Show Categories

দুই মাস বয়সী শিশুর বিকাশ এবং বাবা-মার করণীয়- ওয়াসিফা জান্নাত

এর আগের পর্বে আলোচনা করা হয়েছে ১ মাস বয়সী শিশুর বিকাশ কীভাবে হয় এবং এই সময়ে করণীয় কী। আজ পড়ুন ২ থেকে ৩ মাস বয়সী শিশুর বিকাশ সম্পর্কিত তথ্য।

দুই মাস বয়সী শিশুর বিকাশ (সপ্তাহ ৫সপ্তাহ ৮)

সপ্তাহ

আপনার শিশুর মুভমেন্ট এখন আগের থেকে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। প্রতিদিন নতুনভাবে নিজের শরীরকে বোঝার সময়টা শুরু এখনই। তার জন্মগত যে স্টেপিং রিফ্লেক্স সেটাকে কাজে লাগাতে পারেন চাইলে, টামি টাইমে (দিনের কিছু সময় পেট বিছানায় লাগিয়ে উপর হয়ে থাকা) হাত পা ছড়িয়ে উড়াউড়ি খেলা করা- এই এ্যাক্টিভিটিগুলো তার বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। তবে যেকোন কিছু করার সময় বাবুর মাথায় সাপোর্ট দিতে হবে।

সপ্তাহ

প্রথম হাসি! এই সপ্তাহে আপনার ক্ষুদে বন্ধুটি প্রথমবারের মত হাসতে শিখবে। এই প্রাণখোলা হাসির সাথে সাথে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। হাসি যে একটা আনন্দময় স্বস্তিদায়ক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ- এটা বোঝাতে চাইলে তার হাসিতে যোগ দিন

সপ্তাহ

আপনার শিশু এই সময়ে আরও ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এই প্রথমবার নিজের বোধ, অনুভূতি সম্পর্কে বুঝতে শুরু করবে। ঝুনঝুনি বা মিউজিক্যাল টয়ের সাথে নিজেকে কানেক্ট করতে শুরু করবে। রঙিন খেলনা ও সাদা কালো বা ডোরাকাটা জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হবে।

সপ্তাহ

সোজা রাখতে চাইলেও তার মাথা এখনও দুলতে থাকে ঠিকই, তবে দিন দিন নেক মাসল বা ‘ঘাড়’ শক্ত হচ্ছে। এই বয়সে শিশু তার মাথা ৪৫ ডিগ্রিতে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, আর কিছুদিন পরে সে বসতে শিখতে যাচ্ছে। এখন তাকে প্রস্তুত করে তোলার দায়িত্ব আপনার। প্রতিদিন নিয়ম করে শিশুকে উপর করে দিতে হবে। এই সময় সে বুক ঘষে সামনে এগুনোর চেষ্টা করবে। উপর হওয়া অবস্থায় তার চোখের সামনে আয়না বা রঙিন খেলনা রাখুন, সে মাথা তুলে তাকানোর চেষ্টা করবে।

সপ্তাহ ৯

গান-শব্দ-সুরে শিশুর পৃথিবী জীবন্ত হয়ে উঠবে এই সময়ে। হাই পিচ-টোনের শব্দ তাকে অনুপ্রাণিত করবে। সেই সাথে আপনার বলা কথাগুলো শোনার চেষ্টা করবে, তার সাথে কথা বললে সে মুখের দিকে তাকিয়ে তা শুনবে। অনেক সময় গা গি আ উ করে কথোপকথন চালাবে। তাই শিশুকে কোন কিছু পড়ে শোনানোর জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সপ্তাহ থেকে তার ভোকাবুলারি বিল্ড আপ শুরু হবে।

সপ্তাহ ১০

আপনার শিশু এখন এক ঝাঁক মানুষের মধ্যেও তার মা বাবাকে আলাদা করে খুঁজে বের করতে পারে। যখনই পরিচিত কেউ তার কাছে আসবে, খুশিতে তার চোখ বড় হয়ে উঠবে, হাসিতে আনন্দ উপচে পড়বে। এটা সামাজিকীকরণ বা সোশালাইজেশনের একদম শুরুর সময়। তাই ডিনার টাইমে শিশুকে সবার কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন। সে এখন আপনার সঙ্গ উপভোগ করতে শিখেছে।

সপ্তাহ ১১

এই সপ্তাহ থেকে শিশুর ঘুম আগে থেকে অনেকটা কমে যাবে, দিনের বেশিরভাগ সময়টা সে জেগে থাকবে। সে তার পরিবার ও পৃথিবী নিয়ে অদ্ভুত কিছু দুঃশ্চিন্তায় ভুগবে। মজার ব্যাপার হলো, এখন থেকে তার কিছু নিজস্ব ধ্যান ধারণা, পছন্দ অপছন্দ তৈরি হবে। আপনার পছন্দের খেলা বা খেলনাটি তার ভালো নাও লাগতে পারে। সে মাথা ঘুরিয়ে যেদিকে তাকাবে, বোঝা যাবে তার আকর্ষণ তখন সেই জিনিসটিতেই!

সপ্তাহ ১২

এই বয়সের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি হলো, শিশু তার আঙ্গুল এবং বৃদ্ধাঙ্গুলকে আলাদা হিসেবে বুঝতে পারে। শিশু দুই হাত ধরে মুখে ঢুকিয়ে টেস্ট করা শুরু করে এই সময় থেকে। আপনিও চাইলে তার এই মজার সময়টাতে অংশ নিতে পারেন, বাচ্চাকে ভেলভেট স্কার্ফ,  রাবার অথবা কাপড়ের খেলনা খেতে দিয়ে- শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে সবকিছু যেন পরিষ্কার হয়।

আরো পড়তে পারেন- আপনি কি একজন সচেতন অভিভাবক? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যেই

আপনার সন্তানের জন্যে সেরা উপহার হতে পারে সায়েন্স কিট বিজ্ঞানবাক্স। 

 

 

 

226 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment