Show Categories

স্কুলে ভর্তির আগে বাচ্চাদের কীভাবে পড়াবেন? প্রি-স্কুল কারিকুলাম টিপস ১ম পর্ব

[emaillocker]

আপনার যে সন্তানটির এখনও স্কুলে দেয়ার বয়স হয় নি, তাকেও কিন্তু আপনি প্রি-স্কুল পদ্ধতিতে অনেক কিছুই শেখাতে পারেন! এতে করে তার খেলতে খেলতে শেখাও হবে, আর স্কুলে ভর্তি হবার পর তার কান্না পাবে না। আপনাকেও টেনশনে থাকতে হবে না তাকে নিয়ে।

প্রি-স্কুল কী?

প্রি-স্কুলে এমন কিছু  শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম থাকে, যাতে  শিশুরা খেলতে খেলতে অথবা খেলার মত অনেক কাজের মাধ্যমে শিখে থাকে। মনে রাখতে হবে যে, এখানে আমরা “প্রি-স্কুল” কথাটি ব্যবহার করেছি শিশুদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের বয়সটিকে উদ্দেশ্য করে। তার মানে যে বয়সে শিশুরা ডে-কেয়ার, নার্সারি স্কুল বা নার্সারির সমমান কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোন কম্যুনিটি প্লে-গ্রুপ বা প্লে স্কুল ইত্যাদি স্কুল গুলোতে ভর্তি হয়, সে বয়সটিই হচ্ছে প্রি-স্কুল-এইজ বা বয়স।

এখানে “কারিকুলাম” শব্দটি ব্যাবহার করা হয়েছে এমন সব সু-পরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়ে, যেগুলো একটি শিশুর প্রি-স্কুল বয়সের শিক্ষার জন্য উপযুক্ত। এই প্রি-স্কুল কারিকুলামে থাকা নানা বিষয়ের গাইডেন্স গুলো মেনে চলতে পারলে আপনার শিশুর ভেতর অভিজ্ঞতা ছাড়াও আরও যে কয়েকটি গুনের তৈরি হবে,

  • আত্ম প্রত্যয়ী হয়ে গড়ে ওঠা।
  • কাজে মনোযোগ বা ফোকাস বৃদ্ধি পাওয়া(focus)।
  • নতুন কিছু শেখার স্বাভাবিক আগ্রহ বৃদ্ধি।
  • ধৈর্য্য বৃদ্ধি।
  • বাধ্যতামূলক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া।

প্রি-স্কুল বয়সের শিশুরা

শিশুদের যখন প্রি-স্কুলের বয়সের শুরু হয় তখন তারা খেলাধুলা ইত্যাদি নানারকম কাজের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলি পূরণ করতে থাকে। শিশুদের শেখার এই সময়টিকে আরও যথাযথ করতে তাদের বাসায় বা বাহিরে খেলাধুলা বা অন্যান্য সময়ে নানামুখী ইতিবাচক সব কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রাখা উচিৎ। তবে এককভাবে চিন্তা করলে এ বিষয়টি অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং কঠিন। কিন্তু আমরা তো সামাজিক জীব অর্থাৎ সবাই মিলে যদি কাজগুলো ভাগ করে করা যায় বা এর দায়িত্ব নেয়া যায় তাহলে একটি শিশুর প্রি-স্কুল বয়সটি হতে পারে একই সাথে অনেক আনন্দের ও শিক্ষামুলক।

তবে অভিভাবকেরা, বা যেসব প্রতিষ্ঠান প্রি-স্কুল-এইজ শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে তাদের খুব করে একটি বিষয় মনে রাখা বাধ্যতামূলক। সেটি হল, শিশুদের এই বয়সটি হচ্ছে নিছক খেলার বয়স, এ বয়সে তাদের মাঝে কোন শিক্ষামুলক কিছু প্রবেশের মানেই হচ্ছে তা হতে হবে খেলার ছলে। কোন রকম বাধ্য বাধকতার বা কড়া নিয়মের বেড়াজালে নয়। অর্থাৎ এখানে গদ-বাধা স্কুলের নিয়মকানুন বা ফর্মাল-স্কুলিং এর কোন স্থান নেই।

প্রি-স্কুল বয়সী শিশুর বৈশিষ্ট্য

স্বাভাবিকভাবেই প্রি-স্কুল বয়সের বেশিরভাগ বাচ্চারাই হয় অনেক চঞ্চল, নতুন কিছু করতে আগ্রহী এবং অনেক উদ্যমী স্বভাবের। এছাড়া তাদের ভেতর যে বৈশিষ্ট্য গুলো থাকতে পারে:

  • তারা নিজেদের এবং তাদের আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আগ্রহী থাকে। তারা সর্বদা নতুন কিছু সম্পর্কে জানা, নতুন কিছু খুঁজে বের করা এবং সেসব নিয়ে মজা করার মেজাজে (mood) থাকে। প্রাকৃতিক ভাবেই তাদের মধ্যে থাকে কৌতূহল এবং অবাক ও আনন্দ পাওয়ার মত অসীম অনুভূতি। (Sense of wonder and amazement)
  • তারা বড়দের সাথে এবং সম বয়সীদের সাথে সম্পর্ক গড়তে পছন্দ করে। এ বয়সে তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস, আত্ম সন্মান এবং আত্ম নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।
  • এ বয়সের শিশুরা প্রায়ই দলবেঁধে বা অনেকের সাথে খেলতে বা কাজ করতে পছন্দ করে এবং এর মাঝে দেখা যায় একজন নেতৃত্বের দায়িত্বটুকু নেয়। তবে তাদের একা একাও খেলতে দেখা যায়।
  • এ সময় তাদের মাঝে একাগ্রতা(concentration) এবং কিছু সংখ্যক দক্ষতার নতুন নতুন মাত্রা তৈরি হয়। যেমন, পর্যবেক্ষণ করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কিছু তৈরি হয় বড়দের গাইডেন্সের জন্য আর কিছু তৈরি হয় নিজে থেকেই।
  • তারা গল্প, কবিতা, গান, মিউজিক এসব খুব পছন্দ করে।
  • শারীরিক পরিশ্রম হয়, এরকম খেলা খেলতে পছন্দ করে এবং শারীরিক ভাবে তারা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।

প্রি-স্কুল বয়সী শিশুর কিছু আবশ্যিক প্রয়োজনীয় বিষয়:

  • একটি নিরাপদ এবং হাসিখুশিপুর্ন পরিবেশ (ঘরে এবং বাহিরে) যেখানে তারা আনন্দে এবং ভয়হীনভাবে থাকবে।
  • ঘরে এবং বাহিরে, তাদের কৌতূহল মেটানোর মত পর্যাপ্ত সুযোগ। আর এর ফলে তাদের মাঝে কাজে সফল হওয়া, যেকোনো বিষয় থেকে ইতিবাচক শিক্ষাটি গ্রহণ করা বা সেন্স অব ওনডার(sense of wonder) বৃদ্ধি পাবে।
  • এবং এসমস্ত বিষয় গুলো মানে শিক্ষার বিষয়গুলো অবশ্যই খেলার ছলে হতে হবে। কোন প্রকার বাধ্য বাধকতা বা একঘেয়ে নিয়মনীতির মাধ্যমে নয়।
  • যেহেতু এ বয়সী শিশুরা বড়দের সাথেও সময় কাটাতে পছন্দ করে তাই শিশুদের সাথে সহজে মিশতে পারে এবং শিক্ষিত, এমন লোকদের সাথে তাদের সময় কাটানো টা জরুরী।

এবং প্রি-স্কুল বয়সী শিশুদের এসব আবশ্যিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের কারিকুলাম হতে পারে,

  • তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সমূহ প্রদান করা।
  • তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগয় ও সৃজনশীল উন্নতির জন্য সুযোগ তৈরি করা।
  • লক্ষ্য রাখতে হবে তাদের কাজগুলো যেন হয় পরিকল্পনাহীন ও উদ্দেশ্যহীন না হয় আবার তারা যেন এসব নিজে থেকে, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই করে থাকে
  • কারিকুলামের কাজগুলো করে তারা আনন্দ পাবে, অনুপ্রাণিত হবে যাতে করে তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দটি বেছে নিতে পারে এবং চলার পথকে আরও উন্নত করতে পারে।
  • এ কারিকুলাম শিশুদের ভেতর যথাসময়ে কাজ শেষ করার প্রেরণা তৈরি করবে। তাদের মাঝে এমন এক দক্ষতার স্বভাব তৈরি করবে যা তাদের লাইফ-লং-লার্নাস এ রূপান্তর করবে।
  • প্রি স্কুল বয়সী শিশুদের কারিকুলাম হতে হবে উদার ও সংগতিপূর্ণ। এটি তৈরি হবে শিশুর পিছনের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে যাতে করে সে নিজ থেকে সিদ্ধান্তে আসতে পারে।
  • এবং এজন্যে এই কারিকুলামে শিশুদের মাঝে এমন কিছু কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বলা হয়েছে যেগুলো তারা খেলার ছলে ও আরও অনেক রকম মজার মজার কাজের মাধ্যমে শিখবে। সেগুলি হচ্ছে:
  • আর্টস
  • ভাষা উন্নয়ন
  • শিশুতোষ গাণিতিক অভিজ্ঞতা
  • ব্যক্তিগত, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ
  • শারীরিক উন্নয়ন এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমুহ
  • আমাদের চারপাশের পৃথিবীকে বোঝা

পরবর্তী পর্বের জন্যে আমাদের ব্লগে চোখ রাখুন।

আরো পড়তে পারেন- আপনার সন্তান অহেতুক ভয় পেলে কী করবেন?

তথ্য সূত্রঃ

১. Curricular guidance for pre-school education

২. Choosing ChildCare and early Education

৩. Curricular Guidance for pre-school

৪. Curricular guidance for pre-school education

৫. The Nursery Pre-School Curriculam

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স আপনার সন্তানের অবসর সময় সুন্দর করবে, এবং তার মেধা বিকাশে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

[/emaillocker]

 

456 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment