Show Categories

স্কুল-বুলিংয়ের (School Bullying) অপছায়া দূর হয়ে শিশুর স্কুল আনন্দময় হোক! (৩য় পর্ব)

Bigganbaksho sad kid

একটি ছোট্ট বাচ্চার জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয় স্কুলে যাবার মধ্য দিয়ে। বাচ্চাটা অনেক স্বপ্ন আর কৌতূহল নিয়ে ভীরুমনে স্কুলের পথে পা বাড়ায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলে সে কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যা তাকে নিরাশ করে দেয়। অনেকসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষক বা সহপাঠীদের দ্বারা সে স্কুলবুলিংয়ের (School Bullying) শিকার হয়। যা তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে এবং তার মধ্যে  স্কুলভীতি তৈরি হয়। ফলে সে তখন মানসিক অস্থিরতায় বিচলিত হয়ে স্কুলে যেতে চায়না।

শিশুদের স্কুলভীতির হোক ইতি, ভেঙ্গে যাক সব পুরনো রীতি!

আসুন স্কুলবুলিং, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং এক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে জেনে নিই।
স্কুলবুলিং (School Bullying)

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি কোন বাচ্চা শিক্ষক বা সহপাঠী কিংবা উপরের ক্লাসের কারো দ্বারা শারীরিক বা মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়, তবে তাকে স্কুল বুলিং (School Bullying) বলে। এক্ষেত্রে বাচ্চাকে সবার সামনে ব্যঙ্গ করা, শারীরিক আকৃতি বা রংয়ের জন্য বিভিন্ন নামে ডাকা, উপরের ক্লাসের বাচ্চারা মিলে সর্বাপেক্ষা ছোট ক্লাসের বাচ্চাকে খেপানো কিংবা ক্লাসের দূর্বল ছাত্রের উপর আধিপত্য দানকারী ছাত্রের প্রহসন। যেমনঃ টিফিন কেড়ে ফেলে দেওয়া, ভেংচি কাটা, পিঠে কলম দিয়ে খোঁচা দেওয়া ইত্যাদি বোঝায়। মূলত স্কুলের কম্পাউন্ডের ভিতর, ক্লাসরুমে, প্লে-গ্রাউন্ড কিংবা স্কুল বাসের ভিতরে এসব ঘটনা ঘটে থাকে।

স্কুলবুলিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

স্কুলবুলিংয়ের (School Bullying) প্রভাবে একটি বাচ্চার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। সে মানসিকভাবে ভীষণ ক্ষতির শিকার হয়। এক্ষেত্রে যেসব সমস্যা হতে পারে তা হলঃ

১। স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে, তার মাঝে স্কুলভীতি তৈরি হয়।

২। পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে উঠে।

৩। মেজাজ খিটমিটে হয়ে উঠে।

৪। অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

৫। একাকী আনমনে সময় কাটাতে থাকে।

৬। রাগ, জেদ, অভিমান বেড়ে যায়।

৭। হীনম্মন্যতা এবং বিষণ্ণতায় ভোগে।

৮। ভীরুতা নিয়ে বেড়ে উঠে।

৯। সহজাত প্রতিভার বিকাশ ঘটেনা।

১০। মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায় বা অসামাজিক হয়ে বেড়ে উঠে।

আপনার সন্তান যখন স্কুলবুলিংয়ের (School Bullying) শিকার, সেক্ষেত্রে আপনার করণীয়:
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন

সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনার সন্তান তার জীবনের প্রথম বন্ধু হিসাবে যেন আপনাদেরকেই পায়। বন্ধুর মত সবকিছু সহজে শেয়ার করতে পারে, সেইরকম আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনার সন্তান যদি বুলিংয়ের শিকার হয়! সেক্ষেত্রে আপনার প্রথম করণীয় বিষয় হবে, বাচ্চাকে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে মুক্তি দেয়া।

Bullying বা হয়রানি আপনার শিশুর কতটা ক্ষতি করছে? জেনে নিন এবং সতর্ক হোন (পর্ব-১)

বুলিংকারীদের পাত্তা না দিতে বলুন

যারা বুলিংকারী তারা চায় অন্যকে ছোট করতে আর দেখতে চায় তাদের কথার কতটুকু প্রভাব পড়ছে। সুতরাং এদের চুপ করে দেবার প্রথম অপশন হচ্ছে তাদের পাত্তা না দেয়া। আপনার সন্তানকে বোঝান যে, তারা তাকে মানসিক ভাবে দূর্বল করতে চায়। আর তুমিও তা একেবারেই পাত্তা দিবেনা। এবং বাচ্চার মানসিক ভিত শক্ত করতে সাহায্য করুন।

বন্ধুদের একসাথে থাকতে বলুন

বন্ধুরা দলবেঁধে একসাথে থাকলে কেউ বুলিং করার সাহস পাবেনা। আর বাচ্চাকে সাহস দিন, এক্ষেত্রে ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই। তাকে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া বুলিংয়ের ঘটনা এবং এর থেকে কিভাবে বের হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারেন। আর তাকে বলবেন, সে যেন তার সহপাঠীদের সাথে বুলিং নিয়ে কথা বলে। এটা যে সঠিক আচরণ নয়, সেটা যেন বুঝিয়ে বলে।

মানসিক বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

শিশু যদি বুলিংয়ের ভুক্তভোগী হিসেবে অতিমাত্রায় বিষণ্ণতায় ভোগে এবং স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। তবে তাকে অবশ্যই মানসিক বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চলুন। কখনোই বুলিং সৃষ্ট সমস্যাকে হালকাভাবে নিবেন না। এর ক্ষতিকর প্রভাব আপনার সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে দিতে পারে!

৫। শিক্ষকদের সাথে সরাসরি কথা বলুন

আপনার সন্তান যখন স্কুলে বুলিংয়ের শিকার। আর যদি বুলিংকারী তার ক্লাস টিচার হয়, তবে এ ব্যাপারে তার সাথে সরাসরি কথা বলুন। আর তাতে কাজ না হলে, প্রধান শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করুন। এতে যে আপনার বাচ্চা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সেটা তুলে ধরুন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করুন

বাচ্চা যদি স্কুলে কোনভাবে কারো দ্বারা বুলিংয়ের শিকার হয়, তবে অবশ্যই তা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। বুলিংকারী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলুন। এবং এক্ষেত্রে বুলিং প্রতিরোধে ও সচেতনতা বাড়াতে স্কুলে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করতে বলুন। আর এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষক, অভিভাবক, স্টুডেন্ট, স্কুলের স্টাফ সবাইকে বুলিংয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎয়ের জন্য তাকে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ করে দিন। খেয়াল রাখুন স্কুলবুলিংয়ের (School Bullying) অশুভ ছায়া, যেন তার সাবলীল বিকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

বুলিং সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

সাইবার বুলিং সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

316 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment