Show Categories

স্কুলে ভর্তির আগে বাচ্চাদের কীভাবে পড়াবেন? প্রি-স্কুল কারিকুলাম টিপস -৩য় পর্ব

স্কুলে ভর্তির আগে বাচ্চাদের কীভাবে পড়াবেন? প্রি-স্কুল কারিকুলাম টিপস ১ম পর্ব

স্কুলে ভর্তির আগে বাচ্চাদের কীভাবে পড়াবেন? প্রি-স্কুল কারিকুলাম টিপস ২য় পর্ব

কাজের পুনরাবৃত্তি ও মূল্যায়ন

প্রি-স্কুল কারিকুলামের মধ্যে থেকে শিশুরা যে কাজগুলো করছে সেগুলো যেন তারা বারবার করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে তাদের মাঝে কাজটি করার উদ্দেশ্য বা (Motive) বুঝতে সহজ হবে। পরবর্তীতে তাদের কাজগুলোকে  তাদের দ্বারাই মূল্যায়ন করার জন্য ছেড়ে দিতে হবে। বস্তুত, এটি এমন একটি মজার মাইন্ড-গেমস যা তাদের “কাজের উন্নয়নের প্রাণ” বলে অভিহিত করা হয়। কাজের পুনরাবৃত্তি ও মূল্যায়ন হল  কাজের পুনরাবৃত্তির এ বিষয়টি স্বল্প-মেয়াদের প্ল্যানিং এর অন্তর্ভুক্ত।

এই সেটিংস-এ শিশুদের সাথে যে বড়রা কাজ করবেন তাদের কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। সেগুলো হলো-

  • এই সেটিংস এ কাজ করার ফলে শিশুদের মাঝে আত্ম-বিশ্বাস ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
  • প্রতিটি শিশু আলাদা আলাদা করে কতটা কাজগুলো ধরতে পারছে আবার আরা পারছে না তাদের একই কাজে খুব বেশি সময় না রেখে আরেকটি কাজে স্থানান্তরিত করা।
  • তাদের খেলা বা কাজের জন্য যে জিনিসগুলো দেয়া হচ্ছে তা তাদের প্রত্যেককে কীভাবে উপকৃত করছে।
  • পুনরাবৃত্তি শিশুদের জন্য যেন বিরক্তির কারণ না হয়ে দাড়ায় সেজন্যে প্রতিটি কাজ কিভাবে আরও মজা করে করা যায় এ নিয়ে সবসময়েই ভেবে উপায় বের করতে হবে।
  • শহুরে পরিবেশে স্থান সংকট সবচেয়ে পরিচিত একটি সমস্যার নাম। তাই, এই সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে অভিভাবকদের বা প্রি-স্কুলিং সেটিংস নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানদের পূর্বেই একটি সঠিক পরিকল্পনা করে নিতে হবে।

যারা প্রি-স্কুল পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবেন

“প্রি-স্কুল কারিকুলাম গাইডেন্স” পদ্ধতিটি নিয়ে যারা কাজ করবেন অর্থাৎ অভিভাবক গন অথবা কোন প্রতিষ্ঠান, তাদের এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে হিসেব করলে পুরো বিষয়টি অনেক জটিল কিন্তু আমাদের কারিকুলাম গাইডেন্স অনুযায়ী ধাপে ধাপে কাজ করলে যেকোনো সমস্যাই সম্ভাবনায় পরিণত হবে।

এ পদ্ধতিতে বড়দের সাথে শিশুদের কাজের ক্ষেত্রে এমন একটি পরিবেশের চিত্র আঁকা হয়েছে যেখানে আছে দু’পক্ষের মাঝে পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাস। এটিই বলা যায় প্রি-স্কুল কারিকুলাম পদ্ধতির ভীত। কারণ, কোনরকম মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে কাজ আদায় করা যেন অভিভাবক বা বড়দের উদ্দেশ্য না হয়। এতে তারা কাজের উদ্দেশ্য(motive) বুঝতে ব্যর্থ হবে এবং তারাও কাজটি দ্রুত করার জন্য সহজ পদ্ধতি খুঁজবে। এখানে অভিভাবক গন শিশুদের কাজের ক্ষেত্রে যেরকম ভূমিকা রাখতে পারেন,

  • তাদের খেলা বা কাজের সময় এমনভাবে মেশা যেন তারা না বুঝতে পারে যে আপনি তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন।
  • খেলাধুলার সময় তাদের সাথে তাদেরই একজন হয়ে অংশগ্রহণ করা।
  • আপনি কাজে অনেক ব্যস্ত থাকলেও মাঝে মাঝে তাদের খেলায় তাদের মত করে কোন মন্তব্য করা।
  • তারা তাদের খেলায় আপনাকে আমন্ত্রণ জানালে, এতে আপনি খুব খুশি হয়েছেন এরকম ভাব দেখানো।
  • খেলায়/কাজে যদি শিশুরা নিজে থেকেই উপদেশ বা পরামর্শ চায় তাহলে তাতে অবহেলা না করা।
  • কারিকুলামের কোন কাজ বা খেলা যদি শিশুদের জন্য অসম্পূর্ণ বা উপযুক্ত মনে না হয় তাহলে তা পরিবর্তন করা।
  • কোন নির্দিষ্ট কাজে যদি শিশুরা কৌতূহল হাড়িয়ে ফেলে তাহলে তার কারণ বের করা। প্রয়োজনে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করা।
  • যদি শিশুরা সক্রিয়ভাবে অর্থাৎ নিজে থেকেই কারিকুলামের খেলায়/কাজে অংশ না নেয়।
  • একই কাজ একটি শিশুর জন্য খুব সহজ আবার আরকটি শিশুর জন্যে কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ শিশু যেন কাজ/খেলা করতে গিয়ে কোন বিপদে না পরে সেদিকটির প্রতি খেয়াল রাখা।

প্রি-স্কুলিং পদ্ধতিতে শিক্ষার পরিবেশ

এ পদ্ধতিতে শিশুদের শিক্ষাদানের সময় তাদের আদর্শ শিক্ষার পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রাখা আবশ্যক। ধরুন আপনি একটি ইনকিউবেটর কিনলেন, শেখানে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর উদ্দেশ্যে।  পুরো বিষয়টি মেশিন করলেও বর্তমান আবহাওয়া ইত্যাদি অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে মেশিনের তাপমাত্রা, ভেতরের সেটিংস পরিবর্তনের সময় ইত্যাদি কিন্তু নির্ভর করছে আপনার উপরেই। না হলে ইনকিউবেটর আপনার প্রত্যাশিত হারে ডিম ফুটাবে না। ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের এই প্রি-স্কুলিং কারিকুলাম সেটিংস-এ আমরা যেভাবে বিভিন্ন তত্ব-উপাত্ত দিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করছি এর সঠিকভাবে কার্যকারিতার চাবিকাঠি আপনারই হাতে। কারণ স্থান-কাল ভেদে একেক শিশু একেক রকম আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যে কখন কোন বিষয়টি আপনার শিশুর তাৎক্ষনিক কারিকুলামের সাথে মানানসই। আর এই পুরো বিষয়টিই হল এক কথায় “প্রি-স্কুলিং কারিকুলামের শিক্ষার আদর্শ পরিবেশ”।

স্থান বা জায়গা

বর্তমান বাংলাদেশের বর্ধিত জনসংখ্যার সময়ে স্থান সংকট বিশেষ করে শহুরে জীবনের জন্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। শহুরে জীবনের বাহিরের শিশুরা যদিও তাদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পায় কিন্তু শহুরে শিশুদের জন্য নিজ গৃহ ছাড়া বাহিরে খেলার কোন সুযোগ নেই বললেই চলে। নির্ধারিত কিছু এরিয়া যেমন বিভিন্ন আবাসিক সোসাইটি অথবা ক্যান্টনমেন্ট গুলোতে খেলার মাঠ থাকলেও তা সেখানে বসবাসকারী বাদে অন্য কারও প্রবেশাধিকার নেই। আবার শিশুকে নিয়ে প্রতিদিন বা প্রায়ই কোন থিম-পার্কে অথবা কিডস-জোন আছে এমন রেস্টুরেন্টে যাওয়া সামর্থ্য থাকলেও সময়ের অভাবে সম্ভব নয়। যার ফলে আজকের শহুরে শিশুদের খেলার মাঠের জায়গায় ঘরের টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটার গেম দখল করে নিয়েছে।

কিন্তু প্রি-স্কুল কারিকুলামে স্থান অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। তবে উন্নত বিশ্বের স্থান সংকটের  অনেক গবেষণার উপর ভিত্তি করে আমাদের দেশের জন্য একটি সম্ভাব্য সমাধান বের করা হয়েছে যা শেষ পর্বে দ্রষ্টব্য।

বাকি অংশ পরবর্তী পর্বে দেখুন।

তথ্যসূত্র:

  1. এডুকেশন ইন ইংল্যান্ড – দি হিস্ট্রি অফ আওয়ার স্কুল
  2. প্রি-স্কুলিং
  3. প্রি-স্কুল কারিকুলাম কনস্যুমার রিপোর্ট
  4. আর্লি ইয়ারস ফাউন্ডেশন স্টেজ স্ট্যাচুটোরি ফ্রেম-ওয়ার্ক
  5. নার্সারি কারিকুলাম – লীন প্রাইমারি স্কুল
  6. কারিকুলাম – গ্লেনব্রুক নার্সারি স্কুল
  7. প্রি-স্কুল কারিকুলাম
  8. আর্লি চাইল্ড হুড রিসার্চ এন্ড প্র্যাক্টিস
  9. বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

703 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment