Show Categories

Bullying বা হয়রানি আপনার শিশুর কতটা ক্ষতি করছে? জেনে নিন এবং সতর্ক হোন! (১ম পর্ব)

বুলিং (Bullying) ছোট এই শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক বঞ্চনা আর কষ্টের ইতিহাস। সাধারণত বুলিং বলতে শারীরিক বা মানসিক ভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করাকে বোঝায়। বুলিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। একটি শিশুর আনন্দময় শৈশব নিরানন্দে পরিণত হতে পারে একমাত্র বুলিংয়ের কারণে। শুধুমাত্র ছোটরাই নয়, এখন সব বয়সের মানুষই বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।
আপনি কি জানেন আপনার অজান্তেই হয়তো বাচ্চা হয়ে উঠছে বুলিংকারী? আর এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হবে তা কি ভেবে দেখেছেন কখনো? আর আপনাদের সচেতন করতেই আজকের এই লেখা।

আসুন বুলিং, এর প্রকারভেদ, বিভিন্ন প্রভাব এবং করণীয় বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন।
বুলিং (Bullying)

বুলিং (Bullying) বলতে আমরা এক প্রকার হয়রানি করাকেই বুঝি। বুলিং হলো এক ধরনের মৌখিক, মানসিক বা শারীরিক-ভাবে পীড়ন করা। কাউকে মানসিকভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তাকে বারবার বিভিন্নভাবে হয়রানী করাই বুলিং। এবং তা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমনঃ

১। শারীরিকভাবে-বুলিং                                                                                                                 কাউকে বিনা কারণে ধাক্কা দেওয়া, গায়ে হাত তোলা, ফেলে দেওয়া, খোঁচা দেওয়া ইত্যাদি।

২। মৌখিকভাবে-বুলিং
কাউকে অপমান করা, খারাপ কথা বলা, হুমকি দেওয়া, আক্রমণাত্মক ভাবে কথা বলা, অযথা ভয় দেখানো, কটাক্ষ করা, ভেংচি কাটা ইত্যাদি।

৩। মানসিকভাবে-বুলিং
কাউকে মানসিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, সবার সামনে ছোট করা ইত্যাদি।

৪। আবেগীয়-বুলিং
এক্ষেত্রে শিশুকে নিয়ন্ত্রনের জন্য কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া, সহপাঠীদের সাথে মিশতে না দেওয়া ইত্যাদি।

৫। সাইবার-বুলিং
ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হেয়-প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি।

৬। জাতিগত-বুলিং
কাউকে তার আর্থ-সামাজিক অবস্থান, বর্ণ, বংশ, ধর্ম নিয়ে অপমান করা বা ছোট করা।

৭। সেক্সুয়াল-বুলিং
কাউকে অশ্লীল-কথা বলা, অপ্রত্যাশিতভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করা, কুরুচিপূর্ণ হুমকি বা ম্যাসেজ দেওয়া ইত্যাদি।

বুলিংয়ের প্রভাব

শিশুদের উপর বুলিংয়ের প্রভাব মারাত্মক। একটি শিশুর সহজাত মানসিক বিকাশে বুলিং (Bullying) ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যেমনঃ

১। সহজাত মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সে নিজেকে মেলে ধরতে পারে না, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে না।            ২। হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এবং নিজেকে অযোগ্য ভেবে মনে মনে কষ্ট পায়।
৩। সামাজিক হতে পারে না, সহজে কারো সাথে মিশতে পারে না। সে অসামাজিক হয়ে গড়ে উঠে।
৪। শিশু ভীরু মনের হয়ে পড়ে। সে স্কুলে যেতে বা বাইরের মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়।
৫। শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেক সময় সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের স্বীকার হয়।যার প্রভাব সারাজীবন ব্যাপী থাকে।
৬। অনেকসময় সামাজিক ও আর্থিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেলিং ও কিডন্যাপের ঘটনাও ঘটে থাকে। মূলত সাইবার ক্রাইমের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বেশী ঘটে থাকে।
৭। জাতিগত বিদ্বেষ তৈরি হয়। অন্যের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়। যে বুলিংয়ের ভিকটিম সে যেমন ক্ষতির শিকার হয়, তেমনি যে/যারা বুলিং করে তাদের মধ্যেও নেতিবাচক মানসিকতা বৃদ্ধি পায়।

স্কুল-বুলিংয়ের (School Bullying) অপছায়া দূর হয়ে শিশুর স্কুল আনন্দময় হোক!

আপনার শিশু যখন বুলিংকারী! কি করবেন তখন? জেনে নিন করনীয় বিষয়ঃ
১। বুলিং-মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলুন

আমরা বড়রাও অনেক সময় বুলিং (Bullying) করে থাকি, যা একেবারেই ঠিক নয়। হয়তো আপনি বাচ্চার সামনে আপনার সাহায্যকারী মেয়েটিকে কোন বিষয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে থাকেন। তবে দেখবেন বাচ্চাটাও সেটা দেখে শিখে নিবে এবং সে ধরে নিবে দুর্বল যে কাউকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাই যেতে পারে। সুতরাং শুরুটা হোক নিজের ঘর থেকেই, আপনি আপনার বাসার পরিবেশকে বুলিং মুক্ত করুন।

২। সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করুন

বিভিন্ন সহিংসতামুখী সিনেমা, সিরিয়াল, মারামারি সম্বলিত ভিডিও গেমস কিংবা বন্দুক জাতীয় খেলনা যেন শিশুর বিনোদনের মাধ্যম না হয়। এগুলো তার নাগালের বাইরে রাখুন। তাকে শিক্ষণীয় খেলনা সামগ্রী ও শিক্ষামূলক শিশুতোষ মুভি, নীতিকথা মূলক গল্পের বই ইত্যাদিতে অভ্যস্ত করুন। তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যান, বিভিন্ন পেশার, সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেশার সুযোগ দিন।

সন্তানের জন্য নির্বাচন করুন সঠিক খেলনা

৩। বুলিং সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন

সন্তানকে বুলিং (Bullying) সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। গল্পের-ছলে বুলিংয়ের কুফলগুলো তুলে ধরুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, কাউকে হেয় করে বা ছোট করে কখনোই বড় হওয়া যায় না। আর সে যদি কখনো কাউকে বুলিং করে থাকে, তবে যেন অতিশীঘ্র তা ত্যাগ করে। এবং ক্ষমা চেয়ে নেয়।আর নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে কেউ কখনোই ছোট হয় না বরং তার মহৎ মনের পরিচয় পাওয়া যায়।

৪। শিশুকে সামাজিকতা শেখান

আপনার সন্তানকে মানুষের সাথে সহজভাবে মিশতে দিন। ছোট-বড় সবাইকে সম্মান করতে শেখান। কোন মানুষই ছোট নয়, কাউকেই হেয় করা যাবে না এবং কারো মনেই কষ্ট দেয়া যাবে না। ছোটবেলা থেকেই তাকে মনুষ্যত্বের দীক্ষা দিন। এবং তাকে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্ব করার সুযোগ করে দিন।

শৈশব থেকেই শুরু হোক ভাল গুণাবলীর চর্চা!

বুলিং (Bullying) একটি সামাজিক ব্যাধি! আপনাদের সবার সচেতনতা আর কার্যকর পদক্ষেপই পারে সমাজ থেকে এ ব্যাধি নিরাময় করতে।

সাইবার-বুলিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পরের পর্বে চোখ রাখুন।  

164 total views, 1 views today

What People Are Saying

Facebook Comment