যে ১ ডজন কারণে শিশুর আউটডোরে খেলা উচিত

খেলা বলতে ভিডিও গেমস নয়,ঘরে বসে লুডু,ক্যারাম খেলাও নয়,বাইরে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করে যে খেলা এমন খেলা আপনার সন্তান খেলছে তো?
কেননা এমন খেলা আপনার শিশুর বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু এই যান্ত্রিক শহুরে জীবনে একটু সবুজ পাওয়াই যেখানে মুশকিল হয়ে যায়,সেখানে আবার শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ খুঁজে পাওয়া বেশ অসম্ভব ব্যাপার।তার উপর ছোট বাচ্চাকে যখন অন্য কারো কাছে দিয়েও ভরসা নেই।ব্যাপারটা কষ্টকর তাতে কোনো দ্বিমত নেই।তবে একবার শুনে নিন এই খেলা টা আপনার শিশুর বিকাশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ……

১।শারীরিক চর্চা

শারীরিক চর্চা বা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ এর গুরুত্ব সকলেই জানেন।শিশুদের জন্যও তার কোনো বিকল্প নেই।শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি,মোটর এবং স্নায়ু পেশি গুলোকে সচল এবং সতেজ রাখতে প্রতিদিন ই খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক চর্চা করা উচিত।

২।বাইরের সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করা

শৈশবের একটি অন্যতম চিহ্ন হল এই আউটডোর গেমস,বড় হয়ে গেলে ছেলেরা তাও কিছু খেললেও মেয়ে শিশুদের সংখ্যা নেহাতই কমে যায়।আউটডোর এসকল খেলার মাধ্যমে বাইরের প্রকৃতির সৌন্দর্য তাদের পক্ষে উপভোগ করা সহজসাধ্য হয়।বাইরের আলো,বাতাস,ফুলের সৌরভ মনকে ফুরফুরে করে তোলে।

৩।বিশ্বজগত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি হওয়া

আউটডোর খেলা শিশুদের অনেক ছোট ছোট জিনিস শেখাতে সাহায্য করে।তার মধ্যে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও থাকে।বরফ ধরতে কেমন হয়?গাছেরা কিভাবে জন্মায়?কাদা ধরতে কেমন লাগে?লাফ দিয়ে কেন আমরা উপরে না পরে সবসময় নিচেই পরি?প্রজাপতিদের কি উড়তে শিখতে হয়?লাল রঙের ফুলের গন্ধ ভালো নাকি হলুদ রঙের?
এই জিনিসগুলো হয়ত বই পড়েও শেখা যেতে পারে;কিন্তু নিজে থেকে বাস্তবে প্রতিটি জিনিস দেখে দেখে শেখার চেয়ে আর মজার কি হতে পারে?বাইরে খেলার মাঠে শিশুরা গণিত,বিজ্ঞান,বাস্তুসংস্থান,বাগান,পঙক্তিবিদ্যা(ছড়া রচনা),চাষ,শব্দভান্ডার,ঋতু,দিনের বিভিন্ন সময় এবং সেই জায়গার আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে পারে।

৪।নিজের এবং পরিবেশ থেকে শেখা
নিজের শারীরিক মানসিক ক্ষমতা সম্পর্কে জানার জন্য খেলার মাঠ খুব ভালো একটি জায়গা।খেলার মাঠে একটি শিশু জানতে পারে সে কতদূর পর্যন্ত সাঁতার কাটতে পারবে?কত উচু থেকে লাফ দিতে পারবে?কতটুকু ওজন সে বহন করতে পারে?কত জোরে দৌড়াতে পারে?পুকুরে ঢিল ছুড়লে কি হয়?নরম মাটিতে পা কেন ডেবে যায়?প্রকৃতির ফুল,ফল,ঝোপের কাটা,পুকুরের মাছ,পশু পাখি সব কিভাবে আমাদের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে,সবার মধ্যে কেমন একটা আত্মিক যোগাযোগ এটা ধীরে ধীরে শিশু বুঝতে পারবে।

৫।সারপ্লাস এনার্জি থিওরি
সারপ্লাস এনার্জি থিওরি বলে যে খেলার মাধ্যমে শিশু তার শরীরের অতিরিক্ত সংরক্ষিত শক্তিটি বের করে দেয়।শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তাদের রাগ বা জেদ খুব বেশি।তারা রেগে গেলে যেন যে কোনো কিছুই করে ফেলতে পারে।গায়ে যেন অসুরের শক্তি চলে আসে।তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।এর কারণ এই যে শরীরে জমা হয়ে থাকা এই অতিরিক্ত এনার্জি।যা খরচ করবার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে মুক্তাঙ্গনে খেলাধুলা,দৌড়ঝাঁপ করা।যাতে শরীর ঘামায়।গবেষকরা মনে করেন যে এভাবে খেলাধুলার মাধ্যমে শক্তি ক্ষয়ের পর তারা আবার নবউদ্যমে একাডেমিক পড়াশোনায় ফেরত আসতে পারে এবং তখন তারা ভালোভাবে মনোযোগ ও দিতে পারে।

৭।স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যায়াম বা শারীরিক চর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এতে শরীর মন খুবই উৎফুল্ল থাকে।পরিবেশে বেড়ে ওঠা সংক্রামক রোগ ব্যাধির থেকে রক্ষা পাবার একটি উপায় হল প্রচুর এবং প্রচুর পরিমাণে তাজা হাওয়া শ্বাসের সাথে নেয়া।যেসকল শিশুরা টিভি বা কম্পিউটার গেমস এর প্রতি আসক্ত তাদের এই আসক্তির একটি ওষুধ ও এই প্রকৃতি।

৮।শিশুদেরকে শিশুদের মত থাকতে দেয়া
বিশাল জায়গা জুড়ে দৌড়ানো,লাফানো,গাছে ওঠা,মাটিতে ঝাপাঝাপ,চিৎকার,গান,লুকোচুরি,কানামাছি এইতো ছেলেবেলা।এইসব কি আর বদ্ধ ঘরে করা যায়?না করা উচিত?এসবের জন্য বরং মাঠ ই ভালো। খেলার মাঠ ই শিশুদের তাদের মত থাকতে দেয়।

৯।গঠনমূলক খেলা 
খেলার মাঠে শিশুরা মেতে ওঠে এক্কাদোক্কা,কানামাছি,দারিয়াবান্ধা,হাডুডু,বরফ পানি আরও সব মজার খেলায়।তবে গবেষণায় দেখা গেছে শিশুরা গঠনমূলক খেলা খেলতেই বেশি আগ্রহী।ধ্বংসাত্মক খেলাগুলো তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা।

১০।সামাজিকতা বৃদ্ধি
খেলার সময় শিশুদের সাথে অন্যান্য শিশুদের কথা হয়,তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।এভাবে নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়,সামাজিকতা বৃদ্ধি পায়।

১১।কল্পনাশক্তির বিকাশ
খেলার সময় শিশুরা বিভিন্ন জিনিস মিছেমিছি তৈরি করে,ধরে নেয় এতে করে তাদের কল্পনাশক্তিকেই শান দেয়া হয়।

১২।খেলার নিয়ম কানুন থেকে শিক্ষা
বিভিন্ন খেলার বিভিন্ন ধরনের নিয়ম কানুন থাকে।এসব নিয়ম কানুন মেনে খেলার মাধ্যমে শিশু ব্যক্তিজীবনে নিয়মানুবর্তী হয়ে ওঠে।

এক ডজন কারণ দেখার পর একটু কষ্ট তো করাই যায়।সন্তানের সামগ্রিক বিকাশের জন্য  তাই সন্তানকে নিয়ে খেলার মাঠে যেতে আর ব্যস্ততা নয়।আপনার সন্তান যেন ভবিষ্যতে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তার দায়ভার আপনার হাতেই।তাহলে আজ থেকেই রুটিন করে ফেলুন সন্তানের খেলার জন্য।

রেফারেন্স- http://www.communityplaythings.com/resources/articles/2010/outdoor-play

93 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment