Show Categories

কাঁচামরিচ লাইব্রেরি এবং অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সের গল্প

 

আজ আমরা বলবো এক অদ্ভুত কাঁচামরিচের কথা। এই কাঁচামরিচ ভর্তা করে খাওয়া যায় না, তরকারিতেও দেয়া হয় না। কাঁচাবাজারে গিয়ে কেজি দরে কিনে আনাও সম্ভব না।

বলছি কাঁচামরিচ লাইব্রেরির কথা। এমন অদ্ভুত নামের কোনো লাইব্রেরি বাংলাদেশে আছে বলে আমাদের জানা নেই। আপনারা কি জানেন? নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে এই অদ্ভুত নামের কারণ কী? চলুন জেনে নেই কাঁচামরিচ লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ফকির এনামুলের কাছ থেকেই। এত বড় নামটা মনে রাখতে কষ্ট হলে তাকে এনাম বলেই ডাকতে পারেন, উনি মাইন্ড করবেন না।

ওহ দাঁড়ান, মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে পেছনের কাহিনীটাও অল্প একটু জেনে নেই। এনাম কাজ করতেন একটি লাইব্রেরিতে। কাজ করতে গিয়ে তার মনে হলো, নিজের একটি লাইব্রেরি থাকলে কেমন হয়? থরে থরে সাজানো আছে বই, ছাত্র-ছাত্রীরা আসছে, অভিভাবকেরা আসছেন, কেউ আসছেন প্রিয়জনের জন্যে উপহার নিতে, ভাবতেই কী যে ভালো লাগে!

একটা সময় এনাম নিজেকে প্রস্তুত করলেন লাইব্রেরি দেয়ার জন্যে। এখন চাই একটা নাম। নাম নিয়ে তিনি অনেক ভাবলেন। এমন একটা নাম হওয়া চাই, মানুষকে আকৃষ্ট করবে, আবার গভীর একটা অর্থও থাকবে।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হলো “কাঁচামরিচ” নামটিই। আর দেরি না করে কাহিনীটা বলেই ফেলি! একদিন কাঁচাবাজারে গিয়ে এনাম একটা খুব সাধারণ, কিন্তু মজার বিষয় লক্ষ্য করলেন। যে যাই কিনুক না কেন, সাথে কাঁচামরিচ থাকছেই। কাঁচামরিচ ছাড়া কারো চলবে না। এনাম তখন ভাবলেন, তিনি তো বই নিয়ে এমন স্বপ্নই দেখেন! বই যেন সবার কাছে থাকে, কাঁচামরিচের মতই! এই হলো কাঁচামরিচ নামকরণের রহস্য।

খিলগাওঁয়ের শাহজাহানপুরে গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কাঁচামরিচ লাইব্রেরি চিনিয়ে দেবে। প্রথম প্রথম অনেকেই এই অদ্ভুত নামকে বাঁকা চোখে দেখতো, বিদ্রুপ করতো। কিন্তু এনাম নামকরণের সার্থকতা ঠিকই প্রমাণ করতে পেরেছেন। সবাই কাঁচামরিচ লাইব্রেরির নাম জানছে, বই কিনছে, বিজ্ঞানবাক্স নিতে আসছে আগ্রহী শিশুরা।
এই বৈশাখে এনাম আয়োজন করেছিলেন একটি মেলার। সেখানে ছিলো নানা আয়োজন, যেমন চিত্রাঙ্কন, বইপাঠ ইত্যাদি। আমরাও ছিলাম তার সাথে এই আয়োজনে।

আর কদিন পরেই লাইব্রেরির বর্ষপূর্তি হবে। এনামকে আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম বর্ষপূর্তিতে তিনি কী আয়োজন করবেন। এখনও নিশ্চিত উত্তর পাই নি। এনাম ভাবছেন। তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। গভীর ভাবনা ছাড়া তিনি কোনো বড় কাজে হাত দেন না। ভাবনার সুফল তিনি ইতিমধ্যেই পেয়েছেন, আশা করি ভবিষ্যতেও পাবেন।

বিজ্ঞানবাক্সের জন্যে এনামের অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করে। ব্যতিক্রমী ভাবনার মানুষের কাছে ব্যতিক্রম কোনো কিছু তো ভালো লাগবেই! উৎসাহী শিশুরা বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করছে, সেগুলো নিয়ে ভাবছে, হয়তো বা তারা ভবিষ্যতে বড় কিছু আবিষ্কার করে ফেলবে ভাবলেই তো মন ভালো হয়ে যায়!

এনাম, আপনাকে আমাদের সাথে এই শুভযাত্রায় পেয়ে আমরা আনন্দিত। শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে অনেক!

আরো পড়তে পারেন-  ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি বুকমার্টের গল্প  

বিজ্ঞানবাক্স সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্নে ফোন করুন 01847103102 নাম্বারে।

109 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment