থাকতে চায়। তারা অনেক একটিভ থাকে, গল্প করতে পছন্দ করে। তারা আগ্রহের সবকিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়। কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও বেশ চিন্তাভাবনা করতে, সম্ভাব্য অনেকগুলো অপশন থেকে সেরা অপশনটি বেছে নিতে পছন্দ করে। যেমন-শপিংয়ের ক্ষেত্রে তারা যাছাই বাছাই করে সেরা দামে সেরা জিনিসটাই কিনবে। তারা একই সাথে এনার্জেটিক ও দলগত কাজ পছন্দ করে বিধায় তাদের ভেতরে প্রাকৃতিক ভাবেই নেতৃত্বগুণ থাকে।

কোন কিছু বিস্তারিত জানার প্রবণতা থেকেই ENFJ রা তার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ছোট খাটো ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে আগ্রহী হয়। বিশেষ করে তারা বিজ্ঞানের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী থাকে। তারা যাই জানতে চাইবে তাই পরিপূর্ণভাবে জানতে চাইবে। যেমন-বাবা চশমা কেন পড়ে? না পড়লে কী হতো? চোখের সমস্যাটা আসলে কী? তার চারপাশে ঘটতে দেখা এমন সবকিছুর ব্যাখ্যা জানার জন্য সে হাঁসফাঁস করবে, জানার জন্য তার ক্ষুধাটা সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। সে একই সাথে নিজের জানা বিষয়, নিজের যোগ্যতা, নিজের স্কিল ইত্যাদি দিয়ে তার আশেপাশের মানুষকে অবাক করতে পছন্দ করে। কোন কিছুর ফলাফলের উপর তার বিশেষ নজর থাকে। ফুটবল খেললে গোল দেয়া, স্কুলের স্কাউটে সেরার পুরষ্কার পাওয়া এমন যেসব বিষয়ে তার যোগ্যতা মাপার বা দেখানোর সুযোগ আছে সেখানে সে তার সর্বোচ্চটা দিবেই। বলা যায় পুরষ্কার কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠি তাকে অনেক বেশি উৎসাহী করে তোলে, মোটিভেট করে তোলে। সেজন্য তার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্য তাকে পুরষ্কার দিন। তাকে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ দিন, তার জন্য স্ট্যান্ডার্ডটা বাড়িয়ে দিন। সে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে, এই গুণটাকে কাজে লাগান। তবে তাকে কোন প্রজেক্ট দিলে বা কোন কাজ দেয়ার সময় খেয়াল রাখবেন সেই প্রজেক্ট বা কাজটার যেন একটা লক্ষ থাকে এবং সেই লক্ষটা যেন তার কাছে পরিষ্কার থাকে। সে অনেক বেশি গোল অরিয়েন্টেড হয়। কোন কিছুর লক্ষ ঠিক করা না থাকলে তার ভেতর থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা বের করে আনা যায় না।

সে নিজে অনেক অনেক কাজ করতে চায়, চ্যালেঞ্জ নিতে চায়। তার চ্যালেঞ্জ নেয়াকে কখনো কখনো আপনার কাছে সঠিক মনে হবে না। মনে হবে সে কাজটি করতে পারবে না। তাও তার তার করতে চাওয়া কাজটি করতে দিন। হ্যাঁ, আপনার চিন্তা ভুল না, সেও নাও পারতে পারে। এমন ক্ষেত্রে তার কাজটি একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন ও সে যেখানে সমস্যায় পড়বে বা আটকে যাবে তাকে সেখানে একটু সাহায্য করুন।
তারা আত্মবিশ্বাসী হওয়ায় তাদের আবেগ, অনুভূতিগুলোও তারা সবসময় ব্যাক্তিগত রাখতে পছন্দ করে। তারা তাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। কোন কারণে কেঁদে ফেলেটা তাদের মানসিকতার সাথে সাংঘর্ষিক। যদি কোন কারণে তারা কষ্টও পায় তাও তারা তা লুকানোর বা নিজের ভেতর রাখার চেষ্টা করে। নিজে নিজে চেষ্টা করবে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটা দারুন সমাধান বের করতে।

সময়ের আগে বড় হয়ে যাওয়া, নিজের প্রতি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা চাওয়া, নিজের মত করে করতে চাওয়া, নিজের ও নিজের চারপাশের পরিবেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ার প্রবণতা এই সময়ে একজন ENTJ শিশুর বাবা-মাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিবে। তবে এই সময়ে তার এমন আচরণের জন্য কোন ধরনের বল প্রয়োগ করে তাকে থামিয়ে দেয়া যাবে না। এমন কিছু করতে গেলেই হিতে-বিপরীত হওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা সবসময় থেকে যায়। বরং আপনি তাকে স্বাধীনতা দিন, তার চিন্তাগুলো তার মতো করে ভাবতে ও পরিপূর্ণ করতে দিন। তার চিন্তাগুলোকে তার মতো করে প্রসারিত করা, তার মতো করে ভাঙ্গাগড়া করার অধিকার তাকে দিন। তবে শুধু তার দিকে একটু পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিটি সবসময় সজাগ রাখুন। কোন কিছু তার জন্য “আউট অব এভিলিটি” হয়ে গেলে সেখানেই আলোচনার টেবিলে বসুন। কথা বলুন, এবং তাকে আপনার মূল্যবান পরামর্শটি জানিয়ে দিন।

টিনএজার ENTJ প্রোফাইল ( বয়স ১১-১৬ বছর)

মানুষের জন্ম থেমে থাকার জন্য না, বেড়ে উঠার জন্য, পৃথিবীকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য। এমন একটা চ্যালেঞ্জিং মাইন্ড সেট নিয়ে আপনার টিনএজার ENTJ বড় হবে। এই সময়ে তার চারপাশ জুড়ে থাকবে ব্যস্ততা। ঠিক থাকবে বলা যাবে না, বরং সে নিজেকে অনেক বেশি ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করবে। স্কুলের প্রজেক্ট, পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস, সব জায়গায় তার সমান উপস্থিতি থাকবে। স্কুলের কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে? তাকে প্রথম সারিতে দেখা যাবে। বিতর্ক প্রতিযোগীতা, কোন স্টেজ পারফর্মেন্স, স্কুলের ম্যাগাজিনের দায়িত্ব সব জায়গায় সে সংযুক্ত থাকতে চাইবে। মাঝে মাঝে তার কাছে নিয়মিত ক্লাস করাটা কিছুটা বিরক্তিকর লাগতে পারে। এই সময়ে তার জন্য আপনার গাইড সবচেয়ে বেশি দরকার। একজন সচেতন শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক এই সময়ে তাকে সঠিক পরিচর্চা করলে একই সাথে তার এক্সট্রা কারিকুলামের প্রতি আগ্রহও বেঁচে থাকবে, আগ্রহ বেঁচে থাকবে পড়ালেখার প্রতিও।

কিছু ENTJ প্রচলিত কালচারে চলতে চায় না। তারা নতুন কিছু করতে চায়। অনেকটা কালচার বা ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে একদম নিজের মতো কোন কিছু। মানুষ আমাকে যেমন চায়, আমাকে তেমন হতে হবে কেন? এমন একটা বোধ তার ভেতর কাজ করে। তারা আসলে একটু আলাদা কিছু করতে চায় সবসময়। সেজন্য কখনো কখনো তার অনেক কিছুই আপনার কাছে একটু আলাদা মনে হতে পারে। থিয়েটার, অভিনয়, সিনেমা বানানো, স্ক্রিপ্ট লেখা, স্টেজ এইসবের একটা নেশা থাকে কিছু ENFJ টিনএজদের। নিজেকে সেভাবে তৈরি করতে চায়।

জানার পরিসর বড়, স্বাধীনভাবে থাকা, নিজের মতো চলা এই বিষয়গুলোর জন্য ENTJ মেয়েরা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে এইসময়ে। নিজের মত চলা, নিজেকে ও নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে প্রতিজ্ঞাটা থাকে তাদের মাঝে, সেই প্রতিজ্ঞার জন্য তারা তাদের সামনে কোন বাধাকে পরোয়া করে না। যার কারণে তাদেরকে অনেক কঠিক একটা সময় পার করতে হয়। সমাজ, চারপাশের মানুষ তাদেরকে থামিয়ে দিতে চায়। এটা যে শুধু বাংলাদেশে হয় তা না। এই সমস্যায় প্রায় সব দেশের ENTJ মেয়েরাই ভোগে। এইসময়ে সঠিক সমর্থন ও উৎসাহ না পেলে হয়তো আপনার সম্ভাবনাময় ENTJ কন্যাটি থেমে যাবে। আপনি নিজেও যদি ENTJ প্রোফাইল এর হন, তাহলে তার জন্য এইসব মোকাবেলা করা কিছুটা সহজ। আর যদি আপনি ENTJ না হন, তাহলে তার জন্য সময়টা আসলেই কঠিন। আপনার কন্যার নিজের একটা পরিচয় দাঁড় করানোর জন্য, তার মত করে তার সুন্দর ভবিষ্যতটা গড়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তাকে এই সময়ে সবচেয়ে বড় সাফোর্টটা আপনাকেই দিতে হবে।

কেমন হবে ENTJ প্রোফাইল এর বাচ্চাদের প্রতি আমাদের আচরণ? জেনে নিন এক নজরে

• সবসময় তার প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। তার সব প্রশ্ন ও কৌতূহল মেটানোর জন্য সঠিক তথ্য দিবেন। কোন কিছু জানা না থাকলে সঠিক তথ্য জেনে তারপর তাকে জানাবেন।
• তার মাঝে একটা উদ্ভাবনী ক্ষমতা আছে। সেটা কাজে লাগানোর জন্য তাকে উৎসাহ দিন। বাসার পরিত্যাক্ত জিনিসগুলো দিন। সে এগুলো দিয়ে দারুন কিছু বানিয়ে ফেলবে। খেলনা ভেঙ্গে নতুন কিছু বানাতে চাইলে রাগ করবেন না। ভাঙতে ভাঙতেই দেখবেন অসাধারণ কিছু গড়ে নিয়েছে সে।
• তার মতামত শুনুন। জানতে চান তার কাছে।
• তাকে বেশি বেশি প্রজেক্ট করতে দিন। একটু বড় লক্ষ্য ঠিক করে দিন। একই সাথে খেয়াল রাখুন সে কোন সমস্যায় পড়ছে কিনা!
• তাদের যৌক্তিক যুক্তির জন্য তাকে প্রশংসা করুন। তার যৌক্তিক যুক্তি আপনার বিপক্ষে গেলেও।
• তার শৈল্পিক সত্তালে বিকশিত করার সুযোগ দিন। তার ক্রিয়েটিভ আইডিয়ার জন্য তাকে সময়, সুযোগ, সমর্থন ও ফিডব্যাক দিন।
• নতুন বন্ধু বানানো, তার অ্যাডভেঞ্চারাস কোন প্রজেক্ট, ট্যুর এইসবের জন্য তাকে সমর্থন দিন।
• তার রূঢ় আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে স্বাভাবিকভাবে তার মতামত উপস্থাপন, তার যুক্তি উপস্থাপনের সময় শান্ত থাকা, দয়াশীল হওয়া ইত্যাদি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝান। তার সামনে এমন আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরুন।
• আপনার মতামত কিংবা আপনার কোন সিদ্ধান্ত সরাসরি ও সৎ ভাবে তাকে জানান। কিন্তু একই সাথে তাকে বাধ্য করা ও ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা থেকে বিরত থাকুন।
• তার যৌক্তিক চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য তাকে সমর্থন দিন। সে চ্যালেঞ্জ নিতে চাইলে দিন। থামিয়ে দিবেন না।

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 375 total views,  1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment